শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০

সম্পাদকের কথা


 
উৎসবের অঙ্গ যখন সাহিত্য, উৎসবকে উপলক্ষ করে যখন তার প্রকাশ, তখন তা একটু জাঁকজমকপূর্ণ হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। বাঙালি সংস্কৃতির এরূপ নান্দনিক প্রকাশ আমাদের কাছে নিঃসন্দেহে শ্লাঘার বিষয়। বড়, মাঝারি, ছোট যে কোনও আকারই হোক না কেন উদ্যোক্তাদের শারদশক্তি মহা সমারোহে বাইরের আনন্দের সঙ্গে আমাদের অন্দরকেও সুঠাম ও সামর্থ্যযুক্ত করে তোলে। একটা সময় ছিল যখন শারদ সাহিত্য নিয়ে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু -বান্ধবদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার রেশ থাকত। ইদানীং অবশ্য সে সব দেখা যায় না। হতে পারে অন্যান্য পার্থিব সুখ ও আনন্দ যেমন আমরা গোপনে উপভোগ করতে শিখে গেছি, সাহিত্যের আস্বাদনও তেমনি রপ্ত করতে শিখেছি নিতান্ত ব্যক্তিগত স্তরে। কিন্তু ভোগ আর উপভোগ তো এক জিনিস নয়। বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর "শুভ উৎসব" প্রবন্ধে লিখেছেন, " ...আমাদের উৎসবে ভাবের প্রাধান্য---- বাহিরের সমারোহ তাহার প্রধান অঙ্গ নহে।" বর্তমানে অবশ্য বাইরের সমারোহে অন্তরের ঐশ্বর্য্য শূন্য হতে বসেছে। সেই শূন্যতার টিলায় তৈরি আমাদের আকাশচুম্বি অট্টালিকা প্রকৃতির বুকে শোভা পাচ্ছে । নিত্য নতুন উপাচার আর তার প্রকরণে আমরা আশ্চর্য করতে চাইছি একে অপরকে। তাক লাগিয়ে দিচ্ছি। তার মধ্যেও উঁকি মারছে রাস্তার শিশু আর আশ্রমের বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা। উঁকি মারছে নীতিভ্রষ্ট সেই সব ঘটনা যেগুলো মানব সভ্যতাকে প্রতি মুহূর্তে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে মানব সভ্যতার ইতিহাস মূলত তার জিঘাংসার ইতিহাস। বর্বরতাকে অতিক্রম করে যা-কিছু সুন্দর তারও নিহিতার্থে ফণা উঁচিয়ে আছে কোনও না কোনও ভোগলিপ্সা। আমাদের উৎসব আমাদের সমাজ -সভ্যতার অনেক ইঙ্গিত বহন করে। মনের ভেতরের জৈবিক প্রবৃত্তিগুলিকে, ক্ষমতা প্রদর্শনের উচ্ছৃঙ্খল জিঘাংসাগুলিকে যতক্ষণ না সাম্য, সম্ভ্রম ও সহানুভূতির দুর্গে বলি দিতে পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের উৎসবের খসড়া চলবে, উৎসব নয়। সাহিত্যচর্চা সমস্ত শিল্পের মধ্যে আত্মশুদ্ধিকরণের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। প্রকৃত সাহিত্যের মুখোমুখি হলে মনের যাবতীয় গ্লানি ঝরে যায়। মনসমীক্ষণের সেই সব শারদ সম্ভার এখন প্রিন্ট ও ওয়েব--- দুই মাধ্যমেই পাওয়া যাচ্ছে। আসুন, আমরা একটু নড়েচড়ে সোজা হয়ে বসি।


চিত্র গ্রাহক: অনিরুদ্ধ মান্না

1 টি মন্তব্য:

  1. সম্পাদকীয়টিই পত্রিকার ধারাকে চিহ্নিত করে দেয়। মূল্যবান ভাবনা৷

    উত্তরমুছুন

কবিতা

সম্পাদকের কথা

দ্বিতীয় বর্ষ  ।। অষ্টম সংখ্যা ।। মার্চ ২০২২   খুব অসহায় লাগছে এবার। আমাদের ডান পাশে ধস। বায়ে গিরিখাত। মাথায় বোমারু। পায়ে পায়ে হিমানীর ব...