গর্ভসঞ্চার
একান্তে কিছু সময় পেলে
নক্ষত্রের পিঠে চেপে গ্রহাভিযানে যাই।
কাছাকাছি আসতেই
অসুখে কালো হয়ে যায়
জল বাতাস স্পন্দনহীন গ্রহপৃষ্ঠের মুখ
ঠিক তখনই
বাসভূমির আবদ্ধ পরিসরে
সূর্য তাপসী হয় সোজাসাপ্টা গাছ
আতিথেয়তার প্রগলভে প্রসারিত গর্ভসঞ্চার
অসহ্য প্রসব বেদনাতেও সবুজ হয়ে হাসতে থাকে।
শেষ পর্যন্ত
শেষ টা না এলে
শুরুটাই হয় না।
এভাবেই শুধুমাত্র শেষটা
ছুঁতে পারিনি বলে
শুরুর শ্রম পন্ড হয়েছে কতবার।
যেভাবে তোমাকে ছুঁয়েছি পাতায় পাতায়
ফেনিল উচ্ছ্বাসের ঝুঁটি একহাতের মুঠোয় ধরে
পেরিয়েছি উত্তাল নদী -সাগরের সঙ্গম..
সেভাবেই শীতের শিশিরে ভিজে
জেগে থাকে বিনিদ্র রাত
পাওয়া -নাপাওয়ার যাবতীয় অঙ্ক
আর শেষ প্রহরের হিসাব নিকাশ।
সৌভাগ্য
তোমার ছবির দিকে তাকালে
এক তিরবেঁধা আপশোশ ছটফট করে।
বড় নিজের করে তোমাকে পেতে চায় মন
আর অন্ধকার রাতের কামনা জোনাকি হয়ে যায়।
সকাল হলেই অনিবার্য নামতে থাকা
পরিত্যক্ত ছাদের ভাঙা সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে
একদম শেষে আগাছা মারানো উঠোনের পাশে
শ্যাওলার স্থাপত্য আর ফার্নের গন্ধে ভরা
উদোম কলঘরে মনে হয় -
ভাগ্যিস...তোমার সাথে কোনোদিন দেখা হয়নি।
ফুলের পাখি
চেনা অন্ধকার তরল থেকে কঠিন হলে
চার দেওয়ালে মাঝে ছড়িয়ে দাও রুম ফ্রেশনার
চিলেকোঠায় ফেলে আসা লাভ সাইনের বল
কাকের ঠোঁটে ঠুকরানো ভোরের আলো
সারেঙ্গি বাজানো হাতে সন্তুুরের ধ্বনিরমতো
বাড়িময় ভুলভাল দরজায় টোকা দিয়ে যায়।
এদিকে মরা নক্ষত্রের চামড়া খসে গেলে যেমন
সাজানো স্মারক ধুলো ঝেড়ে ডানা মেলে
খবরের বিজ্ঞাপনে তোমার চুল
ঝিঙে ফুলের গন্ধ নিয়ে এলে
পরদেশী পাখি মুছে ফেলে ডানার জলছবি।
দেখতে দেখতে ঠোঁটহীন পেয়ালায়
আমার চা একেবারেই জুড়িয়ে যায়।
ছবি : বিধান দেব
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন