রবিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২১

গুচ্ছ কবিতা ।। শান্তনু প্রধান


 তুমুল ইচ্ছে এবং আমি



ফুল আর তুমি কখনোই কেউ কারোর গুণিতক নাও

নিশ্চিত যুদ্ধ হবে জেনে গন্ধহীন বর্ণহীন

সমগ্র নিখিল জুড়ে শুধু আমি একা স্বপ্নের খোলস গুলো  জড়ো করি

অভ্যাস মত এক মুহূর্তের জন্য মুড়ে ফেলি শেষ রাতের জ্যোৎস্না

পরপর তুমি এবং ফুল তাও যে কেন কেউ দরজায় কড়া নাড়ছে

হালকা ডোরাকাটা চাঁদের বুক থেকে প্রবাহিত ফোঁটা

ধ্রুবতারা হয়ে যাদের ভিতরে প্রবেশ করলো

তাদেরও সভ্যতায় কীট ও বর্বরতা


চৈত্রের শেষ বাতাসে মল্লিকা বন পেরিয়ে রক্তের নদী পেরিয়ে

চুম্বনরত নগ্ন শরীর অবয়বহীন গোপন লোভাতুরা


পরিত্যাগ করো আমাকে ঊর্ধ্বমুখী সমাবেশ


তোমার কথা ও ছবির মাঝ বরাবর

একটি স্বভিমান দলা পাকাতে পাকাতে বৃক্ষ হয়ে উঠলো

আমি কেন প্রতিদিন সন্ধ্যার পর

সেই অভিমানের বিচ চাঁদের পিঠে পুঁতে

দু- গ্লাস হুইস্কিতে ভিজিয়ে দি মাদা

আজও অঙ্কুরিত হলো না জেনে

দ্বন্দ্বের ছাড়ি ভাঙে ধার্মিক সভা

তবুও যে কেন সবাই আত্মহননের পিপাসায়

একটি পাহাড় ডিঙিয়ে যাওয়ার পর অপমান ঢালো গেলাসে


তোমার কথা থেকে আমার বাড়ি সাঁওতাল পাহাড়

তোমার ছবি থেকে আমার দূরত্ব আকাশকুসুম

তবুও যে দেখা কেন পাপ হবে বল

অন্ধকারে চুপি চুপি ভালোবাসার তৃষ্ণায়

শিউলি গন্ধ ঋতুমতী হয়ে ওঠে


এগুলো কি মোটেই তোমার পিপাশার অঙ্গ নয়

ঋতুরঙ্গে শুধুই উঠে যাবে শরীরের যাবতীয় আঁশ

বলো বলো পরীক্ষাতে যদি প্রশ্ন আসে আলো কাদের

উত্তরে কি লিখলে তুমি তৃষ্ণা একা আমার


এখন আমি শূন্য

যদিও শূন্য থেকে ফুটেছে অনেক তারা

নীল বয়সে সাক্ষী রাখা কুসুম

তুমি বলো ভাসমান সব ভাসবে বলে

আগুন দেখেও যাও এগিয়ে আগুন যাবে সরে

কিন্তু দেহে লেপ্টে আছে অন্ধকারের পারদ


হঠাৎ কেমন ফিরে এলো বাবার ছবি

মায়ের আঁচল শ্রাবণ গন্ধে স্বরলিপি

তবুও দেখি ওই যে দূরে উদাসীন চিতা চন্ডালিনীর আঁচে

জানি না যুদ্ধশেষে কার জীবিত কলম

কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিরে যাবে 

জলহীন আকন্দ ফুলের অসুস্থতায় 


এসো লোভহীন ঘৃণা নিশি জুড়ে পরিত্যাগ করো আমাকে

ঊর্ধ্বমুখী সমাবেশে শুধুই বাজবে রবীন্দ্র সংগীত


 আমার কোনো শব্দ নেই


হয়তো তাই পথে পথে কাঁদে বৃক্ষের থ্রিডি

সেই থ্রিডি ঘুরে ঘুরে চাঁদের কালো ঘাই

কেনোযে খুঁড়ে বেরকরে আনে আমার জন্মের সাঁকো

আবারো বলি সেই সাঁকোর অভিমান জুড়ে গেয়লক্সি লিঙ্গের ওঠানামা

তবুও তুমি শুধু তুমি

জলের ভাঁজে ভাঁজে আমারই ছাই

ছায়ার আড়ালে রাখে এবং রাখে

বুদ্ধের  আঁতুড়

এখন কে কে একটু একটু ব্যাথা খুলে কুলুঙ্গীর দিকে মাথা ঠেকাবে বলো

আমরই অন্তর্বাস ঢেকেছে চাঁদের কালো কালো অন্ধকার 


আমি শব্দহীন ভেপুর শেষ তরঙ্গে রেখেছিলাম

জাগরণের শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার

কিসের আহ্ববানে বিশ্বাসের নদী দু'খন্ড করে

ভিখিরির দল খানিকটা জিরিয়ে বাল্মিকী মাড়িয়ে যায়

কিছুই বুঝিনা বলে মৃত্যু জমতে জমতে

মৃত্যুর মাঝে মাঝে একটি ঝিনুক রাতের সমস্ত স্বরলিপি দেখে ফেলে

আপনারা কি বিশ্বাস করেন

আমার গিটারের ছয় তারে

তাদেরই সুররিয়ালিস্ট

এখনো নিমপাতার আড়াল থেকে দেখে আফিং বিহীন শিবচতুর্দশী


ঝ'রে  পড়া পাতায় ফুটে আছে বৃষ্টির ছায়া



জলের  ব্যাকরণ জুড়ে আমার চূড়ান্ত ঘাই

বিমুর্ত নগরী সেগুলি খুঁটে খুঁটে

অনন্ত শূন্যে রাখে মাছেদের প্রকৃত উচ্চারণ

তুমি সেই পতন মুখ থেকে অনিবার্য ধূলিকণায় প্রশ্নাতীত


আজও অঙ্কুরিত পথেই মুখোমুখি বেহুঁশ রাত

জানি না কেন অপেক্ষার প্রহর ধরে ঝুলে আছে

ঝুলে আছে আমার ক্লান্ত সময়ের সম্ভ্রম

সেই রাত ও সম্ভ্রম চিরে চিরে যাবতীয় ধারাপাত

বৃষ্টির ফোঁটার মতো খসে পড়ে আঁচলে

 ধীরে ধীরে তোমার বৃন্তে ভার নামে 


ওহে বেদনাপ্লুত চোখের ঘনিষ্ঠতা

ক্লান্ত বিহীন বৃক্ষ শাখা কেন ঢাকো অনুর্বর  ত্বকে 

উৎসাহিত স্রোত নগ্ন শরীর অতিক্রম করে ভেসে যায়

বিদ্রুপ নয় স্রোতের দু'পাশে ধ্বংসের সম্ভাষণ

আরো পিচ্ছিল শ্যাওলা মাখো জ্ঞানহীন ক্যানভাস

অসুস্থ অন্ধকারে কতখানি সমর্পিত হলে

প্রতিটি রোঁয়া ওঠা রঙের ভাঁজে ভাঁজে 

জেগে থাকা নিঃশ্বাস ম্যাজিক হতে পারে


ছবি : বিধান দেব 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবিতা

সম্পাদকের কথা

দ্বিতীয় বর্ষ  ।। অষ্টম সংখ্যা ।। মার্চ ২০২২   খুব অসহায় লাগছে এবার। আমাদের ডান পাশে ধস। বায়ে গিরিখাত। মাথায় বোমারু। পায়ে পায়ে হিমানীর ব...