চরণচিহ্ন
লেবুগাছটির মুখে হাসি, লেবুগাছটির
চোখে জল। লেবুফুল হামাগুড়ি দেয়।
এমন দৃশ্যের মুখে আলোকিত বাড়ি;
এমন ঠিকানা পেলে বাড়ি ফিরে আসে পলাতক।
এমন চৌকাঠ পেলে, বৃহস্পতিবার,
সবুজ জ্যোৎস্না এসে এঁকে দিয়ে যায়
তোমার চরণচিহ্ন।
বীণা
জলরঙে ভরে আছে পরমার পট
অথচ জলের কোনো নিজ রং নেই—
এ-কথা যখনই ভাবে মন, তার চোখে
সমাধান নেমে আসে, অশ্রুগুলি হাসে
নীরব জলের বীজে প্রাণ এঁকে বলে,
"মাটির বেদনা নিয়ে, পাখি, উড়ে যাও
আকাশ বাঁচিয়ে তোলো সবুজ সংগীতে;"
তখন অন্তরজল মেলে আর মেশে
পৃথিবীর বীণা বাজে মহাশূন্যময়
সড়ক
নদীর দু'চোখ খোঁজে খনন, মনন
আবেদন পত্র লেখে গাছেরা বাতাসে
অনেক সড়ক তুমি বানালে, রাজন
এবার সড়ক হোক রক্তে, হৃদাকাশে
রাত
কিছু ঘাম হাসি, কিছু কান্না; ঘাম গায়
দেহের পাঁচালি, যার সুর শুনে শুনে
রাতের আকাশচাঁপা ফুটে ওঠে ফুলে
শুরু নেই শেষ নেই, সোনালি সৌরভে শুধু
ভরে থাকে রাতের শূন্যতা
মনে হয় রাত যেন মানবজমিন—
অশ্রুর আহ্বান, অশ্রুমুক্তি, চিরন্তন
সাড়া
মাথার ভিতর নাচছে অপার জল
হৃদয়ে ভাসছে বাংলাভাষার চোখ
ডাকছে কেবল ডাকছে দৃশ্যলোক
অন্ধ নাবিক বলছে চল্ রে চল্
ছবি : বিধান দেব
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন