ঘুম কিংবা ঘাম বিষয়ক
এক.
ঘুম হারিয়ে গেলে ঢাল বেয়ে নেমে আসে কুয়াশা
উলঙ্গ ঘরের ভেতর যুদ্ধরত
দুটো কাঁচা লোহার তলোয়ার
যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ শব্দবন্ধের মতো
সময়ের ক্ষত ও ক্ষয়ের বিপরীতে আলো জ্বলে ওঠে
চিমনি বেয়ে উঠে আসে উত্তপ্ত আর্তনাদ
সামান্য মধুর জন্য এ রাতকে অস্বীকার কোরো না
হ্যারিকেনের ফিতে ক্রমশ বেঁটে হয়ে আসছে
দুই.
এক পিয়ানো গান নিয়ে বসে আছি
উন্মুক্ত আকাশে কত ফড়িং!
দীর্ঘ বিরতির মতো যদি দাঁড়িয়ে থাকো
যাবতীয় জলছাপ উবে যাবে
এত উত্তাপ সহ্য হচ্ছে না
নখে নখে জমে উঠছে প্রাচীন শ্যাওলা
সমস্ত দীর্ঘ রাতে
কীটনাশকের পাশে গান হয়ে বেজো
তিন.
এই অস্বীকার পর্ব গভীর প্রলেপ হয়ে আছে
যাতায়াতের পথে আপাতত কোনো টোলগেট নেই
লজ্জাবতীর ফুলগুলো জেগে থাকে, মুদে যায় পাতা
অতএব একে একে দুই মিলিয়ে নিও না
মাকড়সার তাঁতে কিছু মাকু ছিল,
ওসব এতটা কার্যকরী, ভুলেও ভাবিনি
কাঁচের সিলিংয়ে নিজস্ব নিথর ছবি ভেসে ওঠে
দক্ষিণের পর্দা বলতে অস্তমিত আঁচল,
দারুচিনির গন্ধ, বিষণ্ন হলুদের দাগ
চার.
এমন অপ্রস্তুত অন্ধকারে খুব ঘাম হয়
ফুলের শুকনো রেণু ছড়িয়ে দিই পুরনো অ্যালবামে
পদ্মপুকুরে মৃত আলোপোকাদের ডানা
এলোমেলো টেক্সটের উপর তারপিন তেল
শেষ রাতে নাম না জানা পাখি ডাকে
পিছলে যাই সময়ের নামতার ভেতর
পাঁচ.
রেসমাঠের নিচে আমাদের কাঠের বাড়ি,
এখনও শব্দ শুনতে পাই
ঘোড়ার কথোপকথনের ভেতর হারিয়ে গিয়েছিলে
দেখতে পাওনি উল্টানো আংটি
স্পর্শ ডিকোড করতে অবরোধ দরকার
তাই ব্যারিকেডের পাশে রাতপোশাক
আর আয়ু ফুরিয়ে যাওয়া ঘুমের ওষুধ
ছবি : বিধান দেব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন