বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

সায়ন রায়




মেরুযাত্রীর  ডায়েরি 


বিশুদ্ধ কোনো ফুল নেই।এই কথা জেনে আত্মহত্যার পথে এগিয়ে গেল যুবকের মায়া। 

তোমার সূর্যঘড়িতে তুমি দেখে নাও সময়ের পদছাপ। থমকে যাওয়া আলো। আত্মার

ভারটুকু ছাই হয়ে উড়ে যায় রেণুতে রেণুতে। বৃথা বাক্যালাপ। 


একটা সাইরেনের শব্দ চমকে উঠছে সকাল বিকাল। নাম না-জানা কত ভয় তোমার

জামার সুতো আর মোজার উল হয়ে জেগে আছে। মিশকালো অন্ধকারে প্রেতের মত 

এক ছায়া আধিভৌতিক। বিশ্বাস ও ভ্রম একই ছাদের নীচে সহজ হয়েছে। 


এবার দূরের পথে। বাস থেকে নেমে হেঁটে গা-গঞ্জে। নির্জন এক চায়ের দোকান কতযুগ 

ধরে তোমার প্রতীক্ষায় ঠিক ওইখানে হাঁটুমুড়ে বসে।


ভালবাসা ভাল। তার চেয়ে ভাল অভিমান। গুমোট আর অসহ্য এক হাওয়া থেকে খসে 

পড়ছে ছাল একটু একটু করে। জন্ম নিচ্ছে শিল্পের ভোর।


২.

এই যে এতবড় হাঁ। গিলে নিচ্ছে দিন রাত্রি সকল সবুজ। তুমি পোশাক বদলে নিয়ে হেঁটে যাও

তারাভরা খেতটির পাশে। দিনশেষে গান ভেসে আসে। নিদারুণ কান্নাগুলো ঝুরোঝুরো বরফের

খই। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসে একা পর্বতারোহী। 


নিঃস্ব এক সময় থেকে উপচে উঠছে আগুনের স্রোত।বানভাসি মানুষেরা বিশ্রাম নেবে বলে

গুটিগুটি জড়ো হয় মন্দির চাতালে। অনন্ত এই অবসরে ভেজাকাক সুর করে পাঠ করে

কথাসরিতসাগর। 


ছিন্ন এক গ্রন্থি থেকে যাত্রা শুরু হয়ে গনগনি খোয়াইয়ের ধার। পাঁজরের দাঁড়গুলো সোনার 

শেকলে আঁটোসাঁটো। ফুটিফাটা রোদ। ক্লান্ত পথিকের এলিজি রচিত হয় ধূর্ত কোনো 

শেয়ালের হাতে।


কাব্য ও ব্যক্তির সত্য। মাঝখানে একফালি মাঠ। জোৎস্না এসে পড়ে। একগুচ্ছ জুঁইফুল 

সারারাত সুগন্ধ বিলোয় নিষ্পাপ। 


.

ব্যথাদের দল হাঁস হয়ে উড়ে যাচ্ছে দূরের আকাশে। তুমি প্রশ্ন কর।প্রশ্ন ছুড়ে দাও। প্রতিটি 

প্রশ্নের কাঁটা থেকে রক্ত ঝরে পড়ে। অসহায় সমুদ্রবেলায়।


সেবারে জঙ্গলে গিয়ে মজা হল খুব। বুনো মোষ আর বাইসনের সাথে সখ্য রটে যায়। গভীর 

রাতে উড়ন্ত নরকের সেই রক্তমেদুর স্বাদ আজও আমার জ্বর হয়ে আসে।


ভাবনারা গুটিয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে।স্মৃতিও অপস্রিয়মাণ। আর স্বপ্ন ভোররাতে উঠে

পুকুরের জলে নিজেরই মুখের দিকে অপলক চেয়ে থাকে। বাক্যহারা জল।


তুলে নাও রুকস্যাক। টুকিটাকি এতোলবেতোল। তাঁবু গুটিয়ে নিয়ে আরও দূর হেঁটে যেতে 

হবে। বর্ষায় পাহাড়ি পথ। ভীষণ পিছল।


ছবি: বিধান দেব 



                      

২টি মন্তব্য:

কবিতা

সম্পাদকের কথা

দ্বিতীয় বর্ষ  ।। অষ্টম সংখ্যা ।। মার্চ ২০২২   খুব অসহায় লাগছে এবার। আমাদের ডান পাশে ধস। বায়ে গিরিখাত। মাথায় বোমারু। পায়ে পায়ে হিমানীর ব...