শনিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২১

কাব্যগ্রন্থ আলোচনা : সুবীর সরকার


 

উদয়ার্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়।বাংলা কবিতায় এক প্রখর তারুণ্যের নাম।উত্তরাঞ্চলের কোচবিহারে বসেই শূণ্য দশকে কবিতা লিখতে আসা এই কবি কাজ করে চলেছে বাংলা কবিতা নিয়েই।অর্জন করেছে নিজস্ব স্বর।নিজস্ব উচ্চারণ।সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে উদয়ার্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘নাম ধরে ডাকা বারণ’।মালদার ‘শহরতলি’ প্রকাশনার এই বইটির নান্দনিক ও প্রতীকি প্রচ্ছদ করেছেন প্রশান্ত সরকার।প্রথম কবিতার বই ‘মৃত্যুর পর যে ঘোড়ায় চড়ে তুমি দেশ পেরোবে(২০১৬)’-টিতেই উদয়ার্ণব বন্দ্যোপাধ্যায় তার মেজাজ ও জাত চিনিয়ে দিয়েছিলেন।খুব সচেতন পাঠকের জন্যই তার কবিতা।অত্যন্ত সময় ও সমাজসচেতন এই কবি চারপাশের সবকিছু,সমস্ত অন্ধকার ও আলোর দিকে সজাগ নজর রেখে চলেন।মানুষের বিষাদ ও বিপন্নতাগুলিকে তীব্রভাবে ছুঁয়ে যান তিনি।তার কইতা আমাদেরকে ভাবায়।গভীর এক প্রশ্নের দিকে নিয়ে যায়।কবি বলেন_


‘অশান্ত চোখের দিকে তাকিয়ে আছে মানুষ,


অশান্ত চোখের ভেতর জমিয়ে রেখেছে ক্ষোভ হিংস্রতা,


যে স্বার্থের জোরে ভিড় করে আছে ফ্যাসিস্ট সংগঠন


এভাবে দেখে নিও তুমি


ইতিহাস মুখ বন্ধ করে থাকবে না’।


মারী ও মড়কের এই দেশ,এই বিশ্ব,প্রতিপল যেখানে ধর্ষিত হয় মানুষ আর মানবতা।পুজির দাপটে বিপন্ন হয়ে পড়েন ভূমিলগ্ন জনমানুষ।সেই প্রতারিত ও বিপন্ন মানুষের কথা,তাদের যাপন,তাদের ভাঙা জীবন আর তুমুল স্বপ্ন দেখবার চিরকালীন আকাঙ্খা উদয়ার্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কবিতায় উঠে আসে আন্তরিকভাবেই_


‘পৃথিবীটা একটা নিরেট হৃদপিণ্ডের সমাধিস্থল।যেখানে


ভালোবাসার এক মুমূর্ষূ ভিক্ষুক খড়ের কবরের নীচে বাস করেন।




আমরা তার রূপকথার ভেতর নুন ঢেলে দি’।


 ২৭ টি কবিতা দিয়ে জমিয়ে তোলা এই বইটির সবচেয়ে বড় দিক হলো উদয়ার্ণব বন্দ্যোপাধ্যায় তার কবিতায় প্রতিবাদের এক দীর্ঘ সংগীত শুনিয়ে গেছেন,কিন্তু কোন কবিতাই কিন্তু স্লোগান হয়ে যায় নি।তার শব্দের ভেতর সুর ও সুরেলা প্রপাতের ধ্বনি তুমুল আচ্ছন্ন করে তোলে।প্রেম মিশে যায়,প্রিয় নারীর মুখের ছায়ায় কবি আমাদের শোনাতে থাকেন_


‘আমি সমস্ত মজা দিয়ে লিখছি সাদর আমন্ত্রণ,


যে চৌরাস্তার মোড়ে আমাকে একদিন উলঙ্গ করে জ্বালিয়ে


দেওয়া হবে,


সেই দেশটার নাম তোমরা খুঁজে পাবে আমার কবিতার খাতায়’


গোটা বই জুড়ে কান্নাঘর।বারুদশলাকা।ঝাপ্সা রোদের শিখরে বসে থাকা মেয়েরা।এক অদ্ভূত ঘোর বিছিয়ে দিতে থাকেন কবি_


‘হে মহামান্যগণ আপনারা সবাই দাঁড়িয়ে দেখুন


এক


দুই


তিন


আমরা প্রগতিশীল হলে আপনাদের ইজ্জত চলে যায় কিনা’


কুর্নিশ,কবি উদয়ার্ণব বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাকে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবিতা

সম্পাদকের কথা

দ্বিতীয় বর্ষ  ।। অষ্টম সংখ্যা ।। মার্চ ২০২২   খুব অসহায় লাগছে এবার। আমাদের ডান পাশে ধস। বায়ে গিরিখাত। মাথায় বোমারু। পায়ে পায়ে হিমানীর ব...