কাক
কাকের জন্যও কা কা করে মন
কেনো যে এমন অহেতুক হাহুতাশ !
এ বসন্তে কোকিলের ডাক শুনতে পাই নি বলে
এতো পরিতাপ কাকের কা কা শুনতে!
যদি বসন্তে কোকিলের গান শুনতে চাও
তোমাকে কাকের আবাসন ব্যবস্থা
বংশ বিস্তার নিয়ে ভাবতেই হবে!
কাক আর সাবানের গল্প, লোককথা
ভুলে গেলে কাকেরা অসে না, ভাত ছিটালেও
উঠানে দেখি না আর কাকের জটলা
কা কা ডাকে না ঘরের চালে-
অমঙ্গল আগাম ইশারায় কোনো!
কোন অভিমানে এই লোকালয় ছেড়ে
চলে যাচ্ছো, হে কাক -- হে লোকালয়ের পাখি
আমার সন্তান কী শুনতে পাবো না কোকিলের গান!
শব্দ
কোন শব্দকেই যুৎসই মনে হচ্ছে না
ভালোবাসা শব্দটাও কেমন পর পর লাগছে
বন্ধু শব্দটা দূরের ভাঙা সাঁকোটার
প্রতিশব্দ মনে হয়, যেনো তার প্রয়োজন
ফুরিয়েছে এই কর্মহীন নিসঙ্গ মানুষের
সমাজ সংসার থেকে
দৈনন্দিন ব্যবহৃত অনেক শব্দই ভুলে যাচ্ছি
আমি বাড়ি আছি কি না- নাম ধরে
ডাকছে না কেউ, বিলুপ্ত প্রাণির মতোই
শব্দও বিলুপ্ত হয়, সময় বিলুপ্ত হয়
কিছু উটকো শব্দের সন্ত্রাস তছনছ করে দেয়
আমার একান্ত শব্দের ভুবন
জীবন ও রাষ্ট্রের সংযোগ
ঘোরলাগা সন্ধ্যা
সাপের খোলাস ছাড়ানো দেখতে দেখতে
সন্ধ্যা নেমে আসে, নদী ও আমাদের
মাঝখানে সূর্য ডুবে যায়।
তুমি বলেছিলে - আমাকে আলগা করো
বাহিরের কৃত্রিম সৌন্দর্য থেকে
পাথরে খোদাই করো আমার প্রকৃত কাঙ্ক্ষা
এতোদিন গুম করে রেখেছি যে কয়লার ঘ্রাণ
তাতে জলের স্ফুলিঙ্গ জ্বালাও, ফুল ও ফলের নির্যাস পান করে ফোটাও আলোর কুসুম
আগামি ভোরের গানে পল্লবিত হোক
নদী ও পাহাড়ের আদিবাসী উপকথা
এই মতো সময়ের ডানায় উড়ন্ত চিল
পাক খেতে খেতে ছুঁ মেরে সাপের ফনা
আরেক পাহাড়ের দিকে উড়ে যায়
আমাদের মাঝখানে পড়ে থাকে দীর্ঘ সাপের খোলস
ছবি: বিধান দেব

সুখপাঠ্য কবিতাগুলো
উত্তরমুছুন