নয়া বৃহদারণ্যক
৪. আত্মতত্ত্ব (contd.)
আত্মতত্ত্ব ব্রহ্মকথা না জেনে যতই
পুণ্য কাজ করা যাক, ব্যর্থ সমস্তই।
যেমন, না-করা কাজ, অপঠিত বেদ
কোনওই দেয় না ফল, আত্মার অভেদ—
সম্প্রীতির তত্ত্ব— এই জন্মে না জানলে
তেমনই খোলে না বিশ্বে মুক্তির জানলা।
এ-তত্ত্ব যে জানে, আত্মা তাকে রক্ষা করে।
তাছাড়া, শান্তির পথ দেশ দেশান্তরে
স্তীর্ণ হলে লোকে-লোকে বিভিন্ন সমাজে
যোগসূত্র পাওয়া যাবে, জ্ঞানে কর্মকাজে
শৃঙ্খলা যোজিত হবে। যেহেতু সবাই
একই আত্মার অংশ, সকলেই তাই
হিংসা-দ্বেষ-অমঙ্গল বর্জিত আবহে
বুদ্ধের মৈত্রীর পন্থী। গ্লানি বয়ে-বয়ে
যে-মানুষ পরিশ্রান্ত, তার জন্য পথ
আত্মতত্ত্বে খোলা আছে। নিখিল জগৎ
নানা ব্যঞ্জনায় ফুটে ওঠে এই জ্ঞানে।
আদি আত্মা যেরকম অপূর্ণ ব্যথায়
দয়িতা খুঁজেছিলেন, তেমনি সততায়
মানুষ পূর্ণতা খোঁজে সম্পদে-সন্তানে।
শরীরের মধ্যে আছে আত্মার সংসার—
এ-কথা যে জানে, জন্ম পরিপূর্ণ তার।
কারণ, মনই আত্মা, বাক্যই সঙ্গিনী,
প্রাণই সন্তান তার,— এভাবে কি চিনি?
মানব-সম্পত্তি চোখ, দৈব বিত্ত কান,
কর্মই শরীর তার,— জানে আত্মবান।
ছবি : বিধান দেব
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন