মাটির খুব কাছাকাছি
যেভাবে সন্ধ্যা নামে
মাটির খুব কাছাকাছি গুল্মঘ্রাণে বকুল কুড়াই
আগুন আসুক কিংবা আরোগ্যের সফলতা
একদিন প্রতিটি শরীর হবে দ্বিধাহীন ছাই
আজ কেন তবে মিহি কাচের সমীরণে সংকোচ
দৃশ্যত যা কিছু প্রথাসিদ্ধ পাহারা
হয়তো কেউ এই ভাবে
জং ধরা তরবারির অন্তরালে করেছে টিটেনাস
বিনীত শয্যায় যেভাবে সন্ধ্যা নামে
তোমার প্রেম ছবি আকাঙ্ক্ষিত ধুলোবালিও
কেন যে ভোকাট্টা ঘুড়ির লেজে বারেবারে পাক খায়
হয়তো তাই মাটির খুব কাছাকাছি বকুল খুঁজে বেড়াই
জানালার পাশে
কখনো কেউ জানালার পাশে বাতাস হলে
নড়ে উঠি, থেমে যায় সমস্ত রক্তের তঞ্চকতা।
এ- ঘর ও-ঘর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আতঙ্কিত চোখেরা অভাজন।
কোথায় যে থাকে সবাই--
উঠোন জুড়ে বেদনার গান, তবু সেই কৃষ্ণপক্ষের বাতাস
গ্রিল টপকে ঢুকে পড়ে, বৈধ চেতনার কোলাহলে
বাতাস কি জানে বৈকুণ্ঠরিপু।
স্বচ্ছতর নদীর আধারে যদি কেউ
যথার্থ যাপনের অন্তরা টুকু খুলে রাখে
সেই আলিঙ্গন বুঝে যায় স্বর্গের পর্দায়
লেগে থাকা গ্রহণ নক্ষত্রের বিভাজন।
আমার এই আত্মউন্মোচন কিভাবে আরোগ্যের অপরাধী
নির্লিপ্ত আকাশ পুঁতে রাখে চৈতন্যের ভ্রান্ত ভবিষ্যৎ।
এখনো কেউ জানালার পাশে বাতাস হলে
সে যেন আমায় আরোও শূন্য করে...
শ্যাওলার ভাস্কর্য
পাহাড় থেকে নেমে আসা অন্ধকার সারা গায়ে মেখে
এপারের সমস্ত কথা উড়ে যায় সিন্ধু নদীর তীরে
ভেঙে যাওয়া কাচের মতো ধারালো কুয়াশা
আমার হাতের তালুতে জড়ো করে দুঃস্বপ্নের ছাই
তাই দেখে পাতায় পাতায় লেগে থাকা জোনাকিরা
বুঝে গেছে এই যথার্থ সময়ের আগুনরঙা সৌখিনতা
আমাকে জল দাও সেই জলে ভাসাই শ্যাওলার ভাস্কর্য
পাহাড় থেকে নেমে আসা অন্ধকারে দেখি নিজস্ব বুদবুদ
আর মাথাটা ভেসে যাচ্ছে প্রাগৈতিহাসিক স্রোতে
পাহাড়ি লতা
চোখের ঘনিষ্ঠতা কতখানি নির্জন হলে
মাটি খুঁড়ে বেরিয়ে আসে বুকেরই চূর্ণ কঙ্কাল
হাত ফসকে জল সেই জলে
কারা যেন ডুবে মরে আমাদেরই বারান্দায়
তবুও তো কেউ গান হয়ে ঝুলে থাকে
পাহাড়ি গাছের শাখা-প্রশাখায়
একদিন সেই গান বিঁধেছিল বুকের পাঁজরে
আজ শুধু সেই সম্পর্কের অবনতি
লিখে রাখে পাহাড়ি লতা
জানি না কতটা পথ কৌশলের
জানি না কতটা দূরত্ব দুর্বল হলে
সম্পর্কের ছোঁয়া নিবিড় পর্যবেক্ষণে
আরোও বেশি আঁধার হবে
অপেক্ষার আঁধার ভিজে গড়িয়ে গেল আমার ছাই
সেই মুহূর্তের মধ্যে কারা
সেই ছাইয়ের পুতুল ধরে লোফালুফি করো নির্জন পথে
খাড়াই ও নিচু সবটাই তো আশ্চর্য আলাদিন
ছবি: বিধান দেব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন