মেরুযাত্রীর ডায়েরি
আমার আসনে এসে বসি। একটি ডিম্ব প্রসব করার এই তাগিদ লেখা আছে প্রাচীন পুঁথিতে।
সমগ্র শিল্পের সার,জগৎসংসার আর দুর্বোধ্যসব অনুভূতিমালা অগম্য মানুষের ছায়া ফেলে
যাবে প্রতিবিম্ব এই ডিম্বে।
জলের অতল হতে চলে গেছে পথ। সেই সুড়ঙ্গের অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে পৌঁছে যাও
মহাজাগতিক দ্বীপ। প্রদীপ হাতে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর পড়োশিনির এক মেয়ে।
মূর্ছা ঘোর।ম্রিয়মাণ চেতনার পরিসর। বারুদের স্তুপে কোনোখানে আগুন লাগে।সুতীব্র
বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পাড়া।
থম মেরে আছে জনপদ।বৃষ্টি নামে পাহাড়ের ঢালে।সময় এখানে শূন্য হয়ে আসে।মেঘ
রোদ্দুরের মায়াখেলা প্রবল জ্বরের ঘোরে কাঁপা-কাঁপা হাতে লিখে রাখে দুস্থ কারিগর।
২.
পৃথিবীর বাইরে মহাশূন্যের এক গোপন সেন্টার থেকে তরঙ্গ পাঠাই।তরঙ্গ পাঠাই আর
থম মেরে থাকি কিছুকাল। লক্ষ করি পৃথিবীতে তার ক্রিয়া,প্রতিক্রিয়া। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
গুলো টুকে রাখি অবলুপ্ত স্বরে।
চেনা ছবির বিরুদ্ধ কোনো ছবি কাটাকুটি খেলে ছাল উঠে যাওয়া শীতল আয়নায়।
দর্পণে শরৎশশীর মুখভার হলে অশ্রু নেমে আসে।নিবেদনে তাকে সিক্ত করে তোলে।
মেলে ধরা ডানাগুলি ভাঁজ করে রেখে দেয় বাক্সের ভিতর। এইসব অকারণ ওড়াউড়ি
কৌতুকের বিষয়। কখনো বা স্পর্ধার সীমানা পার করে পাড়ি দেয় সৌরলতার দিকে।
ঘন শ্বাস ক্ষীণ হয়ে এলে জাদুকর,তার মাদারির খেল।চমকে চমকে স্বর্ণকুচি আলোর
আসন্ন তুবড়ি থেকে ঝরে। নীল হয়ে যায় চরাচর। কতিপয় গান মনে পড়ে।নিঃস্ব,একা
হৃদয়বিদারক।
ছবি: বিধান দেব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন