বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১

ভিনদেশী তারা ।। অরিন্দম রায়


 

রব গী

জন্মসূত্রে তিনি ব্রিটিশ নাগরিক। পেশায় কিছুদিন আগে অব্দি ছিলেন সাইক্রিয়াট্রিক নার্স। ২০০৬ সালে তিনি নার্সিং পেশা থেকে অবসর নিয়ে প্রবেশ করেন স্ট্যান্ড আপ কমেডির জগতে। স্ট্যান্ড আপ কমেডির জগতে তাঁর পনের বছর হয়ে গেল। তবে শুধু কমেডি শো নয়, তাঁর আরেক প্রেম কবিতা। পারফর্মিং কবিতার জগতেও তিনি সুপরিচিত। তিনি রব গী। নিজেকে তিনি পরিচয় দেন ‘স্ট্যান্ড আপ পোয়েট’ হিসেবে। সারা পৃথিবীতে তিনহাজারের বেশি শো করেছেন রব। হিউমার তাঁর কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সোজাসাপ্টা ভাষায় কবিতায় কথা বললেও রব-এর লেখায় পাঠক নানা স্তর খুঁজে পাবেন। রব, তাঁর কবিতা পাঠের মাধ্যমে মানসিক সমস্যায় ভোগা মানুষদের চিকিৎসা করেন। তাদের শুশ্রুষার জন্য কবিতা এবং কমেডিই রব-এর অস্ত্র। সাম্প্রতিক করোনা মহামারির সময়ে তিনি ফিরে এসেছেন তাঁর পুরনো পেশায়। কারণ রব সামাজিক নিঃসঙ্গতা তাঁর কাজের মূল ক্ষেত্র। তিনি কাজ করছেন অ্যালজাইমার্স রুগীদের নিয়েও। সামাজিক দূরত্বের এই সময়ে রব গী তাঁর কবিতা নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন সেইসমস্ত মানুষজনের কাছে যাঁদের পাশে দাঁড়ানো আজ সবচেয়ে বেশি জরুরি, সম্ভবত কবিতা লেখার চাইতেও।

 

 

আমার বিষণ্ণ জীবন কত ভালো

 

এই পৃথিবী মাইক্রোওয়েভে তৈরি হয়েছিল

আর আমি আমার কুঁচকে ছোট হয়ে যাওয়া মুড়ে রাখা মস্তিষ্কের থেকে পালাতে পারছি না।

আমার মুখে আঘাতের চিহ্ন

আর মাইগ্রেন;

আর মনে মনে আমি যে-ই নাইলন আবিষ্কার করে থাকুক না কেন তার থেকেও জঘন্য।

আমি পর্বতকে মহম্মদের কাছে নিয়ে গেলাম

কিন্তু তার কাছে ইতিমধ্যেই একখানা আছে।

যতক্ষণ না আপনি কোনো ভুল করছেন ততক্ষণ কিছু শিখতে পারবেন না

আর আমি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি কোথায় সবকিছু ভুল হয়ে গেল।

 

আমি একটা অযোগ্য, বোকা লোকের মতো একা একা ঘুরে বেড়াই

আমার চোখের পিছনে জায়গার চারপাশে;

কল্পনার আনাচে কানাচে দ্রুতপায়ে ঘুরি

আর ভিজে যাওয়া স্বপ্নের এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া চাদরের উপরে;

এখনও আমার পায়ের তলায় ভেজা ভাব ,

কিন্তু আবারও বিন্দুমাত্র বিস্মিত হই না

যখন আমি যুক্তি খুঁজে পাই না

কেন আমার জানা সমস্ত রসিকতার মধ্যে নিজেকেই সবচেয়ে বেশি হাস্যকর বলে মনে হয়।

আমার মাথায় কোনও সমাধান সূত্র নেই

আমার সমস্ত চিন্তাভাবনা একরকম বলে মনে হয়।

কিছুই পাল্টায় না, সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তিরা

ধীরে ধীরে আমাকে পাগল করে দিতে থাকে।

সম্ভবত আমি একলাই থেকে যাবো,

কিন্তু আমার সাবান থেকে এখনও বাড়ির গন্ধ বেরোয়।

আমি আমার সম্মান-সম্ভ্রম নিই, তাদের নগ্ন করি

আর সত্যি দিয়ে ধুই।

আমি সেই গন্ধটা আবার পেতে চাই,

কিন্তু আমি ভয় পেতেও খুব ভীত হয়ে থাকি।

আমি পলিটিকালি কারেক্ট এবং আমি ঘুমোতে পারি না।

এখনও আমার মাথাব্যথা করে আর এর থামার কোনও লক্ষণ নেই;

আমার অর্শ আছে আর আমার নাক বন্ধ;

আমি একটা বিষণ্ণ বুড়ো কুকুরের মতো যার লিঙ্গের হাল খারাপ

আর যে ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে তোমার পিছনে পিছনে যাচ্ছে।

 

কেউ একজন আমার ভিতরে হাত ঢুকিয়ে দেয় আর ভিতর থেকে সবকিছু বের করে আনে।

আমার নাড়িভুঁড়ি একটা বস্তার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

আমাকে তার ভিতরে নেমে সবকিছু আগের মতো গুছিয়ে রাখতে হয়,

কিন্তু আমার পায়ুপথে আমি দারুণ মজা অনুভব করি,

মনে হয় ওটা যেন উল্টে গেছে

এমন একটা জায়গার পিছনে যেখানে এটা একেবারে মানায় না।

আমার হারাবার কিছুই নেই আর তারপরে আমি এটা হারিয়ে ফেলি;

তুমি এইমাত্র আমার যুদ্ধজাহাজটি ডুবিয়ে দাও আর আমার অহংকারকে পিষে সমতলে পরিণত করো।

আমি তোমাকে পছন্দ করতে পারি না যদি না আমি অবসেসড হয়ে থাকি

তাই আমি একাই বসে থাকবো আর হতাশ হবো,

কারণ আমার বিশ্বাসের নিচে, আমি একটা বাচ্চা বই আর কিছু না।

 

আমার মন আবদ্ধ হয়ে আছে এবং আমি সেটা ফিরে পাচ্ছি না,

আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে আমি প্ররোচিত হয়েছিলাম

আর আমার সবচেয়ে ভালো অংশটা টয়লেটে শুয়ে আছে;

আর আমার কিছু আসে যায় না যদি কেউ আমাকে পছন্দ না করে,

আমি আমার যত জয়ের স্মারক একটা পাত্রে রাখি তার মধ্যে পেচ্ছাপ করব বলে;

আমার দক্ষতা আছে কিন্তু কিছু একটা নেই,

আমি পৃথিবীকে বলতে চাই, কিন্তু আমার কথা শোনার জন্য দাঁড়ায় না,

তাই মেরুদণ্ডে একটা তাগড়াই লাথি মেরে আমাকে আমার দুর্দশা থেকে উদ্ধার করো

আর আমাকে এমনভাবে মারো যেন আগামীকাল বলে কিছু নেই,

কারণ বিরক্ত হওয়ার চেয়ে অন্য সবকিছু ভালো।

তুমি আমায় মুক্ত করেছ ___ হ্যাঁ, তোমায় অজস্র ধন্যবাদ।

আমার মাথা রাইটার্স ব্লকে ঠাসা

ঘড়িতে অনেকগুলি মাইল।

আমি গ্রামাঞ্চলকে ভীষণ ঘেন্না করি,

আমি একটা গর্ত খুঁজে পেতে চাই, তার ভিতর হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকে সত্যের অধরা সুগন্ধ পেতে চাই।

কিন্তু আমার কথা যথেষ্ট হয়েছে _____ এবার তোমার কথা হোক। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবিতা

সম্পাদকের কথা

দ্বিতীয় বর্ষ  ।। অষ্টম সংখ্যা ।। মার্চ ২০২২   খুব অসহায় লাগছে এবার। আমাদের ডান পাশে ধস। বায়ে গিরিখাত। মাথায় বোমারু। পায়ে পায়ে হিমানীর ব...