হাসপাতালে প্রেম
ডেটলের গন্ধ আজ রজনীগন্ধার হাসি নিয়ে ঝরে পড়ছে তোমার মুখে।
প্রিয়তমা, তোমায় ভালবাসি।এটা বিনোদন পার্ক নয়।নয় নির্জন
নদীর ধার। ৪টে ৫টার ভিজিটিং আওয়ারে আমরা চালাচ্ছি
প্রেমালাপ।দূর বহুদূর থেকে ভেসে আসছে ঘন্টাধ্বনি। পাহাড়
চুড়োয় কোনো ত্রিকালদর্শী দেবতার মন্দিরের নয়।সময় শেষের
ঘন্টি।মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে আসে।খরস্রোতা নদীর মত বয়ে যায় সময়।
আমাদের আয়ু বাড়ে। কথা ফুরোয় না।মর্ত্যের এক অতিসাধারণ
দ্বাররক্ষী এসে ঘোষণা দিয়ে যান। যিনি পারিজাত দেখেননি।
বাইরের দূষিত হাওয়ায় আমার হাত ভিজে আছে।না,তোমার হাত
ছোঁব না। বিদায় প্রিয়তমা।আজ যেখানে শেষ করলাম,কাল আবার
সেখান থেকেই শুরু হবে আমাদের খোঁজ।
২.
তোমার ক্যাথিটার খোলা হলে যে আনন্দ হয় প্রিয়তমা, এখন মনে
হয়, প্রথম চুম্বনে তা অধরাই ছিল।তোমাকে এভাবেও পাবো ভাবিনি
কখনো। নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি আমরা। আর কুয়াশার
চাদরে ঢেকে যাচ্ছে রাস্তাঘাট দূর জনপদ। আশ্চর্য এক সুর জেগে
উঠছে। নাচের ছন্দে মৃদু মৃদু দুলছে এই হাসপাতাল। সেই দোলা
তোমাকেও বিভোর করেছে।যখনই তাকাই দেখি, চাদরের তলায়
তুমি হাত নাড়ছো দ্রুত। বিদায়বেলার হাসি।প্রত্যুত্তরে আমি কি
করি! নিজের হৃদয়টিকেই দোলাতে থাকি মুখের সামনে।
৩.
শরীর যখন আছে তা তো বিগড়োবেই। তবু এত ঢেউ এসে ভেঙে
দিচ্ছে বাঁধ। দেখে চমকে ওঠো কেন? একটা টেলিফোন রিং
এম্বুল্যান্সের উচ্চকিত শব্দে ফেটে পড়ে।আধো ঘুম আধো জাগরণে
দেখো মাঝিমাল্লারা সেরে নিচ্ছে রাতের আহার। ভোর হলে যাত্রা
শুরু হবে। ট্রলির নৌকায় চেপে এক ল্যাব থেকে আরো এক ল্যাবে।
প্রিয়তমা,বড় ভালবাসি।তোমার বিষাদ করুণ এই সৌন্দর্যের দ্যুতি
একজীবনের চাওয়া হয়ে থেকে গেল চোখের পাতায়।
৪.
আশঙ্কার মেঘ সরে গেলে পুষ্পবৃষ্টি হয়।চুলের কিনার ধরে গোলাপের
পাপড়ি ফুটে থাকে। ডানা ছড়িয়ে এই হাসপাতালও আজ ভেসেছে
আকাশে। নীচে খুব নীচে এক ছোট আবাসন। সেখানে বাসনকোসন
আর বালিশবিছানারা বলাবলি করে।মুখ চাওয়াচাওয়ি হয়। গৃহিণীর
হাতের ছোঁয়ায় জেগে ওঠে ঘুমন্ত সংসার।ফটোফ্রেম আর দরাজ চেয়ার
আড় ভাঙে।ছাদের কোণে কোণে জমে থাকা ঝুল অশ্রু মুছে নেয়
হাতের চেটোয়।
ছবি : বিধান দেব

প্রথম পড়লাম । ফার্স্ট বলেই সিক্সার।
উত্তরমুছুনখুব ভালো কবিতা। সরল এবং সৎ। সেকারণেই বলিষ্ঠ।
উত্তরমুছুনবাহ!
উত্তরমুছুনদ্বিতীয় কবিতাটি পড়ে কাঁদলাম অনেকক্ষন।
উত্তরমুছুন