বাইরে ঘন বর্ষা, ভেতরে ক্রমভঙ্গুর পৃথিবী। একদিকে মানব মহামারী, অন্য দিকে পৃথিবী নামের এই গ্রহটির নানা ক্ষয়িষ্ণুতা নিয়ে বিজ্ঞানীদের আশংকা আমাদের সব মুখরতা স্তব্ধ করে দিতে চায়। এ সময় আমাদের কী করা উচিত? মনের ভেতরে থাকা সুন্দর অন্ধকারকে সামনে এনে প্রশ্ন করি--- এই মুহূর্তে আমাদের কী কী করণীয়? মনের ভেতরে থাকা সুন্দর আলোকে সামনে এনে প্রশ্ন করি --- এই মুহূর্তে আমাদের কী কী করণীয়? কোনও উত্তর নেই! নির্বিকার এক সমাজের বাসিন্দা আমরা। আমাদের সমাজ আমাদের সমস্ত শুভ বোধের ওপর পা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যে জীবন হনন আর মনন শব্দের তাৎপর্য বোঝে না (এখানে শিক্ষিত অশিক্ষিতের কোনও প্রশ্ন নেই) সে জীবন ফড়িংয়ের, দোয়েলের আত্মসাক্ষাত পাওয়ারও যোগ্যতা হারায়। মানুষকে ভালোবাসার নমুনা এই পৃথিবীতে অনেক আছে। কোনও কোনও ভাগ্যবানরা সেই অপার ভালোবাসার উৎসমুখে আবিষ্কৃত হন, বাকিরা কোথায়? এভাবেই চলে আসছে মানব সভ্যতার স্বকালপ্রবাহ। আমরা যারা সুদূরভাবিত সেক্যুলার (নিরপেক্ষ অর্থে ), আমরা যারা চিন্তায় যথেচ্ছচারী --- তাদের কাছে ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠছে আত্মনিরপেক্ষ মননের জগতটি। তারই মধ্যে শিল্প -সাহিত্য-সংগীত বস্তুত অভ্যাসবশত আচরণের মতো প্রকাশিত হচ্ছে। অভ্যাস মানে বহু অনুশীলনকুশলী সৃষ্টির ব্যবহৃত কলাভঙ্গিমা, যা এই নির্বিকার সমাজের স্বাস্থ্য সম্মত। যাপনের ব্যাভিচারের থেকে সাধনের ব্যাভিচার ভয়াবহ। আমাদের নক্ষত্রসমান প্রজ্ঞা দিয়ে আমরা কেন সেই সাধনের মুখোমুখি হব না? আমরা চলে যাব। কিন্তু ভুলে যাব না আমাদের প্রশ্বাসের নিগূঢ় মায়া মানবেতর বিশ্বের কাছে তথা বিশ্বহীন বিস্ময়ের কাছে একটা প্রশ্ন চিহ্নের মতো থেকে যাবে। চেতনার আসল মর্মে সেখান থেকে শুরু হবে আর এক মানব যাত্রার। যা কখনও ভাবিনি, মহামারীর কবলে পড়ে সেটাই করতে হল। দীর্ঘ পঁচিশ বছর প্রিন্ট পত্রিকা সম্পাদনার পর এবার ভার্চুয়াল জগতে প্রবেশ। চিরকালই দূরকে নিকট করতে অক্ষরের ওপর ভরসা করে এসেছি। এখনও তাই। শুধু মাধ্যম আলাদা। সত্যমেব জয়তে।
চিত্র গ্রাহক: অনিরুদ্ধ মান্না

সুন্দর অন্ধকার, আর সাধনের ব্যাভিচার , কথা দুটি ভাবনার জন্ম দিল। ই- ঠিকানা দেওয়ার অনুরোধ করছি।
উত্তরমুছুনস্বাগত জানাই বেলাভূমিকে নবরূপে
উত্তরমুছুনসুন্দর সম্পাদকীয়।
উত্তরমুছুনবাঃ খুব ভালো লেগেছে..
উত্তরমুছুন