বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১

নয়া বৃহদারণ্যক ।। দেবাশিস দাশ


 

নয়া বৃহদারণ্যক



৪. আত্মতত্ত্ব (contd.)

আত্মতত্ত্ব ব্রহ্মকথা না জেনে যতই

পুণ্য কাজ করা যাক, ব্যর্থ সমস্তই।

যেমন, না-করা কাজ, অপঠিত বেদ 

কোনওই দেয় না ফল, আত্মার অভেদ— 

সম্প্রীতির তত্ত্ব— এই জন্মে না জানলে 

তেমনই খোলে না বিশ্বে মুক্তির জানলা।


এ-তত্ত্ব যে জানে, আত্মা তাকে রক্ষা করে। 

তাছাড়া, শান্তির পথ দেশ দেশান্তরে 

স্তীর্ণ হলে লোকে-লোকে বিভিন্ন সমাজে 

যোগসূত্র পাওয়া যাবে, জ্ঞানে কর্মকাজে 

শৃঙ্খলা যোজিত হবে। যেহেতু সবাই 

একই আত্মার অংশ, সকলেই তাই 

হিংসা-দ্বেষ-অমঙ্গল বর্জিত আবহে

বুদ্ধের মৈত্রীর পন্থী। গ্লানি বয়ে-বয়ে

যে-মানুষ পরিশ্রান্ত, তার জন্য পথ 

আত্মতত্ত্বে খোলা আছে। নিখিল জগৎ 

নানা ব্যঞ্জনায় ফুটে ওঠে এই জ্ঞানে। 

আদি আত্মা যেরকম অপূর্ণ ব্যথায়

দয়িতা খুঁজেছিলেন, তেমনি সততায় 

মানুষ পূর্ণতা খোঁজে সম্পদে-সন্তানে। 


শরীরের মধ্যে আছে আত্মার সংসার—

এ-কথা যে জানে, জন্ম পরিপূর্ণ তার। 

কারণ, মনই আত্মা, বাক্যই সঙ্গিনী, 

প্রাণই সন্তান তার,— এভাবে কি চিনি? 

মানব-সম্পত্তি চোখ, দৈব বিত্ত কান,

কর্মই শরীর তার,— জানে আত্মবান।


ছবি : বিধান দেব 


দেবাশিস দাশ। মিনিস্ট্রি অভ্ কালচার থেকে কবিতা নিয়ে জুনিয়র ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন। শিবপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন বিচ্ছিন্নভাবে। কবিতার জন্য উত্তরবঙ্গে ভ্রাম্যমাণ। স্বনামে ও ছদ্মনামে কবিতা ও গল্প লিখেছেন দেশ, আনন্দমেলা, সানন্দা, কবিতীর্থ, কৃত্তিবাস, ভাষানগর ও অন্যান্য বহু পত্রপত্রিকায়। অনুবাদ করেছেন টেড হিউস এবং জেমস জয়েসের কবিতা। 
কাব্যগ্রন্থ: পাথুরে মানুষ, মাটির মানুষ, কবিতীর্থ। জ্বলন্ত মৃত্যুর মুখে বাঁশি, কৃত্তিবাস। অণুজীবনের দীর্ঘশ্বাস, যাপনচিত্র। বিচালিঘাটের কথা, কুবোপাখি। মেঘে আঁকা ভাঙা সেতু, সিগনেট প্রেস।






কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবিতা

সম্পাদকের কথা

দ্বিতীয় বর্ষ  ।। অষ্টম সংখ্যা ।। মার্চ ২০২২   খুব অসহায় লাগছে এবার। আমাদের ডান পাশে ধস। বায়ে গিরিখাত। মাথায় বোমারু। পায়ে পায়ে হিমানীর ব...