অনাহারী আফ্রিকান
উদ্বাস্তু শিবিরে অনাহারী আফ্রিকান মানুষগুলো
ত্রাণের অপেক্ষায় নির্বিকার দাঁড়িয়ে আছে।
ক্ষুধা,কৃমি ও জখমে ক্ষত-বিক্ষত ওদের শরীর;
শরীরের দগদগে ক্ষতগুলোতে
ডুমো মাছি উড়ে উড়ে বসছে
দুঃখ ওদের মুখ থেকে আনন্দ কেড়ে নিয়েছে।
অনাহারী আফ্রিকান মানুষগুলো দুর্দশায় আবদ্ধ।
কামারের তৈরি ওদের প্রদীপগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে
এবং তরোয়ালগুলো মরিচা পড়তে পড়তে
ভেঙে পড়া কুটিরের কোণায় পড়ে আছে।
পেঁচা আফ্রিকানদের মাটির ঘরের মাথায় গান গায়
আর, বন্যা এসে ওদের ঘরগুলো বিলীন করে দেয়।
ওরা কেবল চিতার চামড়া পড়ে থাকে
ঘন বনের ভিতর নিরাপদে ঘুমিয়ে পড়ার আশায়।
একজন অনুগত দাস
মনিবের অনুগত দাস
শুভেচ্ছাযুক্ত একটু তালি পেলেই
পুলকিত হয়ে ওঠে উষ্ণ হৃদয়ে।
আবর্জনার স্তূপ পরিষ্কার করে নিমিষেই
সে তার মনিবের পা মোছে।
মাটির হাঁড়ি ও ঢাকনার সম্পর্কের মতোই
সে তার মনিবের সাথে সীলমোহরে আবদ্ধ।
সে তার মনিবের ভুট্টার খেত দেখে
আর পরম যত্নে তাদের ভাঙা বর্শা মেরামত করে।
সে এক অনুগত দাস বাড়িতে ভুট্টার ভাণ্ডার এনে পশ্চিম আফ্রিকার তাজা মদের মতোই নিজ হাতে
চোলাই মদ বানায়।
সে এক বিশ্বস্ত দাস এবং নীল নদের শক্ত
নলখাগড়ার মতোই তার শক্তি অপ্রতিরোধ্য।
আফ্রিকান শিশু
আমি এক আফ্রিকান শিশু।
কোমল, শান্ত আর নরম।
প্রতি সকালে আমি জেগে উঠি
আমার নলখাগড়ার তৈরি বিছানা থেকে
এবং আমার আশার কুটির থেকে
আমি প্রসারিত করি;আমি প্রসারিত করি
আমার অমিত সম্ভাবনাগুলো ।
ভোরের প্রথম সূর্যশিখার সাথে আকাশ ছড়িয়ে পড়ে
এবং এটিই আমার চোখে প্রথম উদ্ভাসিত বিষয়।
আমার কান সমুদ্রের শিস শোনে
এবং গাছের গানগুলো বাতাসে বাতাসে উড়ে চলে।
পাহাড়ের শীর্ষ প্রদেশ আমার খেলার মাঠ
তা যেন মার্গারিটার রসের উপরে তুষারের মতো ঠান্ডা
এবং স্বর্গের মতো শান্ত।
আমি এক আফ্রিকান শিশু
ক্রেস্ট ক্রেইন সারসে মতো নিষ্পাপ;
বিষধর মুখরা মহিলার মতো ঘৃণ্য নই।
তবুও মাঝে মাঝে আমি মারাত্মক হয়ে উঠি
সেরেঙ্গেটির সক্ষম সিংহের মতো।
আমি আফ্রিকাকে নিয়ে লজ্জিত নই।
আমার পূর্বপুরুষেরা আদিম জীবনসত্তা নিয়ে
এখনো নড়েচড়ে ওঠেন;
তারা আমাকে নরোঙ্গোরো পশুচারণ ক্ষেত্রের মতো
সম্পদের প্রাচুর্যতা দিয়ে আশীর্বাদ করে গেছেন।
আওয়াদিফো ওলগা কিলি ১৯৯৮ : সালে আফ্রিকার উগান্ডায় জন্মগ্রহণ করেন। মূলত কবি;তবে লেখক,মানবাধিকার কর্মী ও সোস্যাল একটিভিস্ট হিসেবে তার ভূমিকা অনন্য। বর্তমানে উগান্ডার পেনটেকোস্টাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশাস্ত্রে পড়াশুনা করছেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন