বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

চীনা কবিতা ।। চন্দন মিত্র

















চৈনিক কবি   হানশান   প্রণীত



                              
                               শীতলগিরির পদ্য

    (হানশান-বৃত্তান্ত ও হানশান প্রণীত কতিপয় পদ্যের বাংলা রূপান্তর)  

 

আজ থেকে হাজার-বারোশো বছর আগের কথা। তিরিশ বছর বয়সী এক চিনাযুবক সমাজ-সংসারের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যান, দক্ষিণ পশ্চিম চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশের তিয়েনতাই পর্বতের দুর্গম অঞ্চলে। বসবাসের স্থান হিসাবে বেছে নেন, দক্ষিণমুখো এক পার্বত্য  গুহা। বসবাসের সেই মনোরম স্থানটিকে তিনি হানশান নামে চিহ্নিত করেন। কালক্রমে নিজের দেওয়া ওই স্থান নামটিই হয়ে ওঠে তাঁর ব্যক্তিনাম। চিনা ভাষায় হান শব্দের অন্যতম অর্থ শীতল  এবং শান শব্দের অর্থ গিরি বা পর্বত ; কাব্যিক বাংলা করলে দাঁড়ায় শীতলগিরি। আমরা এই  লেখায় কবির ব্যক্তিনাম হিসাবে হানশান এবং স্থাননাম হিসাবে শীতলগিরি শব্দটি ব্যবহার করব। হানশান নামের আড়ালে আশ্রয় নেওয়া কবির প্রকৃত নাম, জন্ম বা বংশ পরিচয়, জীবৎকাল   ইত্যাদি সম্পর্কে প্রামাণিক কোনও তথ্যই পাওয়া যায় না। তিনি যে কখন কোথা থেকে গিয়ে শীতলগিরিতে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন, সে সম্পর্কে কেউ বিশেষ কোনও তথ্য এখনও পর্যন্ত দিতে পারেননি। তবে এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে তিনি খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দীর আগে বর্তমান ছিলেন। কারণ, নবম শতাব্দীর বিভিন্ন নথিতে তাঁর উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁর লিখিত পদ্যগুলি প্রথম সংকলিত হয় খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে হানশানশি অর্থাৎ হানশানের পদ্য শিরোনামে। এক তাওবাদী সাধক শিউ লিং-ফু ছিলেন সংকলক, যিনি বাস করতেন তিয়েনতাই পর্বতের ইউন-কাই শৃঙ্গে। সংকলনের জন্য একটি ভূমিকাও তিনি লিখেছিলেন। তাঁর দাবি, হানশান ছিলেন তাওবাদী। সংকলনটি জনপ্রিয় হলেও কেবল কিছু নথিতে উল্লেখটুকু রেখে একসময় সে হারিয়ে যায়। হানশানশি-র পরবর্তী সংকলক হলেন শাও-শান পেনচি (৮৪০-৮৯০ খ্রিঃ) ও তুং-শান লিয়াং-চিয়ে (৮০৭-৮৬৯ খ্রিঃ)। তাঁরা ছিলেন শাও-তুং বা শোতো জেন সম্প্রদায়ের সাধু। এই সংকলনের জন্য ভূমিকা লিখেছিলেন শাও-শান পেনচি। এই সংকলনে হানশানকে জেন সাধু হিসাবেই তুলে ধরা হয়। প্রথম সংকলনের মতো এই সংকলনও কেবল নথির তথ্যে টিকে আছে।



    পরবর্তীকালে হানশানশি সংকলনে লু চিউ-ইয়ুন নামের জনৈক সরকারি আধিকারিকের একটি  প্রস্তাবনা সংযুক্ত হয়। লু চিউ-ইয়ুন দাবি করেছেন, তিনি কুও চিং মঠে হানশান-কে দেখেছেন।  এই প্রস্তাবনাটিই কবি হানশান সম্পর্কিত একমাত্র নথি। পরবর্তীকালে হানশান সম্পর্কিত যাবতীয় লেখায় এই প্রস্তাবনাটির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবনা থেকে জানা যায়, তিয়েনতাই পর্বতের কুও চিং মঠে হানশানকে মাঝেমধ্যে দেখা যেত। হানশান-এর গুহাবাস থেকে কুও চিং মঠ ছিল ২৫ লি অর্থাৎ সাড়ে ১২ কিমি দূরে। মঠের এক বুড়ো সাধু ফেংগান ও শি-তে নামক এক জোয়ান রাঁধুনির সঙ্গে হানশান-এর বেশ ভাব ছিল। শি-তে সকলের অগোচরে একটি বাঁশের খোলে খাদ্যসামগ্রী এনে হানশানের হাতে তুলে দিতেন। মঠের লম্বা বারান্দায় পায়চারি করতে করতে হানশান কখনও হাসতেন, কখনও গান ধরতেন আবার কখনও বকবক করতেন। মঠের ছেলেরা তাঁর পিছনে লাগলে তিনি পালিয়ে যেতেন। তাঁর মুখমণ্ডলে বার্ধক্যের স্পষ্ট ছাপ থাকলেও তাঁর কথাবার্তা ছিল জড়তামুক্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর টুপি ছিল বার্চ গাছের ছালের তৈরি, পরনে জীর্ণ চীবর ; আর পায়ে ছিল কাঠের খড়ম। হানশান, ফেংগান ও শি-তে এই তিয়েনতাই ত্রয়ী তাও ও জেন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতেন এবং কাব্যচর্চা করতেন। তবে এই কাব্যচর্চায় কাগজকলমের ব্যবহার ছিল না। তাঁরা লিখতেন পাথরের গায়ে, গুহাগাত্রে, গাছের গুঁড়িতে, কখনও গ্রামভ্রমণে গিয়ে সেখানকার দেয়ালে-পাঁচিলে।



       হানশান-এর জীবৎকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও তিনি যে তাং আমলের কবি সে বিষয়ে নিঃসংশয় হওয়া যায়। তাং রাজাদের শাসনকাল (১৮জুন ৬১৮-৪জুন ৯০৭ খ্রিঃ) চিনা কবিতার সুবর্ণ যুগ নামে খ্যাত। তাং যুগের কবিতার সব থেকে বড় সংকলন চুয়ান তাংশি, বাংলায় তাং কবিতা সমগ্র। প্রকাশিত হয় ১৭০৫ বা ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে। নয়শো খণ্ডের এই সংকলনে ২২০০ কবির ৪৯০০০ কবিতা স্থান পেয়েছে। কবি হানশানও চুয়ান তাংশি-তে সাদরে স্থান পেয়েছেন। এই সংকলনে তাঁর কবিতা সংখ্যা ৩১১। তবুও একথা উল্লেখ করতেই হয় যে, তাং যুগের কবি লি পো (৭০১-৭৬২ খ্রিঃ), তু ফু (৭১২- ৭৭০ খ্রিঃ), ওয়াং ফেই (৬৯৯-৭৬১ খ্রিঃ) বা পো চু (৭৭২-৮৪৬ খ্রিঃ)-র মতো খ্যাতি বা পরিচিতি কোনোটাই হানশান-এর ছিল না। অনেক  সংকলনেই তিনি ব্রাত্য থেকে গেছেন। আসলে মূলধারার যে কাব্যচর্চা বা প্রাতিষ্ঠানিকতাকে শিরোধার্য করে যে কাব্যচর্চা, তা হানশান করেননি। সারস্বতমণ্ডলীতে নাম লেখানো দূরের কথা তিনি তো সমাজ-সংসার থেকে এক স্বেচ্ছা নির্বাসনের পথই বেছে নিয়েছিলেন। হানশানকে নিয়ে তাওবাদী বা বৌদ্ধদের বা সাধারণ পাঠকদের মাতামাতি দেখা গেলেও রক্ষণশীল সমালোচকগণ হানশানকে যথাসম্ভব এড়িয়ে গেছেন বা খাটো করে দেখেছেন। এর কারণ এই যে, হানশান মান্যভাষারীতিকে সচেতনভাবে বর্জন করে তিয়েনতাই অঞ্চলের স্থানীয় ভাষাতেই তাঁর পদ্যগুলি লিপিবদ্ধ করেছেন। আসলে হানশান চেয়েছিলেন জীবন সম্পর্কে তাঁর জানাবোঝা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাক, তাঁরাও প্রজ্ঞার পথে পা রেখে নিজেদের মতো করে জীবনকে বুঝে নিক। এই জন্যই তিনি সাধারণের ভাষায় লিখেছেন তাঁর জ্ঞানগর্ভ পদ্যাবলি। হানশান তাঁর একটি পদ্যে জানিয়েছেন, তিনি সব মিলিয়ে ছয়শো পদ্য লিখেছেন। এগুলির মধ্যে প্রতি লাইনে পাঁচ শব্দ থাকা পদ্যের সংখ্যা পাঁচশো, প্রতি লাইনে সাত শব্দ থাকা পদ্যের সংখ্যা উনআশি এবং প্রতি লাইনে তিন শব্দ থাকা পদ্যের সংখ্যা একুশ। যদিও তাঁর সব কবিতা পাওয়া যায়নি। সর্বসাকুল্যে তিনশো এগারোটি কবিতা পাওয়া গেছে। হানশানের অধিকাংশ পদ্যই সংক্ষিপ্ত। প্রতি লাইনে পাঁচ শব্দ থাকা পদ্যগুলি আট লাইনের। এগুলির সংখ্যাই সর্বাধিক।



    লু চিউ-ইয়েন এর প্রস্তাবনা থেকে হানশান-এর ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায় না। এক্ষেত্রে আমাদের একমাত্র সহায় হয়ে উঠতে পারে হানশান রচিত পদ্যাবলি। হানশান-এর পদ্য তাঁর ব্যক্তিজীবনের অনেক তথ্যই তুলে ধরেছে। তাঁর পদ্যাবলি অবলম্বনে আমরা অনায়াসে একটি হানশান-চরিত নির্মাণ করতেই পারি। সম্ভবত হানশান ছিলেন সম্পন্ন কৃষক পরিবারের সন্তান। কৃষিকাজের সঙ্গে সঙ্গে তাঁতবোনাও তাঁদের পারিবারিক বৃত্তি ছিল। পড়াশোনার প্রতি  অত্যধিক আসক্তি ছিল তাঁর। কৃষক পরিবারের সন্তানের এই পুস্তকপ্রীতি তাঁকে ঘরেবাইরে  উপহাসের পাত্র করে তুলেছিল। তিনি সংগীত ও যুদ্ধবিদ্যা শিখেছিলেন মন দিয়ে। এমনও হতে  পারে তাং রাজাদের বাহিনীতে সৈনিকের ভুমিকাও তিনি পালন করেছিলেন। কেউ কেউ অনুমান করেছেন আন-লু-শান বিদ্রোহের সময় (৭৫৫-৭৬৩ খ্রিঃ) তিনি সামরিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে  অথবা বিদ্রোহের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার কারণে বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ায় দণ্ড এড়ানোর জন্যই তিয়েনতাই পর্বতে গা-ঢাকা দেন। রাজ-আধিকারিক লু চিউ-ইয়েন আসলে তাঁকে ধরার  জন্যই কুও চিং মঠে গেছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁর বেশভূষা আচরণ দেখে তাঁকে ভূতপূর্ব সৈনিক বা বিদ্রোহী বলে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন অথবা চিনেও না-চেনার ভান করেছেন। এমনও হতে  পারে দাম্পত্যজীবনের নিরন্তর অশান্তি, আত্মীয়স্বজনদের অমানবিক ব্যবহার, নাগরিক জীবনে প্রতিষ্ঠা না-পাওয়ার যন্ত্রণা ইত্যাদি কারণে আমাদের তরুণ কবি স্বেচ্ছানির্বাসন বেছে নিয়েছিলেন শীতলগিরির নিভৃত পরিমণ্ডলে।



      হানশান-এর পদ্যকে প্রথম ইংরেজি ভাষায় রূপান্তরিত করেন প্রখ্যাত ইংরেজ অনুবাদক আর্থার ওয়ালি (১৮৮৯-১৯৬৬ খ্রিঃ)। কবি স্তিফেন স্পেণ্ডার ও সাংবাদিক আরভিন ক্রিস্টল  সম্পাদিত ব্রিটেনের বিখ্যাত পত্রিকা এনকাউন্টার তাঁর অনূদিত ২৭ টি পদ্য প্রকাশ করে ১৯৫৪ সালের সেপ্টেম্বর সংখ্যায়। আর্থার ওয়ালি-র এই অনুবাদ অচিরেই চৈনিক কবি হানশানকে ইংরেজ পাঠকের কাছে পরিচিত করে তোলে। অতঃপর আমেরিকান কবি গ্যারি স্নিডার অনুবাদ করেন হানশান-এর ২৪ টি কবিতা। তাঁর অনূদিত কবিতাগুলি আমেরিকার দি এভারগ্রীন রিভিউ  পত্রিকার ১৯৫৮ সালের হেমন্ত সংখ্যায় প্রকাশ পায়। এবার হানশানকে ইংরেজি সাহিত্যের পাঠকের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত করতে এগিয়ে আসেন আমেরিকান ঔপন্যাসিক জ্যাক কেরুয়াক। না, তিনি হানশান-এর কবিতার অনুবাদ করলেন না। তিনি ১৯৫৮ সালের ২ অক্টোবর প্রকাশ করেন দ্য ধর্ম বামস নামের উপন্যাসটি। সবাই আশ্চর্য হয়ে দেখলেন বইটির উৎসর্গ পত্রে  লেখা আছে—  Dedicated to Han Shan অর্থাৎ উপন্যাসটি তিনি হানশান  নামের জনৈক ব্যক্তিকে উৎসর্গ করেছেন। উপন্যাসের উনিশতম অধ্যায়ে হানশান-এর প্রসঙ্গ এসে পড়েছে। কথক চরিত্র রে স্মিথ, দেখা করতে চলেছে জ্যাফি রাইডার নামের এক তরুণ বোহেমিয়ানের সঙ্গে, যে   আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক ছাত্র। রে স্মিথ, ঢুকে পড়ে জ্যাফির অস্থায়ী কুঁড়ে ঘরে। সে তখন মেঝেতে পেতে রাখা একটি চাদর বেছানো মাদুরের উপর বাবু হয়ে বসে কোলের উপর একটি পাণ্ডুলিপি রেখে গভীর মনোযোগের সঙ্গে নিরীক্ষণ করছিল। চোখে চশমা থাকায় তাকে বেশ পণ্ডিত পণ্ডিত বলে মনে হচ্ছিল। পাশে ছিল ধোঁয়া-ওঠা চা-পাত্র। এরপর দুই বন্ধুর কথোপকথন শুরু হয়।

 

‘রে স্মিথ— এটা কী করছ ?

জ্যাফি— প্রাজ্ঞ কবি হানশান রচিত দুর্দান্ত সব পদ্যের অনুবাদ করছি। হাজার বছর আগে এই  পদ্যগুলি লোকালয় থেকে শতশত মাইল দূরে নির্জন পর্বতের গায়ে লিখিত হয়েছিল।  

রে স্মিথ— দারুণ ব্যাপার। আমি হানশান-এর কবিতা পড়তে চাই। পড়াবে কি ? আমাকে কি হানশান সম্পর্কে কিছু বলবে ?

জ্যাফি— অবশ্যই।

রে স্মিথ— হানশান চিনা পণ্ডিত। শহুরে আবহাওয়ায় হাঁফিয়ে উঠে তিনি পার্বত্য-নির্জনতায় আত্মগোপন করেছিলেন।’



উপন্যাসের বিভিন্ন জায়গায় হানশান প্রসঙ্গ ও তাঁর পদ্যের উদ্ধৃতি ধ্রুবপদের মতো ধ্বনিত হয়েছে। এই উপন্যাসের কথক চরিত্র রে স্মিথ এবং জ্যাফি রাইডার যথাক্রমে জ্যাক কেরুয়াক ও গ্যারি স্নাইডার-এর ছায়া অবলম্বনে নির্মিত। কেরুয়াক-এর এই উপন্যাস হানশানকে আমেরিকান পাঠক সমাজে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়। বিট-প্রজন্মের তরুণেরা যেন তাদের বোহেমিয়ান জীবনের একজন আদর্শ পূর্বসূরির সন্ধান পেয়ে কৃতার্থ হয়। গ্যারি স্নিডার অনূদিত পদ্যগুলি ১৯৬৯ সালে রিপরাপ অ্যান্ড কোল্ড মাউন্টেন নামে প্রকাশ পায়।

 

    এইভাবে হানশান ক্রমশ ইংল্যান্ড-আমেরিকার পাঠক সমাজের আপনজন হয়ে ওঠেন। বহু অনুবাদক হানশান-এর প্রেমে পড়ে যান। ১৯৬২ সালে গ্রোভ প্রেস থেকে প্রকাশিত হয় বার্টন ওয়াটসন এর অনুবাদে হানশান-এর ১০০টি কবিতার অনুবাদগ্রন্থ, কোল্ড মাউন্টেন : ১০০  পোয়েমস। ১৯৮৩ সালে কপার ক্যানিয়ন প্রেস থেকে প্রকাশিত হয় দ্য কালেক্টেড সংস অব কোল্ড মাউন্টেন। অনুবাদক প্রখ্যাত চৈনিক ভাষা ও সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ রেড পাইন তথা বিল পোর্টার। এই সংকলনে হানশান-এর ৩০৭ টি, ফেংগান-এর ৪ টি এবং শি-তে-এর ৪৯ টি কবিতা স্থান পেয়েছে। এই টীকাটিপ্পনীযুক্ত গ্রন্থটিই হানশান-এর সমগ্র পদ্যের প্রথম ইংরেজি অনুবাদ। এই গ্রন্থে মূল চিনা পদ্যগুলিও মুদ্রিত হয়েছে। ১৯৯০ সালে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত হয় রবার্ট জি. হেনরিক্স অনূদিত দ্য পোয়েট্রি অব হানশান : আ কমপ্লিট অ্যানোটেটেড ট্র্যানস্লেশন অব কোল্ড মাউন্টেন। এই সংকলনে  হানশান-এর কবিতার সংখ্যা ৩১১। এই সংকলনটিও টীকাটিপ্পনীযুক্ত। বেজিং-এর ডি গ্রুটার প্রকাশনী থেকে ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয়  দ্য পোয়েট্রি অব হানশান, শি-তে অ্যান্ড ফেংগান। এই সংকলনেও মূল চিনা পদ্যগুলি স্থান পেয়েছে। এছাড়া এই গ্রন্থে লু চিউ-ইয়ুন-এর প্রস্তাবনাটিও সংযুক্ত করেছেন অনুবাদক পল রাউজার। এই সংকলনে  হানশান-এর পদ্যের সংখ্যা ৩১৩, ফেংগান-এর কবিতার সংখ্যা ২ এবং শি-তে-এর কবিতা সংখ্যা ৫২। ২০১৮ সালে কানাডার বোল্ডার পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয় দ্য কমপ্লিট কোল্ড মাউন্টেন : পোয়েমস অব দ্য লেজেনডারি হারমিট হানশান । অনুবাদক কাজুয়াকি  তানাশাহি ও পিটার লেভি। এই সংকলনে হানশান-এর পদ্যের সংখ্যা ৩১৫। কেবল ইংরেজি নয়, ফরাসি ও জার্মান ভাষাতেও হানশান অনূদিত হয়েছেন। এই একুশ শতকেও হানশান চর্চায় অনুবাদকদের মনোযোগ লক্ষ করার মতো।  



    জেন বিষয়ক লেখালেখির সুবাদে পড়াশোনা করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে আমি হানশান-এর সঙ্গে পরিচিত হই। বলা বাহুল্য প্রথম পরিচয়েই তাঁর প্রেমে পড়ে যাই। হানশান যে সময়ের কবি, সে সময়ে ‘বৃহৎ বঙ্গে’ বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ রচিত হচ্ছে অথবা রচিত হওয়ার পটভূমি নির্মিত হচ্ছে। চর্যাপদের মতো হানশান-এর বেশ কিছু পদ্যে ধর্মতাত্ত্বিক কথাবার্তা লক্ষ্য করা যায়। তবে চর্যাকারগণ তাঁদের পদে পূর্বাশ্রমের কোনও স্মৃতি উল্লেখ করেননি। তাঁরা মূলত সাধনতত্ত্ব প্রকাশক পদ রচনা করেছেন এবং তা করতে গিয়ে সমাজ-সংসার থেকে উপমা-রূপক-প্রতীক-চিত্রকল্প সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু হানশান-এর পদ্য রচনার উদ্দেশ্য এতটা ধর্মনিষ্ঠ ছিল না। তিনি তাঁর সংসারজীবনের সুখস্মৃতিকে সানন্দে তুলে ধরেছেন তাঁর পদ্যে। যদিও চর্যাকারদের মতো হানশানও মহাযান বৌদ্ধশাখার ধর্মতত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। হানশান যেমন মহাযান বৌদ্ধমত থেকে উদ্ভূত জেন মতাদর্শ আত্মস্থ করেছিলেন, পাশাপাশি বিশেষ চৈনিক ধর্ম-দর্শন তাও  দ্বারাও প্রভাবিত ছিলেন। তবে একথাও ঠিক হানশান জেন ও তাওবাদকে আত্মস্থ করেও এই উভয় মতবাদকে নিজের জীবনদর্শন দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধও করেছেন। তিনি বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের মতো মস্তকমুণ্ডন করেননি, ব্যঙ্গ করেছেন তাওবাদীদের অমরত্ব হাসিলের প্রচেষ্টাকেও। আসলে হানশান প্রকৃত কবির মতো সত্য ও সুন্দরের সাধনা করেছেন, কোনও ধর্মীয় মতাদর্শের কঠিন বাঁধনে নিজেকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নেননি। 



    হানশান-এর কবিতাগুলিকে বিষয়গত দিক থেকে কয়েকটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা যেতে পারে। প্রথমত, সংসারজীবনের স্মৃতিচারণ। ফেলে আসা সংসার জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হানশান, তাঁর স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়ে সুখী জীবনযাপনের মনোরম গৃহচিত্র উপস্থাপন করেছেন। কোনও কোনও পদ্যে একান্নবর্তী পরিবারের ছবিও ফুটে উঠেছে।



দ্বিতীয়ত, নাগরিক জীবনের নির্দয়তা। বেশ কিছু কবিতায় হানশান শহুরে লোকজনের নির্দয়তাকে তুলে ধরেছেন। একটি পদ্যে দেখি, একজন গেঁয়ো লোককে দেখে শহরের কুকুরেরা পর্যন্ত আড়চোখে তাকাচ্ছে। ছেলেছোকরারা লোকটির টুপি দেখে বলছে, যথেষ্ট উঁচু নয়। বেল্ট বা প্যান্টের ধরণ দেখেও তারা হাসাহাসি করছে। আর লোকটি এই ব্যঙ্গের উত্তরে জানাচ্ছেন, যেদিন পয়সা কামিয়ে দামি হয়ে উঠবেন, সেদিন তিনি মাথায় টুপির বদলে আস্ত একটা প্যাগোডা চাপিয়ে নেবেন। এ যেন হাজার বছর আগের চিনের কোনও শহরের চিত্র নয়, আমাদের এই সময়ের শহরের চলচ্ছবি, যেখানে গ্রাম থেকে যাওয়া লোকেরা ব্যঙ্গের শিকার হয় তাদের ভাষা ও পোশাকপরিচ্ছদের জন্য।  



তৃতীয়ত, শিক্ষিত বেকারের দুরবস্থা। একটি পদ্যে আমরা ইতিহাস ও শাস্ত্রে ডিগ্রিধারী এক ঝকঝকে তরুণকে দেখি, যে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে মাস্টার সম্বোধন পান। কিন্তু সরকারি চাকরি জোটাতে পারেননি। আবার চাষবাসের কৌশলও তাঁর জানা নেই। একটামাত্র শণের জামায় প্রবল শীতে কাঁপতে কাঁপতে তিনি অনুভব করেছেন, বই তাকে বেপথু করেছে। এই ছবি কী আমাদের চারপাশে জীবন্ত হয়ে উঠতে দেখি না। কত ছেলেমেয়ে ডিগ্রির বোঝা কাঁধে নিয়ে বেকারজীবন যাপন করছেন। তাঁদের অন্য কোনও কাজও জানা নেই, আবার সরকারি চাকরির শিকেটাও ছিঁড়ছে না।



চতুর্থত, শীতলগিরির সৌন্দর্যের গুণগান। বহুসংখ্যক পদ্যে হানশান তিয়েনতাই পর্বত তথা শীতলগিরির নৈসর্গিক শোভা ও আরামদায়ক আবহাওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন। 

 

পঞ্চমত, ধনীদের কার্পণ্য ও মূঢ়তা। হানশানের অনেকগুলি পদ্যে ধনীদের কৃপণতা ও মূর্খতা প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি ধনীদের জীবনের এই অন্তঃসারশূন্যতাকে ব্যঙ্গের সুতীক্ষ্ণ খোঁচায় ক্ষতবিক্ষত করেছেন।

       

ষষ্ঠত, তাও ও জেন বিষয়ক পদ্য। হানশান-এর অনেকগুলি পদ্যের বিষয় জেন ও তাও সম্পর্কিত বিভিন্ন তত্ত্ব। এই পদ্যগুলির মর্মোদ্ধার করতে হলে অবশ্যই ধর্মসম্পর্কিত জ্ঞান প্রয়োজন। দীক্ষিত জন ছাড়া এগুলির ভিতরে প্রবেশ অসাধ্য।



সপ্তমত, হানশান তাঁর অনেকগুলি পদ্যে তথাকথিত সমালোচকদের ব্যঙ্গবিদ্রূপে বিধ্বস্ত করেছেন। তাঁর এই ধরণের পদ্যগুলি পড়তে পড়তে জীবনানন্দের ‘সমারূঢ়’ কবিতার প্রথম পঙক্তিটির কথা মনে পড়ে যায়। যেখানে কবি, সমালোচকের উদ্দ্যেশ্যে শুনিয়েছেন একটি মোক্ষম বাণী — বরং নিজেই তুমি লেখনাকো একটি কবিতা।



    হানশান-এর পদ্যের বাংলা রূপান্তরের ক্ষেত্রে ইংরেজি তরজমাগুলির তুলনামূলক পাঠের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। ইংরেজি অনুবাদগুলিতে পাঠান্তর তেমন লক্ষ করা যায় না। যেখানে পাঠান্তর লক্ষিত হয়েছে সেখানে অনুবাদক নিজস্ব বিচারবিবেচনার দ্বারাই চালিত হয়েছেন। অনুবাদের ক্ষেত্রে আট পঙক্তিযুক্ত পদ্যগুলিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলিকে চার পঙক্তির দুই স্তবকে বিন্যস্ত করা হয়েছে। ছয়মাত্রার কলাবৃত্ত ছন্দ ও পর্যায়ক্রমিক মিলবিন্যাস পদ্যগুলিকে অনেকটাই বঙ্গজ করে তুলবে বলে আমাদের বিশ্বাস। হানশানশি-তে সঙ্কলিত পদ্যগুলির  কোনও  শিরোনাম নেই, সংখ্যা দ্বারা চিহ্নিত। হানশান কোনও পদ্যের শিরোনাম দিয়ে যাননি, শিরোনামের রীতিও তখন শুরু হয়নি। এখানে আমরা প্রতিটি পদ্যেরই পৃথক পৃথক শিরোনাম দিয়েছি, যাতে তারা প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র সত্তা হয়ে উঠতে পারে। অনুবাদের সূত্রে হানশান-এর পদ্যগুলি বারবার পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে, আমাদের প্রত্যেকের ভিতরে একজন হানশান সন্তর্পণে বাস করেন ; আমরা প্রত্যেকেই এক নিভৃত শীতলগিরির সন্ধানে ব্যাপৃত থাকি আমৃত্যু। এই প্রতিষ্ঠান-পীড়িত সমাজ-সংসার ছেড়ে আমরাও পালাতে চাই দূরে। হানশান পেরেছেন,  আমরা পারিনি... 



     



শী ত ল গি রি র প দ্য





 

বসতবাড়ি



পিতৃসূত্রে পেয়েছি বসতবাড়ি,

নজর দিই না কারও জমি জায়গায়।

বউ খটাখট তাঁতে বুনে যায় শাড়ি

ছেলে হইহই খেলা করে আঙিনায়।     

 

ফুলেরা নাচলে করতালি দিই আমি,

ধ্যানস্থ হয়ে শুনি পাখিদের গান।  

কে বোঝাবে আর জীবন-সালতামামি !    

কাঠুরিয়া কালেভদ্রে এপথে যান।



 

যাপন



পাতার কুটিরে বাস করি দেশোয়ালি

ঘোড়া বা শকট কম চলে এই পথে।

নিকটের বনে জিরোয় পাখপাখালি,

মাছ খেলা করে স্বচ্ছ পাহাড়ি স্রোতে।  

 

আমিও আমার ছেলে বুনোফল তুলি

চাষের সময় বউও সঙ্গে থাকে

আমার বাড়িতে আসবাব কতগুলি ?

কিছু নেই; শুধু পুথি ভরা আছে তাকে।  

 

 

 টুপির বদলে প্যাগোডা



‘গেঁয়োলোক দ্যাখ’ ! তারা সহাস্যে কয়। 

—‘এমন বুদ্ধু দেখেছিস কোনও কালে  

টুপিটা পরেছে যথেষ্ট উঁচু নয়,

কোমরবন্ধ এঁটেছে গাঁইয়া চালে’।

 

এটা নয় ঠিক, ফ্যাশন জানি না আমি

ভেঙে পড়া লোক সটান কী আর দাঁড়ায় !

একদিন হব পয়সা কামিয়ে দামি,

টুপির বদলে প্যাগোডা চড়াব মাথায়।



 

লালধুলোমাখা পৃথিবী



হাতে বই আর লাঙল কাঁধে ঝুলিয়ে

দাদাদের সাথে আমিও যেতাম মাঠে।

লোকেরা হাসত অতি বইপ্রীতি নিয়ে,

বউও আমাকে গাল দিত— পাগলাটে।   

 

লালধুলোমাখা পৃথিবীকে ছেড়ে আজ

মজায় কাটাই; যা ইচ্ছা তাই পড়ি।

বাসরাস্তায় আটকে পড়লে মাছ,

বাঁচাতে গিয়ে কে জল ঢালে তড়িঘড়ি ?

 

 

 জেন



উঁচু উঁচু চূড়া ছড়ানো চতুর্দিকে,

চোখ ভরে এই নির্বাধ শোভা দেখি।

কেউই জানে না এখানেই আছি টিকে

আবদ্ধ স্রোতে আটকে চাঁদ একাকী।

 

স্রোত খুঁড়ে খুঁড়ে নাগালে কি পাব তাকে ?

চাঁদ তো সতত আকাশে বিরাজ করে।

এই যে লেখাটা পদ্য বলছি যাকে

বস্তুত জেন নেই এর অন্দরে। 



 

 বেপথু



মার্জিত ও শৌখিন যুবা তিনি।

ডিগ্রি মিলেছে শাস্ত্রে ও ইতিহাসে।  

লোকেরা জানায়— ‘পণ্ডিত বলে চিনি,

মাস্টার তাঁকে বলে ফেলি অভ্যাসে’।

 

নিয়োগ পাননি সরকারি চাকরিতে,

জানেন না তিনি জমিতে লাঙল-চষা

শণের জামায় কেঁপে কেঁপে ভরা শীতে,

ভাবেন— বেপথু, এই বই নিয়ে বসা।



 

 অন্ধ গায় সূর্যের গান



ওয়াং নামের প্রখ্যাত জ্ঞানীলোক

আমার পদ্য পড়ে হেসে বললেন—

‘দুটি শ্বাসাঘাত কীভাবে এড়াল চোখ ?

এই চরণেতে মাত্রাও বাড়ালেন!

 

ছন্দের জ্ঞান আদৌ কী আছে ভাঁড়ে ?

যা খুশি লেখেন, যখন মন যা চায় ?’

আমি হেসে ফেলি ওয়াং-এর লেখা পড়ে,

যেন এক অন্ধ, সূর্যের গান গায়। 

 



বড় ধনী বড় মূর্খ




নতুন ফসল পাকতে এখনও বাকি,

শেষ সম্বলও আজকে নিলাম খেয়ে।

এই দুর্দিনে উপোসে মরব নাকি !

পাশের বাড়িতে দাঁড়ালাম দ্বিধা নিয়ে।

 

বাড়ির কর্তা দোর খুলে স্মিতস্বরে

বললেন— আমি বলছি বউকে গিয়ে।

গিন্নি বেরিয়ে জানালেন অকাতরে—

দেখুন বরং স্বামীর কাছেই চেয়ে।

 

খারাপ সময়ে এমন মুখোশ পরে,

কঞ্জুস লোক ভালো মানুষের মতো

করবে ভণিতা। তুমিও ফেলবে ধরে —

যত বড় ধনী মূর্খও বড় তত।



 

  পাড়ি



জীর্ণ কাঠের ভাঙাচোরা নৌকায়

আমরা ভরেছি নিমবৃক্ষের ফল।

ভেসেই চলেছি সমুদ্রে ক-জনায়,

ফুঁসে ওঠা জলে নৌকাও টলমল।

 

রসদ যা আছে, চলবে একটা দিন।

বেলাভূমি আজও লক্ষ যোজন দূরে

কেন এই দশা ? কেন আশা এত ক্ষীণ ?

গূঢ় তিক্ততা কাঠ খায় কুরেকুরে।

 

    

জ্ঞানপাপী



নিদারুণ কিছু বোকা আছে পৃথিবীতে

মগজে গোবর, চূড়ান্ত সব গাধা।

তুমি কী বলছ, পারে তারা বুঝে নিতে,

কিন্তু লোলুপ, কামের ঘানিতে বাঁধা।

 

বস্তুত তারা গভীর জলের মাছ,

বড় বড় কথা যা বলে সব ভড়ং।

অভিনয়ে খুব দক্ষ ও ধড়িবাজ ,

জ্ঞানপাপী তারা, সঙ্গ ছাড়ো বরং।





হৃদয়



বুড়ো চুং থাকে শহরের উত্তরে,

ভাঁড়ারে ভর্তি মাংস ও খাঁটি সুরা।

যেদিন বুড়োর বুড়ি গেল পরপারে,

এল ঘটা করে আত্মীয় স্বজনেরা।

 

কিন্তু যেদিন বুড়োর দিন ফুরোল  

কাঁদার জন্য একজনও জুটল না,

যারা এতদিন সুরাও কাবাব খেল,

তাদের হৃদয় একটুও গলল না।



 নিপাতন



শীতলগিরি তো মেঘের অন্য নাম

কী নির্জন আর নির্ধুল জায়গাটি,

খড়ের আসনে ভিক্ষু পায় আরাম,

পর্বত দ্যাখো, জ্বালিয়েছে শিখাটি। 

 

পাথুরে বিছানা, নিকটেই জলাশয়,

বাঘ ও হরিণ আলাপ করতে আসে।

নির্জনতার আনন্দে নিশ্চয়,

ভিক্ষু এখন নিপাতন ভালোবাসে।


ছবি : বিধান দেব 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবিতা

সম্পাদকের কথা

দ্বিতীয় বর্ষ  ।। অষ্টম সংখ্যা ।। মার্চ ২০২২   খুব অসহায় লাগছে এবার। আমাদের ডান পাশে ধস। বায়ে গিরিখাত। মাথায় বোমারু। পায়ে পায়ে হিমানীর ব...