রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

গদ্য ।। সুরজিৎ প্রামাণিক


 নৈরাজ্য ও অবক্ষয়ের কবি শামশের আনোয়ার




শামশের আনোয়ার গত শতাব্দীর ষাটের দশকের অন্যতম একজন বলিষ্ঠ কবি। ষাটের দশকের বাংলা কবিতায় উল্লিখিত আন্দোলন গুলির কোনটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থেকেও, হাংরি আন্দোলনের প্রচ্ছন্ন প্রভাব তাঁকে চালিত করেছিল বলে মনে হয়। প্রবল নৈরাজ্য, নৈরাশ্য, আত্মক্ষয়, নৈতিক অবক্ষয়ের ক্লান্তি ঘিরে ধরেছিল কবি শামশেরকে। ষাটের সমাজ ও সময় সম্পর্কে অহ্নিক বসু তাঁর 'একটি হিমশীতল স্বীকারোক্তি : শামশের আনোয়ারের কবিতা' শীর্ষক প্রবন্ধে লিখেছেন ---


"বাইরে স্বাধীন ভারতের স্বপ্নের ধ্বংসস্তূপ, প্রত্যাশার লাশ, চীন- ভারত যুদ্ধ, কমিউনিস্ট পার্টির ভাঙ্গন, নকশাল আন্দোলন। আর ভেতরে মেধাজীবি মধ্যবিত্তের বিষন্ন একাকীত্ব। এই দশকেই সোমেশ নন্দীর নাটকে অ্যাবসার্ড চিন্তাধারার সাথে আমাদের পরিচয়, অন্তঃসারশূন্য ছকে বাঁধা জীবন নিয়ে প্রশ্ন এই প্রথম। এই দশকেই বাদল সরকারের 'এবং ইন্দ্রজিৎ', মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু সংবাদ। কবিতার ক্ষেত্রেও পাল্টে গেল অনেক কিছু।"


অর্থাৎ সমকালই শামশের আনোয়ারকে ভয়ঙ্কর নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিয়েছিল তা বলাই যায়। ফলে শামশের আনোয়ারের কবিতা সমকালকে প্রেক্ষাপটে ধারণ করে হয়ে উঠেছিল তীব্র অস্বস্তিকর। তাই শামশেরের কবিতা নান্দনিক সহ্যের সীমাটিও পার হয়ে গেছে অনবরত। এই প্রসঙ্গে ব্যক্তি শামশের সম্পর্কে আমরা বিশেষ কিছু জানতে পারি দে'জ প্রকাশিত তাঁর শ্রেষ্ঠ কবিতার ভূমিকায় তাঁরই বন্ধু কবি ভাস্কর চক্রবর্তীর স্মৃতিচারণে--- 


"শামশেরের সঙ্গে বন্ধুত্বটাই ছিলো একটা বাঘের সঙ্গে বন্ধুত্বের মতো। এতটাই উদ্দামতা, সজীবতা, দুঃসাহসিকতা ছিল শামশেরের--- এতটাই আক্রমনাত্মক, বিষন্ন আর ক্ষুব্ধ--- এতটাই আন্তরিক ছিলো শামশের--- এতটাই আন্তরিক যে, প্রকৃত শামশেরকে খুঁজে পাওয়াই ছিলো মুশকিল।"


এবং সেইসঙ্গে কবি ভাস্কর চক্রবর্তী আরও বলেন--- 


"আমাদের ভাষায় এমন সশস্ত্র এক আধুনিক কবি, সত্যিই, খুঁজে পাওয়া ভার।"


অর্থাৎ শামশের আনোয়ার কবি হিসেবে একইসঙ্গে সশস্ত্র এবং আধুনিক। কারণ তিনি প্রকৃত অর্থেই একজন সময়ের যথার্থ সন্তান এবং তাঁর কবিতা প্রকৃতপক্ষে সময়েরই যথার্থ অর্জন হয়ে উঠেছে। তাই শামশেরের সমস্ত কবিতাই এক অর্থে আত্ম-জৈবনিক। মাত্র তিনটি কবিতার বই লিখেই বাংলা কবিতায় অনন্য নজির স্থাপন করে গেলেন তিনি। তাঁর কাব্যের বই---


'মা কিংবা প্রেমিকা স্মরণে', 

'মূর্খ স্বপ্নের গান' এবং 

'শিকল আমার গায়ের গন্ধে'। 


তাঁর 'মা কিংবা প্রেমিকা স্মরণে' কাব্যগ্রন্থের নামকরণে আমরা এক অদ্ভুত চমক দেখি। সেখানে অন্যান্য জটিলতার সঙ্গে ইদিপাস কমপ্লেক্স- এর কি কোন সম্পর্ক আছে ! 


"আমি তোমার সবুজ তলপেট জরায়ু আর হৃদয় খুঁড়ে- খুঁড়ে

ফিরে পেতে চেয়েছিলাম স্মৃতির ধ্বংসাবশেষ।

কুসুমিত স্তনদুটির কাছে প্রার্থনা ছিলো

তোমার মায়ের কৈশোরিক গোলাপের ঘ্রাণ

অই সুড়ঙ্গেতে আছে তাঁর বালিকাবেলার অব্যবহৃত চোরাকুঠুরী

অথচ তুমি কোনোদিনই গর্ভধারণের মতো ঘনিষ্ঠ হলে না।"

---('মা কিংবা প্রেমিকা স্মরণে')


এই কবিতাংশে অবদমিত যৌনতার কাব্যিক রসাভাস মা এবং প্রেমিকাকে কোন বিচ্ছিন্ন বোধে পৃথক করে না। কারণ--- 


"তোমার শরীরের পাতায় পাতায় আমি খুঁজেছি তারই রক্তের দাগ

বুকের মধ্যাহ্ন আকাশে যৌবনের দীপ্ত জ্বালা

---(মা কিংবা প্রেমিকা স্মরণে) 


যে প্রেমিকার মা পাগলিনী প্রায় হয়ে ব্যকুল বাঘিনীর মত কবিকে স্তন্যপান করিয়েছিলেন একদিন, কবির তৃষ্ণার কান্নায় যার শুকনো বুকে দুকুল ছাপিয়ে দুধের বান ডেকেছিল, কবি তাঁর উদ্দেশ্যেই বলেন---


"আমি তাঁর গর্ভের চোরা কুঠুরিতে ঘুনের মতো লুকিয়ে বেঁচেছি" 

---(মা কিংবা প্রেমিকা স্মরণে) 


যৌনতার এহেন সীমা লংঘনকারী বাস্তবতা তাঁর কবিতাকে অচিরেই সেই সময়ের কবিতার মধ্যে স্বাতন্ত্র্য এনে দিয়েছিল। 


শামশের আনোয়ার তাঁর জীবন- যাপনে এবং কবিতায় এমনই এক আধুনিকতার সন্ধান করেছিলেন, যা অকৃত্রিম যুগ- পরিহাসের অনেক উপরে। তিনি লিখতে পারেন---


"তোমার শরীর ডাক্তারের চেম্বারের মতো

সুবিন্যস্ত, জটিল ও দ্যুতিময়

আমি ঐ শরীরের তীব্র ভেষজ গন্ধ, বক্রমুখ পিপাসু ছুরি

ও রক্তাক্ত ব্যান্ডেজ তুলো খুঁজে পাই

অথচ ওসব কিছুই আমার ভালো লাগে না

আমার বড়দিনে পিকনিক, কলকন্ঠ হাসি

কিংবা প্রচুর স্বাস্থ্য ভালো লাগেনা

ওষুধের গন্ধ-মাখা আধুনিকতা ভালো লাগে না আমার।"

---(তোমার গলার স্বর টেলিফোনের ওপাশে) 


ওষুধের গন্ধমাখা আধুনিকতা অর্থাৎ মেকি স্মার্টনেস ও কৃত্রিমতাকে বর্জন করে তিনি হতে চেয়েছেন অকপট। সম্ভ্রান্তের সমস্ত ঐশ্বরিক শর্তকে নস্যাৎ করে তিনি নেমে আসতে চেয়েছিলেন ভনিতাহীন পৃথিবীর নিকৃষ্টতায়। কিন্তু সেখানেও যখন তিনি তাঁর ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাকে স্পর্শ করতে পারেন না, তখন সেই আত্মিক অবদমন তাঁকে হতাশাগ্রস্ত করে। বৃথা রোমান্টিকতার তীব্রতম তরীটি ভাসিয়ে তিনি নতুন কোনো আশাবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে চান না তার কাব্যিক বোধের বৈতরণীতে। তাই জীবনানন্দের মত বলিষ্ঠ কবির আশাবাদী উচ্চারণকে তিনি সরাসরি গ্রহণ না করে কখনও কখনও বরং ত্রিশের আর এক অন্যতম উল্লেখযোগ্য কবি সমর সেনের পথেই হাঁটতে ভালোবেসেছেন। জীবনানন্দের স্বপ্নরূপ পৃথিবীর ভেতর আরেক পৃথিবী নির্মাণের যে অতি-বাস্তব পংক্তিমালা ছড়ানো থাকে বাংলা কবিতায়, তাকে প্রকৃতপক্ষেই অধরা বলে মনে হয় শামশেরের। বরং কলকাতার আজন্ম নাগরিক কবিতার আবশ্যিক রোমান্টিকতাকে পরিহার করে পঙক্তির পর পংক্তিতে তিনি সমর সেনের মতো হতে চেয়েছেন কঠোর বাস্তববাদী এবং অবসেসিভ---


''কোনো বিদর্ভ নগরী আমার স্বপ্নের ভিতর জেগে ওঠে না

ইতিহাসে কোনো অর্থ নেই মূঢ়তাও ভ্রান্তি ছাড়া

যে নারী আমাকে পথে বসালো তার ক্রুর হাসির ছাপ

লেগে আছে ইতিহাসের পৃষ্ঠায়

আমি জানি মানুষের কোনো উত্তরণ ক্লিওর আঁচলে বাঁধা নেই

এই কলকাতা আর আমার নিঃসঙ্গ বিছানা ছাড়া কোনো সত্যের

অপেক্ষা আমি রাখিনা"

---(এই কলকাতা আর আমার নিঃসঙ্গ বিছানা) 


তিরিশের দশকে পরাধীন ভারতে কবিতা লিখতে বসে জীবনানন্দ দাশ যখন জগতের নিঃসীম ভয়াবহতাকে উল্লেখ করেও, কলকাতা শহরের প্রাত্যহিক জীর্ণতা, মূঢ়তা ও ক্লীবত্বকে প্রকাশ করেও, আশাকে অক্ষুন্ন রেখে বলেন---


"কলকাতা একদিন কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে 

তবুও তোমার কাছে আমার হৃদয়।"

---(সুচেতনা) 


সেখানে কবি শামশের আনোয়ার কলকাতাকে নিঃসঙ্গ বিছানা বলে উল্লেখ করেন, স্বাধীন দেশের একজন নাগরিক হয়েও। আসলে উত্তর ঔপনিবেশিক কলকাতার নৈতিক নীচতাকে, নাগরিক জীবনের ক্লান্ত ঔদাস্যকে কুষ্ঠরোগীর জল চেটে খাওয়ার অধঃপতনের মতোই নগ্নভাবে প্রকাশ করেন শামশের। এই উত্তর-ঔপনিবেশিক নৈরাজ্যের ভার তাঁকে দিয়ে লিখিয়ে নেয়---


"প্রেম আর স্মৃতি আমি উড়িয়ে দিয়েছি সিগারেটের ধোঁয়ায়

জ্বর আসে নি তবুও আমি জ্বরের ঘোরেই বাঁচি 

মদের ঘোরে ভাঁড়ামো ক'রে আমার দুপুর কাটে 

মাড়ওয়ারি দম্পতির নির্লজ্জ সঙ্গম দেখে ছাদের ওপর

রাত্রির প্রহর পুড়ে যায়"

---(এই কলকাতা আর আমার নিঃসঙ্গ বিছানা) 


এক্ষেত্রে কি বাংলা কবিতার পাঠকের স্মৃতিতে পূর্ব কবি সমর সেনকে মনে পরেনা ! যিনি শামশেরের থেকে বহুদিন বেশি বেঁচে থেকেও কয়েকটি মাত্র কাব্যগ্রন্থ লিখে কবিতা লেখা থেকে স্বেচ্ছা- অবসর নিয়েছিলেন। 'উর্বশী' কবিতায় সেই সময় দাঁড়িয়ে তিনি লিখেছিলেন---


"তুমি কি আসবে আমাদের মধ্যবিত্ত রক্তে

দিগন্তে দুরন্ত মেঘের মতো !

কিম্বা আমাদের ম্লান জীবনে তুমি কি আসবে,

হে ক্লান্ত উর্বশী,

চিত্তরঞ্জন সেবাসদনে যেমন বিষণ্নমুখে

উর্বর মেয়েরা আসে :

কত অতৃপ্ত রাত্রির ক্ষুধিত ক্লান্তি,

কত দীর্ঘশ্বাস,

কত সবুজ সকাল তিক্ত রাত্রির মতো,

আরো কতদিন !"

---(ঊর্বশী)


কিংবা---


"আমি নহি পুরুরবা হে উর্বশী' 

মোটরে আর বারে

আর রবিবারে ডায়মন্ড হারবারে

কয়েক টাকার কয়েক প্রহরের আমার প্রেম,"

---(স্বর্গ হতে বিদায়) 


কিন্তু সমর সেনের কবিতায় যে নার্ভাস স্ট্রংনেস পাওয়া যায়, পাওয়া যায় আভিজাত্যের সুউচ্চ টাওয়ার থেকে কলোনিয়াল কলকাতার নৈরাজ্য ও অধঃপতনের দর্শন, তারও তিক্ত ঐতিহাসিক দু'দশক পরে ফ্যাসিস্ট শাষিত কলকাতার নাগরিকদের একজন হয়েই শামশের কবিতা লিখেছেন। জীবনানন্দের অতি- বাস্তবতার রোমান্টিক স্বপ্নময়তা থেকে সরে এসে তাই শামশেরকে সমর সেনের রুক্ষ বাস্তবের পথ গ্রহণ করতে হয়েছে। যদিও সমসাময়িক সময়ে তাঁর কবি জীবন এবং কবিতার ফ্রম একত্রিত হয়ে তৈরি হয়েছিল তাঁর কাব্য প্রবণতা। সেই প্রবনতা থেকে নিজের জবানিতেই তিনি উদ্ধৃত করেন--- 


"ইনসমনিয়া নাইটমেয়ার, নার্ভাস ব্রেকডাউন, অর্থাৎ ফিয়ার অফ সাইকোসিস ছাড়া আমার পক্ষে সম্ভব হত না কবিতা লেখা"


আর এটাই প্রকাশ করে একজন প্রকৃত কবির লেখার অথেন্টিক প্রসেস। ফলোতো শামশেরের কবিতায় আছে এক চূড়ান্ত মর্বিডিটি। প্রথাগত মৃত্যু চেতনার সঙ্গে যার আকাশ পাতাল পার্থক্য। এ প্রসঙ্গে কতগুলি পংক্তি পরিলক্ষণ করলেই তা স্পষ্ট হবে পাঠকের কাছে----


১। "খোলা ব্লেড দেখলে তৃষ্ণায় আমার গলা জ্বলে

পাখার হুক দেখলে মনে পড়ে যায়। 

সোনালী পাশের কথা"

---(এই কলকাতা আমার নিঃসঙ্গ বিছানা) 


২। "হতাশার লোমে ভর্তি কদাকার হাত 

আমার গলা চেপে ধরে"

---(জীর্ণ ছবি) 


৩। "আজ আমি খুরপি নিয়ে শুয়েছি

কোপাবো নিজেকে"

---(পৌরাণিক) 


৪। "নিজেকে আহার করো--- এসো

পান করো নিজের সমস্ত অনুতাপ ও বর্ষণমুখর বৃষ্টির ধারা"

---(বর্ষা) 


আত্ম- পীড়নের এত এত উপাদান শামশের তাঁর কবিতায় উল্লেখ করেছেন যে, কখনও কখনও তিনি পাঠকের কাছে অস্বস্তিকরও হয়ে উঠেছেন। সময়ের ব্যর্থতম কদর্যতার উপর যারা ভদ্রতাকে কৃত্রিমভাবে বজায় রাখে সেই সুসভ্যতার প্রতিভূদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন---


"আমি তোমাদের মুখের ওপর ছড়িয়ে দিই থুতুর নক্ষত্রমালা।"

---(থুতু ) 


শামশেরের কবিতা উত্তম পুরুষে লেখা। সেখানে যে 'আমি' ব্যবহৃত তার একটি সময়ের যন্ত্রণাকে চিহ্নায়নের প্রতীক রূপে সমকালীন সমাজ থেকে সৃষ্ট হয়েছে। নিছক ব্যক্তি আমির মধ্যে তা আবদ্ধ নয়। শামশেরের এই 'আমি' ক্ষোভ, ক্রোধ ও বিবমিষার সংমিশ্রণ। যা তাঁর ব্যক্তি-জগৎ থেকে উঠে আসা, কিন্তু রাস্ট্র-প্রসূত। 


প্রচলিত চিত্রকল্পময়তার এক বৈপরীত্য এবং পরাবাস্তবতার এক নতুন ভঙ্গি তাঁর কবিতায় দেখা গেছে। যা কেবল নিছক বর্ণনা হয়ে থাকে নি। তাঁর কবিতার ভাষাও পেলব নয়। যেমন---


১। "আক্রোশে চিবাই পাথর"

২। "আক্রোশে চিবাই জ্যোৎস্না"

৩। "অজন্তার পাথরে দেখি মাটি ও মলের বিপ্লব"


জীবনানন্দ উত্তর বাংলা কবিতায় এক নতুন প্রকাশ- ভঙ্গির কবি হিসাবে তাই শামশের চিহ্নিত হতে পারলেন। যে কারণে সুনীল গাঙ্গুলী তাঁর কবিতার স্বীকৃতি স্বরূপ প্রথম কৃত্তিবাস পুরস্কার কবি শামসের আনোয়ারকেই অর্পণ করেছিলেন। 


তাঁর কবিতা নিজে ব্যক্তিজীবনের বেপরোয়া স্বভাবের মতোই রাগী ভাষায় নির্মিত। তিনি প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙেছেন, চূর্ণ করেছেন তাঁর কবিতায়। এই ভাঙ্গন যেন "চোখের সুরঙ্গ দিয়ে উড়ে যায় মাথার জঙ্গলে"। পাশাপাশি তাঁর কবিতায় এক প্রবল অস্থিরতাবোধ পরিলক্ষিত হয়েছে বারবার। কাজেই প্রাবন্ধিক অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্যের একটি উক্তি শামশেরের কবিতা প্রসঙ্গে আমাদের কাছে ভীষনই প্রাসঙ্গিক মনে হবে--- 


"স্বদেশ সমাজ ও ইতিহাসের পালাবদলের দিনগুলিতে চরম বিচ্ছিন্নতার আগ্রাসী অন্ধকারই সেদিনের বহু তরুণ কবির কাছে সার্বভৌম ও অবিকল্প হয়েছিল। নাস্তির তিমির তখন এতই দুর্ভেদ্য যে, দান্তের নরকও সম্ভবত কাম্য তার চেয়ে।" 


মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় আর মানুষের বীভৎস উউন্মাদনায় উত্তাল নগরীর বুকে কবি শামশের আনোয়ার হতাশা ও ক্লান্তিতে দীর্ণ হয়েছেন নিরন্তর। কিন্তু প্রশ্ন হল--- তিলোত্তমা নগরী কি সবসময়ই কবিকে হতাশায় ভরিয়ে দিয়েছেন। সেখানে কি কখনই কোন মঙ্গলের বার্তা ছিল না ! নিশ্চিত ছিল। অথচ মঙ্গলের দিনেও প্রবল এক অমঙ্গলের আশঙ্কায় কবি থরথরিয়ে কেঁপে উঠেছেন বারবার। যখন শঙ্খের পবিত্র ধ্বনি উঠেছে আকাশে- বাতাসে, তখনই কবির শূন্য বুকের ভেতর জীর্ণ পাতা ঝরে পড়েছে অবিরল ধারায়। আসলে মানব জীবনের সংঘাত বিপন্নতায় কবি অসহায় বোধ করেছেন। শঙ্খ আর উলুধ্বনির শুদ্ধ স্রোতে তিনি তাই অবগাহন করার পরিবর্তে বরং তাঁর অসহায় চোখ হারিয়ে গেছে আসমুদ্র নিঃসঙ্গতার অতলে। কাজেই পৃথিবীর নির্জনতম দ্বীপের গভীরে যে শূন্যতা নিহিত আছে, সেই প্রকাণ্ড শুন্যতার মত কবি উপলব্ধি করেন মানুষের চৈতন্যের মড়ক। তাই বক্তব্যের বিন্যাসে, আঙ্গিকের তাৎক্ষণিক চমক সৃষ্টি করার পরিবর্তে কবি শামসের আনোয়ার আরও ভয়ংকর ভাবে দেখাতে পারেন পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এর ইতিবৃত্তটি। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই কবির আকাঙ্খার সমগ্রতা জুড়ে খেলা করে যায় এক বিদীর্ণ পৃথিবীর নিঃসঙ্গ আর্তনাদ। কবি লেখেন---


"আজ এই মঙ্গলের দিন কী এক ঘোর অমঙ্গলের ভয়ে

আমার সমস্ত আঙুল ভীতা জননীর মতো কেঁপে ওঠে

তোমাদের শঙ্খের ধ্বনি এই নিষ্পত্র বুকের ভিতর

করুন ফুঁ দিয়ে জীবনের শীতরিক্ত পাতাগুলো ঝরিয়ে দেয়। 

যেন দূর দিগন্ত ভেঙে ছুটে আসে সন্ন্যাসীর আহ্বান

তোমাদের উলুধ্বনি আর চুলের কলরবের স্রোতে

আমার দুই অসহায় চোখ বারবার করুন পাক খেয়ে

হারিয়ে যায় ভীষণ নিঃসঙ্গ"

---(এই মঙ্গলের দিন ) 


প্রসঙ্গত লক্ষণীয় যে, 'এই মঙ্গলের দিন' শিরোনামটিকে কবিতায় ধারণ করলেও কবি আদতে মঙ্গলের শুভ মুহূর্তেও অশুভ অমঙ্গলের আশঙ্কায় জর্জরিত হয়ে যান। এক্ষেত্রে আমাদের মত সাধারণ পাঠকের মনে জাগতে পারে তিরিশের অন্যতম কবি জীবনানন্দের 'সুচেতনা' শীর্ষক কবিতাটির কথা। সেখানেও কবি, আলোকিত চেতনা স্বরূপিনী সুচেতনাকে কবিতার শিরোনামে স্থান দিলেও, আদতে সমগ্র কবিতাটির শরীর জুড়ে পৃথিবীর অসহায় আর্তনাদ আর মানুষের সামাজিক, মানবিক ভাঙনের ইতিকথাটিকেই যেন তুলে ধরতে চাইলেন। মানুষের চৈতন্য সত্তার জাগরণ হলে মুক্তির আলোর দীপ্তি উদ্ভাসিত হয়, কিন্তু যে চেতনায় নিরন্তর পাপের বিষ প্রবাহিত হয়, সেই চেতনাকে জাগ্রত করার পথ কে বা জানে। তাই আলোকিত চেতনা স্বরূপিনী সুচেতনা আমাদের লৌকিক পৃথিবী থেকে অনেক দূরে যেন কোন এক কল্পনাপ্রসূত জগতে চলে গেছে। কবির মনে হয়---


"কেবলি জাহাজ এসে আমাদের বন্দরের রোদে

দেখেছি ফসল নিয়ে উপনীত হয় ;

সেই শস্য অগণন মানুষের শব ;

শব থেকে উৎসারিত স্বর্ণের বিস্ময়

আমাদের পিতা বুদ্ধ কনফুসিয়াসের মতো আমাদেরও প্রাণ

মূক করে রাখে ; তবু চারিদিকে রক্তক্লান্ত কাজের আহ্বান।"

---('সুচেতনা'/ জীবনানন্দ দাশ) 


কবি জীবনানন্দ যেখানে পৃথিবীর চারিদিকে রক্তমাখা কাজের আহ্বান শোনেন, সেখানে কবি শামশের আনোয়ার যুগের ক্লান্তি, বিষণ্ণতা ও বিতৃষ্ণার ছবিটি প্রত্যক্ষ করেন। তাই আমাদের পিতা- প্রপিতামহরা বুদ্ধ কিংবা কনফুসিয়াসের মত মহাজ্ঞানী হলেও, পিলসুচের তলার অন্ধকার ঘোচাতে পারেন না। কাজেই সময়ের ঘোর অন্ধকারে কদর্য সর্বনাশের রেড ক্রসিং কবি শামশের আনোয়ারকে ক্রমাগত ভীতসন্ত্রস্ত করে। তবুও কবি তো সমাজের মধ্যে বাস করে, সমাজেরই একজন রক্তমাংসের মানুষ ফলে পারিপার্শ্বিক বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মায়াজালেই কবি তাঁর মানব অস্তিত্বটিকে খুঁজে পেতে চান। অজ্ঞানতার নিবিড় অন্ধকারে বেঁচে থাকা মানুষের জীবনে কবি তাঁর ব্যক্তিজীবনের ঘোরালো সিঁড়িটি বেয়ে "নীরব আহুতির মত ঝ'রে পড়ে''-ন। সেখানে প্রেমিকার ললাট বিবাহের হোমাগ্নি স্পর্শ করলে, কবি তাঁর কাব্যিক বোধের সীমাটিতে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ করেন, তা যেন বিবাহের হোমের আগুন নয়, প্রকারান্তরে তা যেন প্রেমিকার চিতার দাউ দাউ আগুন। যে আগুনে প্রেমিকার মুখাগ্নি হয়, আর বিষন্ন যুবকেরা হতাশ ভঙ্গিতে বিষণ্ণতার গান গেয়ে চলে। আসলে কবি এখানে দেখাতে চান প্রতিটি মানুষই তার নিজের কাছে কী ভীষণ অসহায়, মানব সংসার ও মানব সভ্যতা তাদেরকে কি সাংঘাতিক বঞ্চনার শিকার করে। তাই কবি বলেন,---


"বিবাহের হোম ছুঁয়ে দেয় তোমার কপাল

আমি দেখি তোমারই চিতা ঘিরে কয়েকটি বিষন্ন যুবক

উদাস স্বরে গান গায়

আগুনের সাতটি শিখা (গম্ভীর স্বরে বলেছিলো পুরোহিত) 

আমি দেখি আগুনের সাতটি শিখায় তোমার সাতটি

স্বপ্নের শরীর ওই অচেনা পুরুষের আঙুলের ফাঁক দিয়ে

নীরব আহুতির মতো ঝরে পড়ে"

---('এই মঙ্গলের দিন') 


অবক্ষয়ের এই চূড়ান্ত বিকার কবি বিষ্ণু দে-র কবিতাতেও প্রবলভাবে রূপ লাভ করেছে। বিষ্ণু দে তাঁর 'স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত' কাব্যগ্রন্থে দেখিয়েছেন গ্লানির প্রগাঢ় অন্ধকারে ঢেকে গেছে মানুষের অতীত। মানুষের সত্তার বর্তমান অস্তিত্বটিও ক্লেদপঙ্কিল হয়ে উঠেছে। আর ভবিষ্যৎ জনজীবন ভয়াবহ এক রণসাজে কেমন সজ্জিত। আমাদের চেতনার আকাশ নির্বোধ অমানুষিক নিষ্ঠুর অভদ্রতার অপঘাতে দগ্ধ হয়ে গেছে। তাই বিবাহসভায় প্রচ্ছন্ন নরকে আজ বর না থাকলেও নানা রকম বরযাত্রীর ভিড় বাড়তে থাকে। যেখানে আমরা রয়েছি সেই মানবসভ্যতা নরকে পরিণত হয়ে গেছে। সেখানে বাঁচবার আসা আর বাঁচাবার ভাষা হারিয়ে যায়। সেখানে কান্নার সুর হয়ে যায় একঘেয়ে,---


"আজ শুধু একদিকে মুমূর্ষু বিকার

আর অন্যদিকে নাটুকে প্রলাপ নির্বোধ নিষ্ঠুর অমানুষিক অভদ্র।

কে দেবে ধিক্কার কাকে আঠারো তলায়

সারাদেশে চতুর্দিকে যত অবান্তর

উন্মাদ বিলাসী খেলা !"

---('স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত'/ বিষ্ণু দে) 


দেশে দেশে এই বন্ধ্যা ক্ষেতরূপ সভ্যতায় সৃষ্টির সরস ফসল ফলানোর জন্য আর কোনো অবিরল বর্ষা নেই। আকাশের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টির প্রার্থনা করলেও সকাল থেকে বিকাল অভাব- মৃত্যু- অনাহারে- অপঘাতে ভরে গেছে হৃদয়ের শুকানো দিঘী। তাই মৃত্যুর বিকারে নরকের ব্যঙ্গ চিত্র ফুটে ওঠে। আত্মার গ্লানিতে আমাদের অন্তর্গত রক্তক্ষরণের ভিতরে কেবলই অবসাদ আর বিপন্নতা। তাই কবি এই নরকের মানুষের টিকে থাকাকে দুঃস্বপ্নের মতো মনে করেন,---


"এ নরকে 

মনে হয় আশা নেই জীবনের ভাষা নেই,

যেখানে রয়েছি আজ সে কোন গ্রামও নয়, শহরও তো নয়,

প্রান্তর পাহাড় নয়, নদী নয়, দুঃস্বপ্ন কেবল,"

---('স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত'/ বিষ্ণু দে) 


একইভাবে কবি বুদ্ধদেব বসুও তাঁর কবিতায় দেখিয়েছেন দেশে দেশে পৃথিবীর উপকূলে লুব্ধতার লালা ঝরে। বর্বর রাক্ষস হাঁকে পৃথিবীতে সেই শ্রেষ্ঠ, সবচেয়ে বড়। উন্মত্ত জন্তুর মুখে জীবনের সোনার হরিণ কেঁপে ওঠে। কাজেই, আমরা পরিলক্ষণ করি শামশের আনোয়ার কিংবা তাঁর অগ্রজ কবিদের কাব্য অনুভূতিতে প্রবল এই নৈরাজ্য ও অবক্ষয়ের জঘন্য চিত্রটি। কিন্তু তবুও কবিরা তো আশাবাদী হন, ফলে তাঁদের আশাবাদের নিরিখে সভ্যতার মুক্তির আকাঙ্খাটিও ধ্বনিত হতে থাকে। তাঁরাএতসব কদর্য প্রলাপ প্রত্যক্ষ করার পরেও প্রেমে ফিরে যেতে পারেন। কারণ আমাদের রক্তের অসুখ প্রেমই সুস্থ করে দিতে পারে। সুতরাং শামশের আনোয়ারও সেই ভাবনার ব্যতিক্রমী নন। তাঁর কবিতায় এত রক্ত, এত হতাশা, এত ক্লান্তি, এত আত্মহননের গান থাকলেও, প্রেমকে তিনি অস্বীকার করতে পারেন না। বলা ভালো প্রেমের মহিমময় স্বরূপটিকে তিনি এড়িয়ে যেতে পারেন না। তাই 'ভালোবাসাহীনতার কষ্ট' কবিতায় কবি অপ্রেমের অসহায় যন্ত্রণাটি উপলব্ধি করতে পারেন,---


"একটা পতঙ্গভুক বৃক্ষের মতো ওর তৃষিত ডালপালাগুলো

আপ্রাণ চেপে ধরে আমার শরীর

নাভিমূলে তীব্র বঙ্কিম কুঠারের আঘাত হানে

শব্দ হয়

ভালোবাসাহীনতার শব্দে চারিপাশের দেয়াল ফেটে পড়ে"

---('ভালোবাসা হীনতার কষ্ট') 


দিনের সূর্য অস্তমিত হলে নিস্তব্ধ সন্ধ্যা যেমন নেমে আসে শিশিরের শব্দের মতন। তখন সেই অন্ধকারে বনলতা সেনের মতো প্রেমিকার মুখোমুখি বাসার স্বাদ যেমন হয় কবির, ঠিক একইভাবে শামশের আনোয়ারও 'মূর্খ স্বপ্নের গান' কবিতায় প্রেমিক- প্রেমিকাকে মুখোমুখি বসান। কবি দেখাতে চান প্রেমের মহান অনুভূতিতে আত্মসমর্পণের সুখ এবং প্রেমহীনতায় বেঁচে থাকা কেমন অসম্ভব---


"একটি মেয়ে, একটি ছেলের চোখের ওপর চোখ রেখে, স্থির গলায় বলে :

'হ্যাঁ, অনেক ভেবে দেখেছি, কিন্তু বিশ্বাস করো, তোমাকে ছাড়া বাঁচা

অসম্ভব।'

একটি মেয়ে একটি ছেলের কোলের ওপর মাথা রেখে বলে :

'না, না, আজ আমার জন্মদিন নয়। যেদিন সব ছেড়ে, সব ফেলে তোমার

কাছে আসতে পারব, সেদিন, সেদিনই আমার জন্মদিন !"

---('মূর্খ স্বপ্নের গান') 


তাই শামশের আনোয়ারের কবিতা শুধু শিল্প বা সাহিত্য হয়ে আবদ্ধ থাকে নি। একটা অস্ত্র হয়ে হাজির হয়েছে পাঠকের দরজায়। কবিতার প্রচলিত নন্দনতাত্ত্বিক উপরি-পরিকাঠামোকে সযত্নে উপেক্ষা করে, ভেতরের বয়ান টাকেই অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। কাজেই শামশেরের কবিতা এক অর্থে তাঁর নিজের অস্তিত্বের সারোৎসার এ কথা বলাই যায়। আর কবি বলেন,---


"সঙ্গমের ইচ্ছা হলে নিজেকে জড়িয়ে ধরে সঙ্গম করি।" 


ফ্রয়েডীয় মনোবিকলন তত্ত্ব হয়তো এখানে ব্যাখ্যাত হতে পারে। কিন্তু তবুও, একই সঙ্গে তীব্র বিষাদ, তীব্র ক্রোধ ও অনির্দেশ্য এক ঈর্ষা শামশের আনোয়ারের কবিতার জগত নির্মাণ করেছে। হয়তো নার্ভাস ব্রেকডাউন, ইনসমনিয়া নাইটমেয়ার অথবা ফিয়ার অফ সাইকোসিস তাঁর অবদমিত ইচ্ছার বিরুদ্ধাচারণ করা পৃথিবীর পক্ষে তাঁকে নিরাপদ বলে মনে করেনি। তাই খুব কম বয়সেই আত্মঘাতী প্রতিভাবান এই কবির কাছে পড়ে থাকে আমাদের এক অজ্ঞাত প্রত্যাশা। আরো দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকলে হয়তো সেই প্রত্যাশা তিনি পূরণ করে যেতেন।





গ্রন্থঋণ :

১। শামশের আনোয়ারের শ্রেষ্ঠ কবিতা, দে'জ পাবলিশিং।

২।জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা, দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত, দে'জ পাবলিশিং

৩। বিষ্ণু দে-র শ্রেষ্ঠ কবিতা, দে'জ পাবলিশিং

৪। https://sillypoint.co.in


ছবি : বিধান দেব 


সুরজিৎ প্রামাণিক

জন্ম : ২২ আগস্ট ১৯৯৩, দঃ ২৪ পরগনার নীলা গ্রামে। প্রথম কবিতার বই 'শূন্য প্রতিধ্বনির অন্ধকারে' প্রকাশিত হয় সাহিত্যের বেলাভূমি প্রকাশনার দপ্তর থেকে ২০১৪ সালে। কবিতা বিষয়ক ষান্মাসিক সাহিত্যপত্র 'নিরক্ষরেখা'-র সম্পাদক। ২০১৭ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বঙ্গভাষা ও সাহিত্য বিভাগে স্নাতকোত্তর। ২০২০ সালে পশ্চিমবঙ্গ সেট ও ন্যাশনাল ফেলোশিপ সহ ইউ.জি.সি নেট উত্তীর্ণ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবিতা

সম্পাদকের কথা

দ্বিতীয় বর্ষ  ।। অষ্টম সংখ্যা ।। মার্চ ২০২২   খুব অসহায় লাগছে এবার। আমাদের ডান পাশে ধস। বায়ে গিরিখাত। মাথায় বোমারু। পায়ে পায়ে হিমানীর ব...