যে-কোনো সুন্দর মানুষকে
হে সুন্দর মানুষ, আমি শুধু তোমাকে একটা প্রবীণ তালষাঁড়া
উপহার দিতে চেয়েছিলাম
চিরমসৃণতা থেকে মুক্তি দিতে আমি তোমার খর্বতা প্রার্থনা করেছি
সমসময় নৈমিত্তিক আমাকে এগিয়ে নিয়ে যায় অচিন শৈত্যপৃথিবীর
কুহকের কাছে।
নির্মিত সাঁঝতারাটির পাশে নিঃশব্দে ভৌতিক আঁধার
খ'সে খ'সে পড়ে---
তুমি যে কী ভেবে আরও সুন্দর হতে চেয়েছ বুঝে উঠিনি এখনও
নিপুণ বালিহাঁস অথবা সমুদ্রমৎস্যের বোধের মতো তুমি সুন্দর হবে না কোনোদিন;
দুঃখী কবির মতো সৌপর্ণী আর পাগলাগাছের পাতার মতো শ্রী
হবে না তোমার।
একটা সংক্রমিত পয়ার, ঈল মাছ, কুমড়োপটাশ, ভিক্ষান্ন
কিম্বা একটি কুমড়োফুলের মতো বিলোল, সৈন্ধব, নিঃশ্রেয়স
হয়ে উঠবে না তুমি।
হাতে কিছটা তুলো
হাতে কিছুটা তুলো নিয়ে আনমনে পিঁজতেই থাকি---
হাত মনের বশ নয়,
জানি না যে হঠাৎ কখন থেকে পেঁজা শুরু হয়ে গেছে!
দেখি যে, তুলোর গোল্লাটি কার্পাস, যার রোঁয়াগুলি অদ্ভুত আকারে
কতকগুলি ভুল ট্রাপিজিয়ম ও বিভিন্ন বহুকৌণিক অসামতলিক
ক্ষেত্র বিনির্মাণ করেছে।
শিশুর কথার মতো তার কোনো যৌক্তিক তাড়নাও নেই
আড়ালের সৌন্দর্য যেন আরও সরে গিয়ে কস্তুরীগন্ধের আড়াল খুঁজেছে!
আর খোঁজাটিও কেমন অশেষ, রহস্যেরও রহস্যে অতিক্রান্ত।
সময়ের প্রতি বিন্দুতে আমরা কি কোথাও পৌঁছোতে চেয়েছি?
যে-কোনও আঘাতের মুখে রেখে তুলোর ফেনিল ঢেউ
আমরা কোথায়ই-বা যেতে চাই?--- আকাশের অগ্নির সন্তান
তবু যে তুলোর-কাছে-সহনীয়, অদাহ্য--- তার মরমি প্রতিভায়
তুলো হাতে এসেছিল।
তারপর ভরের একান্ত নিত্যতায় উড়ে উড়ে কার্পাস গাছে
কাঁচা তুলোর ফল হয়ে ঝুলে আছে।
ছবি: বিধান দেব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন