অন্ধ জল
এই তো আলো আছে।
আমার বুকের কাছে।
আমাকে কতো ব'কেঝ'কে,
দেখেছি, মরে বাঁচে।
কোথায় তুমি মুক্তি পেলে?
সব জায়গায় পাঁচিল!
চাইলেও কেউ এগিয়ে বলবে,
মন দাও না গো, বাতিল!
পাঁচিল ওঠার কথাটা কি
খুব আষাঢ় মাসের গল্প?
আমার বাড়ির পাঁচিল ভেঙেছে
শীতকালে, এক অভব্য!
অসময়ে কেন গেট পড়ে যায়,
কে তার কারণ বলেছে?
এটা আজকের কথা নয়,
কোলকাতাতেই ঘটেছে।
মেয়েদের চলা অনেক ঝক্কি,
এই বাংলাও সাদা-সিধে নেই।
বাকিটা দেশের স্থলে, অঞ্চলে...
ছেলেরাও খুব স্বস্তিতে নেই।
তাব'লে, কি করে পাপুয়া ভাববো -
হয়তো ঘটেছে কারণেই!
যতোটা পুরনো, ততোটা নতুন,
আছি প্রাথমিক স্কুলেতেই।
আমার নিজের অরণ্য নেই,
কবিতাতে ধার করি।
মেয়েদের থেকে কি করে
এখন, অরণ্য চুরি করি!
শামুক কুড়োয় যে গতিহীনারা,
তারা জলে নামে নগ্ন হয়ে।
যে ছবি শুধুই গাছেরা দেখতো,
যাবে না তো সব উজাড় হয়ে?
লোভে উপশম বাড়ে না কমে?
ক্ষোভে কি সবাই প্রাসাদ গড়ে?
ঝিনুক খাচ্ছে, ফল যোগাচ্ছে,
কথামতো তবু শান্তি নড়ে।
ভাঁটাতে নামছে কাঠের নৌকা,
মাথা থেকে নামে কাজের ভার।
পূর্বপুরুষ, পূর্বনারীরা,
তোমাদের দেহ নগ্নতার!
গান ক'রে তাঁরা পুরুষ ফেরান,
বলেন এসো না, তফাতে যাও।
বুঝি, বিশ্বাস আরো অগভীর,
লজ্জা তো নয় প্রবেশাধিকার!
পোশাককে তারা ভেজায় না আর,
নগ্নতা আরো আলাপী করে।
সুখ, দুঃখের অধিকারবোধ
পোশাকই তাহলে চুরি করে?
আলাপী কারা, কোন অধিকার,
কাদের ভেতরে বাঁটোয়ারা হয়?
এই নিয়ম তো অনেক দিনের,
সেখানে তো কিছু মিথ্যে নয়!
তবে কেন কেউ লজ্জা পেয়েছে,
পাশাপাশি আর থাকে না?
হাজার দিনের হাজার কথারা
প্রেমে উষ্ণতা লেখে না?
আমিও জানি না, কেন রোজ রোজ
মনে ফোটে কিছু মৃতের খই!
তোমাকে বলছি, ও লজ্জাবতী,
এসো না, দুজনে মগ্ন হই!
বেলাভূমি, ২০১৫
আয়নাগুলো ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।
ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে আমার মুখ-ও।
দুই গালে অরণ্যটা বাড়ছে।
তার ভেতরে বাড়ছে অনেক দুঃখ।
অন্ধকারে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।
আলোয় এসে মুখ পুড়ে যায়...
তবে কি আমি আজন্ম এক ক্ষত?
হাড় ভেঙেছে কনুইয়ে, মজ্জায়...
এখন একটা ঠ্যাকান দিয়ে রয়েছি।
হাত ওঠে না, কাঁধেতে নেই জোর।
আঙুলগুলো একটু নাড়াই-চাড়াই।
আঙুলে লেগে শেভিং ক্রীমের ভোর।
ছবি : বিধান দেব
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন