বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

তাজিমুর রহমান




সরগম




আমাদেরও ফেরা ছিল! নিরাভরণ সে গমনের

কোন প্রক্ষেপণ ছিল না, একটা নিবিড় চঞ্চলতা 

জলের মতো ছুঁয়ে থাকত ধ্বনিময়

প্রিয় বৃক্ষের দল তার প্রতীতি তুলে রাখলে

মেঘের মতো জড়িয়ে ধরে জ্বর,তখন স্বরহীন 

অনুভূতিগুলো লক্ষ্যহীন ব্যারোমিটারে ওঠানামা করে


পথ হারিয়ে যায়। পড়ে থাকে চিহ্নবিহীন আলস্যরেখা

প্রতিগমনের পুনঃপ্রস্তুতি সেরে নেবার কথা ভাবলেই

নিখিলের মতো দুহাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসে

সজল বিকেল,পর্ণমোচী সম্পর্কগুলো

একটা নতুন ভ্রমণের অপেক্ষায় সেজে ওঠে চরাচর


তখন সমস্ত শূন্যতার ভরকেন্দ্র জুড়ে নিঃশব্দে 

ধ্বনিত হয় অন্তরার কোমল সরগম



স্বপ্ন




আমারও তো নিজস্ব বাতিঘর আছে যেখানে আজো অতন্দ্র থাকে বিবেকের বোধিবৃক্ষ

আর অক্ষ থেকে নেমে আসা ঝুরিগুলো জীবনের কথা বলে

অথচ ভুয়ো কথনে যে মায়া লেগে থাকে তার ভেতরে

বর্ণহীন অক্ষরেরা  জায়মান থাকে বলে

কালান্তরে ঝরে গিয়ে জেগে ওঠে প্রকৃত সারস


অতলান্ত স্রোতে যে কালধ্বনি নিবিড় সঙ্গমের মতো

বিনীত আবেশে বিন্যস্ত

তার ভেতরে বেজে ওঠে লোকায়ত সুর

কেবল রাত্রি চঞ্চল হলে নখর ধ্বনিগুলো নির্বাসনে যায়


একটা নিবিড় স্বপ্ন তবু ছন্দময় পাড়ি দিয়ে যায় চরাচর




ধারাপাত



নিবিড় শূন্যতার উপর ভেসে আছে সত্ত্বার অংশবিশেষ

দৃষ্টির ভেতরেও গহন বিষন্নতা

নিদ্রাহীন রাত্রি ক্রমে দীর্ঘতর শ্বাসের মত ছমছমে

বাঁশপাতার ফাঁক গলে এইমাত্র নেমে এলো যে চাঁদ

তার ডানায় পরীদের পরম্পরা খেলা করে

বৃষ্টি এলেই লিখে দিই কচুপাতার জলতরঙ্গ


হে আমার প্রতিপক্ষ প্রতিপালক একবার দেখো 

এই মাতৃভূমি

কেমন করে উতল কাঁচের মত দেখিয়ে দিচ্ছে

স্তন্যপায়ী মানুষের ধবল বিষাদ আর সবুজ সংসদ!

জেগে থাকে একা গ্রাম, কৃষানীর কন্ঠে ভাসে অরণ্যগীতি 

আর নিভৃতে লালিত হয় প্রীতিময় ক্যানভাস 


অথচ মেদহীন ছায়ায় কারা যেন লিখে রাখে 

যোগবিয়োগের ধারাপাত আর

রাখালগোপাল-এর অনলস পরিভ্রমণের কারুভাষ


ছবি : বিধান দেব





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবিতা

সম্পাদকের কথা

দ্বিতীয় বর্ষ  ।। অষ্টম সংখ্যা ।। মার্চ ২০২২   খুব অসহায় লাগছে এবার। আমাদের ডান পাশে ধস। বায়ে গিরিখাত। মাথায় বোমারু। পায়ে পায়ে হিমানীর ব...