রবিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২১

গুচ্ছ কবিতা : স্নেহাশিস মুখোপাধ্যায়


 

বর্ষাপ্রধান  


অটবী 

হঠাৎ কেন স্বর উঠে যায়?
কেন গিয়েছিলো,
জানি না তো? 
তোমার থেকে তোমার গৃহিণী 
আরও পরিচিতা!
না তো!
মনে হয়, যেন, আমাদেরই পদবী।
তাই কি স্বর উঠেছিলো
আহ্লাদে, অটবীর?


সাঁতারু 

সমস্ত ঋতুর গান এক লপ্ত মেহমান।
তাকে মনে রেখে যেভাবে সাজিয়েছো
সেভাবেই তারা ঋতুবন্ধনীর ভেতরে আছে তো?
পাড়ায় পাড়ায় বৃষ্টি নেমে এলে
পকেটের রুমাল জলে ভেজাও, 
নাকি, রুমাল জ্বলে... 
যেভাবে ঘরবাড়ি পোড়ে, মানুষের বাগানও
ভেতরের খানাখন্দে ভেঙে ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়? 
সেরকম পশলা গানে 
নিক্ষেপগুলো জেগে থাকে?
তীরের দু-দিকে ফলা - 
ছুঁড়বো কিভাবে?
যেভাবে মধ্যবর্তিনী হাঁটে - 
ক্ষমা ও তীব্রতায়? 


স্পঞ্জ 

ছোঁওয়ালেই তুমি সব শুষে নেবে
এমন নরম তুমি?
ভগীরথ- মনোভূমি?
মাথায় শিরায় জলগুলো কাঁদছে।
বেঁধে রাখো, তুমি বড়ো জলাধার...
এমন শক্ত তুমি।

ছোঁয়ালেই সব শুষে নেবে,
এমন নরম তুমি! 


বৃত্র 

তুমি আর আমি বৃত্র। 
বৃত্রাসুরের গর্ভে
আমরা খাবি খেতে খেতে হাঁটবো।
জন্মালে, সব-দশ দিক ফালা ফালা... 
তেমন জন্ম কোথায়?
দিন নেই কোনো রাত নেই, 
এমন কোনো সময়
শিশুপাঠ থেকে চুরি করো সব অস্ত্র।
শান দিয়ে দাঁড় করাও।
এসো, এবার সবাই মিলে 
নিজেদেরই মড়া পোড়াই।
মহাশঙ্খরা খুলির মেধায় নাচবে। 
আর তপ ও সাধনা মহাপীঠ ছেড়ে
খ্যাপার মতো কাঁদবে।
শান দিয়ে কাঠগড়ায়
অস্ত্র-শস্ত্র ভেঙে ফেলে এক নির্মম তানপুরায়
সবাই মিলে কি গাইবো... 

আমরা সবাই বৃত্রাসুরের বংশ! 


মহাশঙ্খ

শ্মশানের পথ -
কাঠচিতা বড়ো খোলা।
ডেডবডি তাই ওপর ওপর পুড়ছে।
খুলিতে বোধহয় ঘিলু কেঁদে ওঠে রাতে।
কাঠচিতা বড়ো খোলা।
শ্মশানের পথ
ছোটো জঙ্গলে ঘেরা।
সন্ন্যাসী শুধু খিলখিল করে হাসছে।
খুলিতে মদের যোগ ও যোগিনী কড়া।
ডেডবডি তাই ভেতরে ভেতরে জ্বলছে।





কৃষ্ণকান্ত 

নিশাচর বরফে জেগে আছে প্রেমিক।
নিশাচর, সমস্ত ধার্মিক!
দাউ দাউ করে জ্বলে গেছে লোকালয়গুলো,
গভীর স্বপ্ন মুছে গেছে, 
হুলোরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে। 
সুমহান সিঙ্গাপুর,
নিশাচর প্রেমিক জেগে আছে। 




ভরপেট

গর্বে বুক ভরে যায়
সমঝে কথা বলো
আরক খেলে হজম হয়
বানান করে চলো।

এখানে খুব মশা
মশারি টাঙাই রাতে
বাইরে যদি কেউটে ঘোরে
অ্যাসিড ছড়াই পাতে।

গর্বে বুক ভরে যায়
পরীক্ষাতে ফেল করেছি বলে। 
আমার কিছু হবার ছিলো...
কেউকেটা নয়, তুচ্ছ এলেবেলে।

গর্বে বুক ফেটে যায়...
মায়ের দুটো কিডনি ফেল করেছে।
মা-মরা ছেলে বিড়ি খেয়ে
শ্রাদ্ধের আগে হবিষ্যি-পেট মেরেছে।

বলিনি তো মা খিদে পায়
আমার খুব খিদে পায়! 
মা শোনেন ওই চূড়ার থেকে, 
তাই গর্বে বুক ফেটে যায়! 


বাঁশ 

কিভাবে যেতে, কিভাবে যেতে বাঁশ?
বাঘ পালায়, জলেতে কেউ নেই।
সেভাবে ছিলো বনের কাঠুরিয়া
ফলতঃ তার চিৎপটাং-ই সই।

আমিও আছি, সেভাবে বেঁচে আছি
সকাল আর বিকেল সিনোনিমাস। 
মুখ বুজলেই পিছলে যাওয়া পড়ি
চোখ বুজলেই কিশোর অমনিবাস।



সুগন্ধ 

আমার চাওয়া না চাওয়ায়, 
কে তুমি এলে পুষ্প!
এলেই যখন আনন্দ হও,
ফুল ফোটে যে অল্প! 
আমি, দুঃখে পড়েই আছি
মন-ধাঁধানো স্বর্ণচাপার বুকে!
তোমার ইমেজ মন বসানো,
গন্ধরাজের স্বপ্ন গেছে চুকে। 


ছবি : বিধান দেব 



 


 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবিতা

সম্পাদকের কথা

দ্বিতীয় বর্ষ  ।। অষ্টম সংখ্যা ।। মার্চ ২০২২   খুব অসহায় লাগছে এবার। আমাদের ডান পাশে ধস। বায়ে গিরিখাত। মাথায় বোমারু। পায়ে পায়ে হিমানীর ব...