মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০

কবিতা: রফিক উল ইসলাম


 


অ্যাকোরিয়াম


লাল-নীল পাখনায় ভরা করে খেলে বেড়াতে বেড়াতে

                                      এই স্বচ্ছ জলের অ্যাকোরিয়ামটিকেই

যখন সমুদ্র মনে হল, যাবতীয় খেলা থামিয়ে 

সেই যে আমি বিস্মিত হলাম, আমার নিরন্তর ডুবসাঁতার 

বুনোঝোপের আড়ালে স্তব্ধ হয়ে গেল! এতই তুচ্ছ আমি, 

নিজেকে ঠিকঠাক চিনে ওঠার পর, গভীরতর কল্লোল জুড়ে 

শুধুই অট্টহাসি, নিজেরই বিদ্রুপে লাল-নীল পাখনাগুলি

ক্রমশ সংকুচিত হয়ে এল!


সারাজীবনের উজান ঠেলে ঠেলে, ছোট্ট একটি অ্যাকোরিয়ামও

ডিঙিয়ে যেতে পারব না আমি? আমাকে ডিঙিয়ে ছুটে যাচ্ছে 

রহস্যময় ডুবুরির দল, আর চিরচঞ্চল মৎসকন্যারা!তারা হয়তো 

কাচের দেওয়াল ভাঙার যাদুমন্ত্র জানে, যে অদৃশ্য দেওয়ালে

                                                            ঠোক্কর খেতে

খেতে 

উন্মুখ জীবন ক্ষতবিক্ষত হয়ে ওঠে, পুব আর পশ্চিম 

একাকার হয়ে যায় । দিগ্ ভ্রান্ত নাবিকের আত্মা বুকে জড়িয়ে 

কিছুতেই আর বাতিঘরের ইশারা মেলে না।


তরঙ্গায়িত, আর অপার তুচ্ছতায় বুনোঝোপে আটকে থাকা

                                                                 নিজেকে নিয়ে 

ঠিক কোথায় পৌঁছাবো, আমার লাল-নীল পাখনারা

কিছুই জানে না! শুধু জানি, আমার অক্লান্ত ডুবসাঁতার 

সামান্য একটি অ্যাকোরিয়ামের অদৃশ্য কাচের দেওয়ালও

ভাঙচুর করার যোগ্য নয় । গভীর জলতলে, 

ক্ষতবিক্ষত এই উন্মুখ জীবন টুকু নিয়ে আমাকে কি কেবল

ওইসব রহস্যময় ডুবুরি আর চিরচঞ্চল মৎসকন্যাদের 

লীলায়িত মোহনা-বিজয় দেখে যেতে হবে?



ছবি:  বিধান দেব 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবিতা

সম্পাদকের কথা

দ্বিতীয় বর্ষ  ।। অষ্টম সংখ্যা ।। মার্চ ২০২২   খুব অসহায় লাগছে এবার। আমাদের ডান পাশে ধস। বায়ে গিরিখাত। মাথায় বোমারু। পায়ে পায়ে হিমানীর ব...