চৈতন্য- ৪
জ্যোৎস্না ডাকছে। আকুল হয়ে উঠছে যমুনা। আপনি দগদগে ঘা নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন জলের উপর। প্রতাপ রুদ্রও নয়, কৌশলী কাশী মিশ্রও নয়, আপনি হেঁটে যাচ্ছেন সমুদ্র ভেঙে
বৃন্দাবনে
যমুনায়।
বিষ্ণুপ্রিয়া কি তবে আজো অপেক্ষা করে?
যশোদা কি আঁচল খুলে দেখে নেয় সন্তানের প্রতিরূপ!
সমস্ত মায়া জড়ো করে হেঁটে যাচ্ছেন আপনি
আর আমরা বয়ে যাচ্ছি সেই মৃত গঙ্গা দিয়ে।
চৈতন্য -৮
বৈকুণ্ঠ থেকে নেমে আসছেন তিনি।
সদ্য ফোটা পল্লব কান্তি মুখ। মস্তকের উপর আর্তনাদের ঝুড়ি। তিনি নামছেন। ঝর্ণার বিচলিত প্রবাহ তার গায়। পায়ের তলায় মায়া।
সারা অঙ্গে ত্যাগের আলো।
বন্ধন ছিন্ন করে এইবার ছড়িয়ে পড়বেন আপনি।
ছড়িয়ে পড়বেন ঘাসেদের ওপর
পুঁজ নালীঘা রক্তাক্তদের ওপর।
আমরা ঘুমিয়ে রয়েছি মধ্যযুগে।
আর রক্তাক্ত উপসংহার পেরিয়ে আপনি খুঁজে চলেছেন উপত্যকা বরাবর।
যদি কোথাও সোনার নীলাচল থাকে।
চৈতন্য - ৯
পুরনো প্রশ্বাস ত্যাগ করবেন আপনি
সাজিয়ে নেবেন চন্দনচর্চিত মহিমা ।
আজ চারিদিকে প্রেমের গন্ধ, মায়া মায়া আকর্ষণ।
সব ঝেড়ে ফেলবেন আপনি
চিরতরে মুছে দেবেন রাত্রিকালীন আঙ্গুলের স্পর্শ
পূর্ব চুম্বন দাগ।
আপনার সমস্ত খেলা জেনে গেছে শচীমাতা
সমস্ত চাতুরী আঁচলে গিঁট দিয়েছেন বিষ্ণুপ্রিয়া
তবে আর চলে যাওয়া কেন?
যুদ্ধক্ষেত্র ফেলে
চুপি চুপি।
ছবি : বিধান দেব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন