মিরর
তেল চুকচুকে কাঠের ফ্রেমে আটকানো বেলজিয়াম
আয়নার বয়স বাড়ে না --- দিনদিন বাড়ে প্রতিচ্ছবির
আয়নাটির পেটে ভরা একমাথা ঝাকড়া চুলের ঢেউ
কখনও লম্বা বিনুনি আর লালফিতের অহংকার
আসন্ধ্যা সারা পাড়া চষে নির্মিত আখ্যান ঢুলুনি চোখে
চিরুনি ও আয়না একসময় পড়ার ঘরে জোট বাঁধে
ভুরুর ঢেউ ভেঙে নেমে গেছে ভোরের শাপলা
মেঠো স্কুলপথ এখন উন্নতির নামে শান বাঁধা
পুকুরের ও-ই পাড়ে লুকনো দৃষ্টি ফেসবুকে আসে
না-লেখা চিঠির বয়ান বেশ মাসতুতো বোনের ঘরে
স্কুলছুটির পর দীর্ঘ বিকেল গ্রাস করে গেছে সন্ধ্যা
সে-ও ঘুরপ্যাঁচে মায়াবী শহরের ক্ষুন্ন ফ্ল্যাটে এবেলা
একা থাকলেই আয়নাটা কেমন আকাশ নামিয়ে আনে
প্রবাহ
যাকেই বলি একটা মনমতো ছবি আঁকো ভাই
সবাই আঁকে খন্ড খন্ড মেঘ নীল আকাশের গায়
অনেক দূরে দূরে মেঘেরা ভাসে ওড়াউড়ি করে
রাতে ঘুম আসে না --- রাত-জাগা গার্ড যেন
অসংখ্য তারা গুনে গুনে তন্দ্রা আসে ভোরে
কারা স্নান সেরে ভেজা কাপড়ে উঠোন পেরোয়
মনে হয় এপাড়ার সবাই বেশ ভালো আছে
অচেনা মনে হয় না কারো চৌকাঠ চৌহদ্দি
তবু্ও কেউ আঁকে না মেঘবালিকার ছবি
নদীর কাছে গিয়ে বলে না --- দাঁড়াও বন্ধু সেল্ফি তুলি
সে যেন সবার কাছে অজানা অচেনা অমূলক অশ্রেয়
অশনি
এইতো এলে --- সঙ্গে বৃষ্টিও এলো এলোপাতাড়ি
উত্তমপুরুষ বৃষ্টির ছাঁটে ভিজে ভিজে একশা
খেলা হবে এবার হোক তা কাদাজলে হাডুডু
ছুঁয়ে দিলেই --- মরা...তছনছ কোটের কাটা দাগ
সন্ধেবেলায় পুকুরপাড়ে একা যেও না কখনও
কয়েকধাপ সিঁড়ি থাকে জলের তলায় ---- আর
পুটিমাছেরা খুঁটে খেতে আসে পায়ের ভেজা নখ
চাঁদ এসে কখন চুপিচুপি ঢেলে দেয় রুপালি নদী
ফেরার পথে ভুলভুলাইয়া লাগে পথ হারাবে নিশ্চিত
আঁকিবুঁকি
আলতামাখা পা কবে সরে গেছে বাংলার দৃশ্যান্তরে
ধামালি রোদ ফেলে অন্ধকারে গান ধরেছে ভ্রমর
কথার পিঠে কথা প্রশ্রয়ে রূপকথা সিরিয়াল
কারুর কানে বাজেনি হারমোনিয়াম মিহিসুর
জল বাড়ে আষাঢ়ে --- শ্রাবণে ভাঙে ঘাট তবু
ভাঙা ভাঙা সংলাপে জমে ওঠে ভাদরের প্রত্যয়
সকলেই সকলের আসামী --- কে তবে বিচারক
বাঁশতলায় বনে জোনাকির বৃত্ত ওড়াউড়ি করে
আঁকার দিদিমণি এইসব নিত্য আঁকে ক্যানভাসে
ছবি : বিধান দেব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন