অন্ধকারের দাগগুলো
এক
দরজা খুললেই অনেক মুখ ----
কোন মুখের সঙ্গে সখ্যতা করবো, গল্প করবো
ভাবতে ভাবতে মুখগুলো
কখন যেন সব হারিয়ে যায়....
একটা শরত- মুখ পছন্দ হলে, তাকে ডেকে
কথা বলার কথা ভাবার আগেই চলে আসে
অচেনা কোনো হেমন্ত-মুখ ---
তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে
পায়ে পায়ে কাছে এসে হাজির হয় কোনো বসন্ত-মুখ,
আতান্তরে প'ড়ে আমি তখন
লজ্জায় ঘরে ঢুকে যাই...
ভোরবেলায় আবার দরজা খুললে দেখি,
একটা কুয়াশামাখা মুখ জড়সড় হয়ে বসে আছে,
তার সারা শরীরে গতরাতের শীত ও সংশয় জড়ানো ----
ভীড় করে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক সোনালী-মুখ,
রূপালী-মুখ উপেক্ষা করে আমি তার সঙ্গেই
কথা বলা শুরু করি ---
ধীরে ধীরে একটা গল্প তৈরি হয়,
অচেনা জীবনের গল্প....
দুই
দরজার বাইরে একিদিন তাকিয়ে দেখলাম,
একদিকে সুগন্ধি ফুল হাতে দাঁড়িয়ে আছে প্রেম
অন্যদিকে, শূন্য থালা হাতে কয়েকটা ভুখা মুখ,
মাথার ওপর একদিকে ফুটে আছে পূর্ণিমাচাঁদ,
অন্যদিকে, ভেসে বেড়াচ্ছে হিংস্র কালো মেঘের দল ----
কিংকর্তব্যবিমুঢ় আমি জোরে হাঁটা লাগালাম ---
কিছুদূর এগিয়ে দেখলাম, রাস্তা দুভাগ হয়ে
একটা চলে গেছে সমুদ্রের দিকে, অন্যটা
অনন্তে -----
কোন দিকে যাব, ভাবতে ভাবতে একটা জীবন আমি
মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি একা....
তিন
তোমরা তো দেখনি আমার ছায়ায় লেগে থাকা রক্তের দাগ,
শীর্ণ, ব্যথাতুর একটা নদীর আত্মনিবেদন ,
মুছে ফেলা স্বপ্নের গোপন দহন ---
এসব কিছুই দেখনি তোমরা, দেখতে চাওনি,
রঙিন চশমা চোখে ভেবে নিয়েছ,
ওসব রক্তের দাগ নয়, পলাশের রঙ,
শীর্ণ নদীটাকে ভেবে নিয়েছ তন্বী কোনো নারী
আলগোছে শুয়ে আছে প্রেমিকের কোলে,
দহনের চিহ্নগুলিকে ভেবে নিয়েছো
পুরনো বনেদী জীবনের প্রহেলিকা মাত্র ---
এসব অনৃত ভাবনাগুলো থেকে আমার যে প্রতিকৃতি বানিয়েছো, সেখানে নেই কোনো সত্য-সংলাপ,
অন্ধকারের দাগগুলো নিপুন দক্ষতায় মুছে আমাকে সুমহান করে দিয়েছো---
আমার চারপাশে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে
ক্ষুধার্ত আততায়ীদের দল .....
চার
ছায়াটা সরেনি তখনও, কে যেন আমাকে
টেনে নিয়ে গেল ঝুলে থাকা অরণ্য-বারান্দায়,
একটা স্বর এসে দাঁড়ালো কাছে, খুব কাছে,
তার কাছে শুনলাম আমার পূর্বজন্মের মৃত্যু- যন্ত্রণার বিবরণ.....
সে কি আমাকে 'থ্রেট ' দিল, নাকি নতুন করে
বাঁচানোর প্রতিশ্রুতি!
এই দ্বন্দ্ব নিয়ে যখন
পায়চারী করছি দড়ির ওপর,
একটা জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড ঘুরপাক খেতে লাগলো/
আমাকে ঘিরে.....
ভয়ে, শঙ্কায় আমার যখন প্রায় মূর্ছা যাওয়ার অবস্থা,
ঠিক তখন, আমাকে ওই ভয়ংকর দশা থেকে
মুক্তি দিল একটা হাত,
খুব চেনা পূর্বজন্মের একটা হাত...
ছবি : বিধান দেব
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন