উদ্ভিদ জন্মের শেকড়
হেরে যাচ্ছি ধ্রুপদী আলোয়, অস্পষ্ট বেদনার কাছে মেলে ধরছি জাগতিক সকল মোহ, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ ও গাছের শাখা প্রশাখায় পুষে রাখছি সেই সুখ, কচ্ছপের আয়ুর সমান তা দীর্ঘ হলো না, সমুদ্র সাক্ষাৎ পেলো না নদী মোহনার, আমি তোমার, জোয়ার - ভাটায় ভেসে থাকা এক পদ্ম ফুল জানে, একদিন মাটির গভীরে তার জন্যে ছড়িয়েছি উদ্ভিদ জন্মের শেকড়, হয়ত টের পাবে সে মানুষ জন্মে তার নির্যাসে।
একটা ভবঘুরে জীবন
আমার একটা ভবঘুরে জীবন, নদী বন্দর ও জাহাজের মায়ার কাটিয়ে দিলে খুব সামান্য ঋণ জমে যাবে তোমার হৃদয়ের কাছে, এই যে ফিরতে চেয়ে ফিরিনি, হাতে হাত রাখবো বলে রাখিনি, চাঁদ রাতে সমস্ত আলো পান করে চারদিকে এতো গ্রহন লাগিয়েছি, পৃথিবী ঘুরছে, গ্রহ নক্ষত্ররা ঘুরছে, আমাকে দেখে উপহাস করছে তোমার নারী জন্মের ব্যর্থতা, এসব কখনো পরোয়া করি না, চিরকালই তো শূন্য থাকে মধু ও মদের বোতল...
পাপ করছি, কালি মাখছি
পাপ করছি, দু-হাতে সমস্ত মুখে মাখছি কালি, যেনো সাকার্সের সঙ, পূণ্য কেবল তুমিই করো, আমার মৃত্যুতে করো শোক যেহেতু তুমি ছাড়া প্রিয় ফুল কেউ বাসেনি ভালো, কেউ জানেনি এতোটা গোপন, ভেতরে ভেতরে তুমুল খরা, দূরে ফুঁসে উঠেছে ঢেউ, নদীর ঋতুস্রাব ব্যাথা, পাখির ডানার ঝটপটানি, তোমার কথা পড়ছে মনে, না দেখে ফিরে আসছি তিতুমীর এক্সপ্রেসে, ধূলি উড়ছে ঘোড়ার খুরের আঘাত, তোমাকে দেখতে পাচ্ছি না, নদী ও নারী জন্মে কি ঢেউয়ে ঢেউয়ে শুকাতে দিয়েছো দীঘল কালো চুল।
তুমি এবং গাছ
তোমাকে ডাকছি শুনতে পাচ্ছো না, তোমার বদলে সাড়া দিচ্ছে গাছ, গেওয়া ও গরানের পাতা, চিত্রা হরিণীদের সর্তক পায়ের ছাপ, গাছেরা কি এমন মানুষ, লুকিয়ে আছে গাছের ভেতরে, কথা বলছে মানুষের ভাষায়, যেনো কোন অগ্ন্যুৎপাতের রাতে তোমার থেকে দূরে আগুনের নদীতে ডুব দিয়েছিলাম, আর ফিরতে পারিনি, মানুষ জন্মের শরীর গিলে খেয়েছে তোমার ঐ দুই আগুন পাহাড়, দু-হাতে ঠেলেছি এতো ঢেউ, জলের শাড়ীর গোপন ভাঁজ, তবুও নিঃশ্বাসে বিশ্বাসের ফকিরী জুড়ে খুন হয়েছি তোমার বাহু ডোরে...
ছবি : বিধান দেব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন