চার্লস সিমিক -এর কবিতা
সরল মানুষদের গণহত্যা
তাও সাম্রাজ্যের শেষদিকের কবিদের
এসব লেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল নাঃ
“পশ্চিমের পাহাড়ের পেছনে সূর্য অস্ত যাচ্ছে...
ঝড়ে উড়ে যাওয়া ঘোড়াগুলো মেঘের ভেতর চরে বেড়াচ্ছে।”
আমারও কিছু করার ছিল না
মাথার ওপর একটা কাককে ঘুরপাক খেতে দেখেও আনন্দ হচ্ছিল
থম মেরে থাকা আকাশের নীচে
একা, ঘাসের ওপর শুয়ে হাত পা মেলে দিলাম আমি
শুধুমাত্র হাওয়া শব্দ করছিল,
আমার পাশে বইটার পাতাগুলো খসখস করে উল্টে দিচ্ছিল
একবার সামনে একবার পেছনে
হারামি কাকটাকে পড়ানোর কিছু একটা খুঁজে বেড়াচ্ছিল হাওয়া
খবরের কাগজ কেটে বানানো পুতুল
একটা পরিবারের মতো হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে চারজন
আজকের কাগজে যুদ্ধের খবর ছিল
আর প্রেসিডেন্টের ছবির পাশেই
কফির বিজ্ঞাপন, যাকে স্বর্গীয় কফি বলে সবাই
রোজি সোনা, কিছুক্ষন ধরে রাখো তো ওদের
আর একটু উঁচুতে তুলে ধরো
হাওয়ায় দুলতে থাকুক পুতুলগুলো, একটু নাচুক
তোমার বুড়ো দাদু- ঠাকুমা ওদের দেখে হাসুক
হাতের ছুরি,কাঁটা চামচ হাতেই ধরা থাকুক
কাগজের কালি তোমার হাতে লেগে যাবে
তারপর যখন তাড়াহুড়ো করে চোখদুটো ঢাকতে যাবে তুমি
তোমার মুখেও লেগে যাবে ওই কালি
কসাইখানার মাছি
সন্ধ্যাবেলা হলেই ওরা রক্ত মাখা পায়ে
আমার স্কুলের বইয়ের পৃষ্ঠার ওপর দৌড়োদৌড়ি করত
চোখ বন্ধ করলেই আমি সামনের রাস্তার
গাছগুলোর কথা শুনতে পেতাম,
গরমকালকে মন খারাপ করে বিদায় জানাত গাছগুলো
জানালার নীচে বসে কেউ একজন পুরনো কথাবার্তা আওড়াত
বোকা, বুড়িয়ে যাওয়া গরুগুলো হঠাৎ করে থমকে যেত
কিছু একটা সন্দেহ করত
আর ভারি চপারটা তখনই ওদের ঘাড়ের ওপর নেমে আসত
ভূতুড়ে ইঁদুরের নাচ
“তুর্কিস্থানে,তুর্কি আবহাওয়ায় ”
– ডব্লিউ. স্টিভেন্স
প্রেসিডেন্ট নিজের মনেই হেসে উঠলেন, তিনি যুদ্ধ ভালোবাসেন
আর সামনেই একটা যুদ্ধ এগিয়ে আসছে
প্রতিদিন সরকারি দপ্তর আর টিভির স্টুডিওগুলোতে
একটু একটু করে খুশির পারা চড়ছে
দুরের দেশগুলোতে বোমা ফেলছে আমাদের সেনারা
মর্গগুলো ঘষে ঘষে পরিষ্কার করা হচ্ছে,কয়েকদিনের মধ্যেই
মুখ কালো করে অল্প বয়সী ছেলেরা লাইন দিয়ে শুয়ে থাকবে
লোকজন এরমধ্যেই খুশির ফোয়ারা ছোটাচ্ছে মুখে
সুরেলা পাখির ছদ্মবেশ, আগাম যুদ্ধ আর বিজয় নিয়ে
মিথ্যার বুলি আউড়ে যাচ্ছে সারাদিন
কালো জামাকাপড় পরা শার্প শুটাররা ছাদের ওপর থেকে
ম্যালের মধ্যে সন্দেহজনক পায়রাগুলোকে তন্নতন্ন করে খুঁজছে
কয়েকজন অন্ধ মানুষ হাওয়ায় তাদের লাঠিগুলো দোলাচ্ছে
ছোট স্কার্ট পরা, আঁটোসাঁটো চেহারার মেয়েরা
তাদের পার্সের ভেতর লাইটার খোঁজার জন্য তলিয়ে যাচ্ছে
চার্লস সিমিকঃ সমকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কবি চার্লস সিমিকের জন্ম ১৯৩৮ সালে যুগোস্লাভিয়ার বেলগ্রেড শহরে। ষোল বছর বয়সে তিনি তাঁর পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় চলে এসেছিলেন। ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ,‘হোয়াট দা গ্রাস সেইস’।‘নাইট পিকনিক’, ‘হোটেল ইনসোম্যানিয়া’, ‘আনএন্ডিং ব্লুজ’ তাঁর বিখ্যত কাব্যগ্রন্থ। ১৯৯০ সালে ‘ দা ওয়ার্ল্ড ডাজ নট এন্ড’-এর জন্য পুলিৎজার পুরষ্কার পেয়েছেন সিমিক। এছাড়া গ্রিফিন ইন্টারন্যাশনাল পোয়েট্রি প্রাইজ, ওয়ালস স্টিভেনস অ্যাওয়ার্ড- এর মতো পুরষ্কার পেয়েছেন তিনি। ইউনিভার্সিটি অফ নিউ হ্যাম্পশায়ারে দীর্ঘদিন অধ্যাপনার পাশাপাশি ‘প্যারিস রিভিউ’ পত্রিকার কবিতা বিভাগটি সম্পাদনা করেছেন তিনি।

ভালো লাগল। খুব সাবলীল অনুবাদ
উত্তরমুছুন