ভিনদেশি তারা
তিনি বিশ্বাস করেন ত্রুবাদুরের ঐতিহ্যে। তিনি চান তাঁর কবিতাগুলি পাঠকের বা শ্রোতার সামনে পরীক্ষা দিক, সেই পাঠক অথবা শ্রোতা যাঁরা তাঁর কবিতা আগে পড়েননি বা শোনেননি। তিনি ছুটে বেড়ান অস্ট্রেলিয়ার একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। কখনও তিনি তাসমানিয়ায় আবার কয়েকমাসের ব্যবধানেই তিনি পৌঁছে যান মেলবোর্নে। তিনি চান নতুন নতুন শ্রোতা তাঁর কবিতা শুনুক। ভ্রমণ তাঁকে কবিতা উপহার দেয় , দেয় কাঙ্ক্ষিত বিস্তার এবং বৈচিত্র্য। তাই তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা , ইউরোপ আর অস্ট্রেলিয়ায়। তাঁর জন্ম হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের আগে, হৃৎপিন্ডে একটা ফুটো নিয়ে। দুটো মেজর হার্ট অপারেশন হয়েছে তাঁর। কোনো সন্দেহ নেই তাঁর প্রথম কবিতার বইয়ের নাম হবে ‘ থান্ডার রোড, থান্ডার হার্ট’ , যেটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। টেক্সাসের পথে যেতে যেতেই প্রথম কবিতা লেখা। প্রথম পর্বের লেখায় আমেরিকান বিট কবিদের প্রভাব স্পষ্ট। অ্যালেন গিন্সবার্গ , জ্যাক কেরুয়াক , চার্লস বুকোস্কির লেখার ছাপ ছিল তাঁর প্রথম বইয়ে। ক্রমশ তিনি খুঁজে পেয়েছেন নিজস্বতা। দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ইন দ্য হিউম্যান নাইট’-এর জন্য ১৯৯৬ সালে পেয়েছেন ভিক্টোরিয়ান প্রিমিয়ার’স লিটারারি পুরস্কার। দীর্ঘ কবিতা লিখতে যেমন স্বচ্ছন্দ তেমনই ছোট কবিতাতেও তাঁর দক্ষতা চোখে পড়ার মতন। ২০১৭ সাল অবধি প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৯টি। লিখে চলেছেন পিটার ব্যাকোস্কি। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের বাসিন্দা এই কবির কবিতা অনূদিত হয়েছে আরবি, ফরাসি, মান্দারিন , স্প্যানিশ, জার্মানি ভাষায়। তিনি বিশ্বাস করেন সাধারণ শব্দের মাধ্যমেই অসাধারণ কিছু ব্যক্ত করা যায়। পিটার ব্যাকোস্কি চান তাঁর কবিতা সকলের কাছে পৌঁছক।
যে দিনগুলির মহড়া দেওয়া হয় নি
যা আমরা
বুঝতে পারি না,
মেনে নিতে পারি না
অথবা মেটাতে পারি না
ঘরের ভিতরে আমাদের ক্রমশ সংকুচিত করে
অথবা
আমরা খুঁজেই চলি
আয়নার ভিতরে,
ডিকশনারির পাতায়
আর মদের তলানির মধ্যে,
পাখিদের উড়াল লক্ষ্য করি
আর ক্যালেন্ডারের পাতাগুলো দেখি,
পৃথিবীর অন্য মানুষগুলো
হয় ক্ষত জড়ো করে
অথবা গতিবেগ ।
ছাতাগুলো
১০৮ দিন ধরে
বৃষ্টি হয় নি ।
ছাতাগুলো
গোল হয়ে বসে
তাস পেটাচ্ছে/খেলছে।
কেউ কেউ
ট্যাক্সি চালানো শুরু করেছে।
কেউ আবার
জড়িয়ে পড়েছে
ড্রাগ পাচারের কারবারে।
কেউ কেউ
ধর্মপ্রচারক হয়ে
বলে বেড়াচ্ছে
পৃথিবীর শেষদিন আসন্ন,
দিনক্ষণ ঠিকঠাক বলতে না পারলেও
পৃথিবী কীভাবে ধবংস হবে
সে ব্যাপারে তারা একমত,
একটা বিশাল বন্যায়।
কথা বলার সময়
ব্যাকুল হয়ে
তারা আকশের দিকে তাকায়
এমন এক আকাঙ্ক্ষা
যা ভয়ানক ছোঁয়াচে।
এমন অহংকার থেকে দূরে
যখন একজন ব্যক্তি পুরুষ্টু গোঁফ গজিয়ে ফেলে ,
তার ভুরুদুটি তার কানের ভিতরে লুকিয়ে পড়তে চায়।
ভেবে দেখুন
গাছের তলায়
আপনি বিশ্রাম নিতে পারেন ,
কিন্তু
কুঠারের ছায়ার নীচে
পারেন না ।
পুরুষরা
কেউ কেউ চিন্তিত থাকে টাক পড়ে যাবে ভেবে ,
অন্যদের দুঃশ্চিন্তায় টাক পড়ে যায়।
তা-ই স্বভাবজাত যা প্রকৃতি করায়
হয় কচ্ছপেরা দীর্ঘদিন বাঁচে কারণ তারা তাড়াহুড়ো করে না
অথবা তারা তাড়াহুড়ো করে না বলেই দীর্ঘদিন বাঁচে

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন