মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১

ধারাবাহিক গদ্য : অরিন্দম রায়

 


ভিনদেশি তারা

রোজমেরি ডান 


জীবনে তিনি একটিমাত্র ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন। ‘প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পড়েছিল সেইদিন , খেলা দেখতে খুবই অসুবিধা হয়েছিল।’ সেদিনের কথা বলতে গেলে এটুকুই তাঁর মনে পড়ে। এরপর অনেকগুলো বছর কেটে গেছে, প্রায় চল্লিশ বছর বয়সে , দুই কন্যা সন্তানের মা , রোজমেরিকে গণ্য করা হয় হাতে গোনা সেইসব কবি সাহিত্যিকদের মধ্যে যাঁরা পরিচিত ‘the Stroud Football Poets’ নামে। রোজমেরি বলেন যে, ‘পুরুষ আর ফুটবল খেলা নিয়ে প্রচুর পরিমাণে লেখালেখি হয়েছে।’ কিন্তু তিনি ‘ আগ্রহী খেলাটির প্রতি মেয়েদের দৃষ্টিভঙ্গি  নিয়ে , মেয়েরা কোন চোখে দেখছে ফুটবল খেলাকে সেটা নিয়ে। মাঠের বাইরে থেকে দেখার  মতো। ছোটবেলায় ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে সকলেই ফুটবলে লাথি মারার সুযোগ পেত। ব্যাপারটার মধ্যে একটা অসম্ভব সরলতা ছিল। কিন্তু এরপরেই একটা মুহূর্ত আসত যখন লিঙ্গভেদাভেদের গণ্ডী টেনে দেওয়া হত আর তারপর ফুটবল নামক খেলাটা পরিণত হত ছেলেদের সম্পত্তিতে।’

রোজমেরি তাঁর ‘Different for Girls’ কবিতায় স্মৃতিচারণ করেছেন শৈশবে ফুটবল খেলতে তিনি কতটা পছন্দ করতেন আর এই কারণেই মাঠের অন্য মেয়েরা ( যারা ফুটবল খেলত না) তাঁকে ‘টমবয়’ বা পুরুষালি মেয়ে বলে ডাকত। তিনি আরও বলছেন ‘একটা সময় ছিল যখন আমিও অন্যান্য মেয়েদের মতো টাচলাইনের ধারে দাঁড়িয়ে আমার বয়ফ্রেন্ডকে ফুটবল খেলতে দেখতাম আর তার জন্য কমলালেবুর খোসা ছাড়িয়ে রাখতাম যাতে সে হাফটাইমের সময় সেগুলো খেতে পারে।’ পুরুষদের আগ্রাসন আর প্রাচীন প্রবৃত্তির রোজমেরি মৃদু সমালোচক। তিনি বলেন ‘আমি পুরুষদের ঘৃণা করি না, ফুটবল খেলার সময় তাদের আচরণ আমার গোলমেলে লাগে’। তিনি তাঁর লেখায় নতুন প্রজন্মের সেইসব মেয়েদের ব্যঙ্গ করতেও পিছপা হন না ,যারা ফুটবল খেলাটা দেখে থাকে  শুধুমাত্র এই কারণে যাতে তারা পুরুষ খেলোয়ারদের সুগঠিত পায়ের প্রশংসা করতে পারে। অবশ্য এরপর তিনি আরও বলেন যে ছেলেরা যদি মহিলা টেনিস খেলোয়ারদের অনাবৃত পায়ের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে পারে তাহলে এক্ষেত্রেও তিনি দোষের কিছু দেখেন না।

সম্প্রতি ‘The Trouble with Love’ নামে তাঁর একটি উপন্যাসও প্রকাশিত হয়েছে। ব্রিটেনের ব্রিস্টলে তাঁর বাড়ি। ‘City: Bristol Today in Poems and Pictures’ নামক সংকলন ছাড়াও আরও নানা কবিতা সংকলনে রোজমেরির কবিতা প্রকাশিত হয়েছে।


 

ডেভিড বেকহ্যাম আমার পিছু নিয়েছিল


ডেভিড বেকহ্যাম আমায় অনুসরণ করে।

সুপারমার্কেটের আশেপাশে সে ঘোরাফেরা করে ,

আমাকে অরগ্যানিক জিনিসপত্র কিনতে অনুরোধ করে।

“এগুলো ভালো , এগুলো টাটকা ,”এইসব আবোলতাবোল বকে।

‘আর তুমি কি আমায় দেখেছিলে , টিভিতে , গত শুক্রবারে?’

 

ডেভিড বেকহ্যাম আমার পিছু নিয়েছে।

আমি সেদিন পাব-এ যাওয়ার পথে তাকে দেখেছিলাম।

“তুমি কি ব্রুকলিনে তোলা আমার ছবি দেখতে চাও?

ভিক্টোরিয়া তোমাকে তার ভালোবাসা জানিয়েছে।”

সে তার সবচেয়ে ভালো বালকসুলভ লাজুক হাসিটি হাসে।

তারপর আমাকে বলে , খুব একটা প্রাসঙ্গিক নয়:

“আমি বলটা মেরেছিলাম , আর সেটা সোজা জালের ভিতর ঢুকেছিল।”

 

ডেভিড বেকহ্যাম

রাতে আমার বিছানায় গুটিসুটি মেরে ঢোকে।

“সুইট ড্রিমস , ছারপোকাদের তোমায় কামড়াতে দিও না।”

তারপর সে ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যায় ,

প্রথমে তার শরীর , তারপর তার কান , যতক্ষণ পর্যন্ত তার হাসিটা

ওইটুকুই পড়ে থাকে।

একটা চেশায়ার বিড়াল ফুটবল খেলার দুটো পা সমেত।

আমি তার কানে ফিসফিস করে বলি: শুভরাত্রি ডেভ।”

এটুকুই , এর মধ্যে অশালীন কিছু নেই।

সে নিছকই আমার শীর্ষস্থানীয় বন্ধুদের মধ্যে একজন ,

আশ্চর্যজনকভাবে অযৌন । 

 

 

 

 

 

ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম , ডেভিড বেকহ্যামের স্ত্রী । ‘স্পাইস গার্লস’ নামক বিখ্যাত ব্যান্ডের অন্যতম সদস্য।


২টি মন্তব্য:

  1. খুব ভালো লাগছে এই লেখা আর কবিতা।অনেক শুভেচ্ছা রইলো। কিন্তু কবিতা একটার বদলে দুটো হলে আরও ভালো হয়।মন ভরে।

    উত্তরমুছুন
  2. কতবার পড়লাম!আশা মিটিল না।ভয়ঙ্কর সুন্দর লেখা।অযৌন-দারুন শব্দচয়ন।সমৃদ্ধ হলাম।ধন্যবাদ।

    উত্তরমুছুন

কবিতা

সম্পাদকের কথা

দ্বিতীয় বর্ষ  ।। অষ্টম সংখ্যা ।। মার্চ ২০২২   খুব অসহায় লাগছে এবার। আমাদের ডান পাশে ধস। বায়ে গিরিখাত। মাথায় বোমারু। পায়ে পায়ে হিমানীর ব...