রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০

সম্পাদকের কথা


 


সারা পৃথিবীতে আজ মৃত্যুর মিছিল চলেছে। আমরা সামাজিক সুস্থিতিসম্পন্ন মানুষেরা হয়তো সেই চিত্রটি যথাযথ বুঝতে পারছি না। কবি জীবনানন্দ লিখেছিলেন " কালিদহে কখন যে ঝড়/ কমলের নাল ভাঙে---- ছিঁড়ে ফেলে গাঙচিল শালিখের প্রাণ/ জানি নাকো;"
কিংবা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া সেই অমর গান---" কোথায় কখন কবে কোন তারা ঝরে গেল কে তার খবর রাখে।" আসলে মৃত্যু ঠিক কেমন আমরা মৃত্যুর আগে তা কেউই জানি না। কবি জয় গোস্বামীর সেই অমোঘ পঙক্তি "মৃত্যু সোনার পাথর বাটি"। মৃত্যুর সঙ্গে উদাসীনতার একটা সম্পর্ক আছে। আমরা নিজের মৃত্যু সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি উদাসীন। অথচ আমরা সকলেই মৃত্যুভয়ে ভীত। জীবনের সেই অজানা অতিথির রূপ কেমন আমরা কেউই জানি না। আর তাই আমরা মৃত্যুর নামে পাশ ফিরে শুই। মৃত্যুর মহত্ত্ব উপলব্ধি করে অনেক মনীষী তাকে শুদ্ধচিত্তে গ্রহণ করে তা অতিক্রম করার কথা বলেছেন। কিন্তু মৃত্যু যখন মড়কে পরিণত হয় তখন তাকে উপেক্ষা করে সাদরে বরণ করা কাপুরুষতার নামান্তর। পৃথিবী জুড়ে বহু সেলিব্রিটির মৃত্যু হচ্ছে। সেই সঙ্গে ঝরে যাচ্ছে নাম গোত্রহীন বহু অসহায় মানুষ। তাদের দুঃখে সহানুভূতি জানানোর কোনও সহনাগরিক নেই। এই সুমহান নীল আকাশের নিচে আমাদের অস্তিত্ব নামক একটা ভাবনা আছে। সে অস্তিত্ব এই ক্ষুদ্র প্রাণের থেকে অনেক বড়। সে জন্যই যা দেখা যায় তাকে গুরুত্ব দিলেও না-দেখা অস্তিত্বের অনেক খানি আমাদের অগোচরে আমাদের খেলিয়ে যায়। অস্তিত্ব আসলে বেঁচে থাকা আর বেড়ে ওঠার বোধ যাকে খুব কম মানুষই উপলব্ধি করতে পারে। মানুষ জন্মগতভাবেই চেতনাপ্রবণ। আর সেই চেতনাকে চৈতন্যে পরিণত করতে পারলেই কেল্লা ফতে। যে মানুষ যত টুকু চৈতন্যপ্রবণ সেই মানুষ ততখানি সার্থক। বাকি মৃত্যুটুকু সবার জন্য এক। দরিদ্র -ধনী, উচ্চ -নীচ সকলেই সমভাবে শায়িত সেখানে। কিন্তু মৃত্যুকেও আটকে দেওয়া যায় সেই অবিরল চৈতন্যধারায়। যখন তা হয়ে ওঠে "শ্যাম সমান"। যার পরম্পরা মানব সভ্যতাকে মারী ও মৃত্যুর কুচক্ষু এড়িয়ে আজ অবধি টেনে এনেছে। কীর্তিমান মানুষের পাশাপাশি অসংখ্য সাধারণ মানুষ যাদের শ্রম ও সদগুণে আমরা পরোক্ষে পূর্ণ হয়ে উঠেছি ----এখনও পর্যন্ত যারা বিদায় নিলেন আমার নত মাথা সেই ঋণের আরোগ্যের দিকে ঝুঁকে রইল।


চিত্র ঋণ: অনিরুদ্ধ মান্না

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবিতা

সম্পাদকের কথা

দ্বিতীয় বর্ষ  ।। অষ্টম সংখ্যা ।। মার্চ ২০২২   খুব অসহায় লাগছে এবার। আমাদের ডান পাশে ধস। বায়ে গিরিখাত। মাথায় বোমারু। পায়ে পায়ে হিমানীর ব...