পাথরের প্রাণ
শিশুদের কাটা মাথা দিয়ে সাজানো হয়েছে আমার ফুলদানি। নিষ্পাপ মুখগুলি পবিত্র যিশুর মত শান্ত ও সুন্দর। হাড় খুর নখ ও লোমের ছবি আঁকা টেবিলক্লথটি আদবকায়দায় পটু।বিনীত সম্ভাষণে অভিবাদন জানাচ্ছে বারবার। নির্জন পাহাড়চুড়োর দুর্গপ্রাসাদে বিষণ্ণ দৈত্যকুমার।অন্ধরাত্রির নখ থেকে রক্ত চেটে নেয় দুরন্ত শৃগাল।সাপের খোলস দিয়ে বানানো অর্ধস্বচ্ছ পোশাকে কামদীপ্ত নগ্নিকা নারী। তার দেহ নিঃসৃত চোখধাঁধানো আলো ঝলসে দিচ্ছে গাছের সবুজ, চোখের কোমল।এইখানে শুয়ে আছে দিনের শব, রাত্রির মাদকতা।সারারাত ব্যাপী উদযাপন। আজ লাম্পট্য,ব্যভিচার আর নিষ্ঠুরতায় মেতে উঠবে দুর্গের প্রতিটি ইট,কাঠ,পাথরের প্রাণ।
জল্লাদের সামগান
ধর্ষকের কালো রক্তের ভেতর একটা মাছি ছটফট করে।দোনলা-বন্দুক আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে মিশে যাচ্ছে আগ্নেয়গিরির গহ্বরে। খুলি ফাটার শব্দে পুলকিত হচ্ছে মন।খুশিতে আত্মহারা চিতাকাঠের ধকধকে আগুন।আদিম প্রবৃত্তিগুলির সামগান ধ্বনিত হচ্ছে দরগায়,গীর্জায়,প্রাচীন মন্দিরে।এমত পবিত্র সময়ে একটি সাদাবক সকল সুস্থ ও সুখের পতাকা হয়ে ঢুকে পড়েছে গর্ভগৃহে।যেখানে সদ্য কয়েকটি নারী ও শিশুকে নির্মমভাবে খুন করে পরমান্ন দিয়ে আহার সারছিল কয়েকটি জল্লাদ।দুটি সূত্র উঠে আসে এই দৃশ্যটিতে : রক্ত মদ সহযোগে সাদাবকটি বসেছে আহারে।সাদাবকটিকে জবাই করে শুধরে নেওয়া হচ্ছে পৃথিবীর সকল তামাদি পাপ।
ছবি : বিধান দেব
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন