বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১

গুচ্ছ কবিতা ।। মঞ্জীর বাগ


 

রিংটোন

স্নান সারতে গিয়ে দেখি
নদীগান ভাসতে ভাসতে স্বরধারায় মিশে যায়
নদীর বয়ে যাওয়া মানে দীর্ঘ  পরিভ্রমন
ভ্রমন থকে বলেই জীবন এতো মধুময়

ভাবো, কোন নদী অতীতবেদনার পাড় ছুঁয়ে
এই বর্তমানে  এসে বিশ্রাম নেয়
ক্ষত জুড়ানো ছাড়া হৃদয়ের কাজ নেই বেশী,কেবল
লাব্ডুব

সিন্ধু সভ্যতার মাঝে লুকিয়ে আছে মৃতের স্তূপ
আসলে, প্রতি  সভ্যতায় প্রাচুর্যেই চাপা পড়ে যায় মহেঞ্জোদারো

এ মুহুর্তে ধরা যাক পথঘাট নিস্তব্ধ
অনন্ত নিঃশব্দ হতে চাইছে পথ
মুত্যু এবং শ্বাস ঘাড়ের কাছে

দূর হতে হতে দূরত্ব।প্রান্ত দিগন্ত শেষ
আমরা  কাছে আসতে  গিয়ে ভীড় করে ফেলি

ভিড়ে হারায় কথা
হাতে থাকে রিংটোন নদীগান মোবাইল




আরশিনগর

মেঘ জমে জমে রক্ত বৃষ্টির আগেই  অর্গল বন্ধের নামই বিচক্ষনতার গান। প্রতিটি নিরন্ন ভাতের থালার  শূন্যতার এক কোনে লবন বেড়ে দেয় যে তাকে ধান্যদেবী বলে নিভৃত প্রনাম।
অন্ধকারে দেখা যায় না, বোঝা যায় অনেক কিছু। 
যাকে প্রেমিক বলেছিলাম তাকে বুঝতে গেলে অন্ধকার ও চিতার আগুন লাগে।
 বন্ধুত্বের  চিতার আগুনের আলো অন্ধকারে সদ্য বিধবার সহবাসে বানজারার  গানের  খোঁজ 
 
এই আলো  অন্ধকারে যাকে পাও তাকে কি
 আলো বলে ডাকো কবিতা?

বৈঠার ভাঙা জলে আমার অপেক্ষায় আছে
 মহিন মাঝি
জলের মধ্যে ডুবে যাবে বলেই কি তোমার নাম মেয়ে ঠান্ডালতা? উঠে এসো। পরমান্নের গান
এভাবে ভাসতে ভাসতে রক্তের ওপর ভাসে 
লবনাক্ত জল

রক্তচক্ষু শ্বাপদের কাছে ক্রীতদাসের মতো নতজানু মেরুদন্ডে এখনও বাঁচার গান লেখা আছে
দূরে মাটির স্বপ্নে নতুন ধানের গানে জেগে ওঠে
ধানগাছ,  দেবী শাকম্ভরী


মাটির কবিতা

মাটি ছুঁয়ে যে গান সেই গানই আকাশ 
 জীবনের কথকতা,  মাটিরবুক চিরে জেগে ওঠে বীজ
এক মানুষ আকাশের প্রাণ নিয়ে চেয়ে থাকে, 
 উড়ে যাওয়া লাল ভোরের ডানায়। খুঁজে পায় অক্ষর কলম
লাবডুব বুকে র ওঠা পড়া বর্ণের সৃজন বাঁশি
কাগজ পাতায় ছবি এঁকে যায়,ছবিতে নগরের
কালো হাওয়া নেই,ভেঙে যাওয়া শব্দের ফাটা আওয়াজ। শুধু সবুজ সমুদ্রের দোলা গান

একটি সুর জীবন প্রাণের  আলোময় ছড়
টেনেটেনে  বেজে যায় একলা বিনোদ
শহরের কাছে তার প্রেমের আকাক্ষা নেই
শহর আসলে পরকীয়া।মাটি আলপথ ছুঁয়ে 
হেঁটে শব্দের চাষাবাদ। তার আছে স্নিগ্ধ মুগ্ধতা।নিরালা প্রেম

মাটির উপর বসে কবি।মাঠ যেন খোলা বই।মানুষের 
ঘরবাঁধার  খোলা ইতিহাস। আর্যরমণীর
মাটিখেতে বীজধানের গান। দোলাধানের বুকে
একদলা রক্ত। লুটেরা পুড়িয়ে দিচ্ছে ধান। ছেঁড়া খোঁড়া মাটি রক্ত মুছে আবার জেগে উঠে গাইছ নতুন গান

কবির গান মুছে যেতে পারেনা। লেখা অক্ষর হারিয়ে গেলেও মিশে যায় গাছের পাতায়, নদীর জলে ডানা ঝাপটানো সুরে
নতুন গান লিখতে গিয়ে জেগে ওঠে সেই অক্ষর
কবির কোনো মৃত্যু হয় না। কবিতার কখন মৃত্যু  হয়না।
কলম পালটে যায়


শুদ্ধ

 অপার্থিব আগুন খোঁজে অগ্নি উপাসক
গোপনীয় বৃষ্টি নিভে যাওয়ার ইচ্ছায় মেঘলোভী
মেঘ আছে তবু নেই বৃষ্টির গান বলে হাহাকার  সেই দৃষ্টিকলম,   শ্বাস ছুঁয়ে মায়াবী হরিণ
খোলা প্রান্তরে দেখা হয় বলে উজ্জ্বল নির্মিতি,

যাকে প্রেম বলে ভাবো সেই গানে ছুঁয়ে যাই   রাধানাম
প্রেম নামে জেগে ওঠা যায়,মধুর সংহতির নক্ষত্রগান
বহন করা বুকের  ভিতর না নেভা আগুন
মন যদি মিলে যায় প্রজাপতি গান গায় শরীর

দামোদর নদ, তোমার  গরম নিশ্বাস শান্ত হলে
ঘুম ভেঙে জাগে হিরণ্য প্রপাত ও সাদা চন্দ্রমল্লিকা
শুদ্ধতম  গান গাও
আমার  গর্ভজলে ঘুমিয়ে আছ তুমি,শুদ্ধতা


অনুবাদ

আমাকে মাটি বানিয়েছো তুমি
আমাকে জল বানিয়েছো তুমি
স্বপ্নের বাতাসে ভেসে তোমার কলম ও তরলতায়
প্রাণ খুঁজে পায় যে,সেই পৃথিবীর একমাত্র আলোক
আলোকের আকর্ষণে  এগিয়ে আসে,মোহগ্রস্থ হয়, সে জোনাকি মাত্র,শিখা হওয়ায় ইচ্ছা বা সম্ভাবনা তার নেই। একটি চুম্বন কপালে এঁকে
হারিয়ে যায় যে, সে কেবল একটি ঋতুর গান।

আমাকে সমুদ্র বলো,বিপুল বিস্তার। দিগন্তরেখায় মিলে যায় জল ও আকাশ, কোনো বিচ্ছিন্নতা  নেই।আক্রোশে ছুঁড়ে  দেওয়া
প্রতি শব্দের বাণ আমাকে আঘাতে ছিঁড়ে ফেলবে বলে এগিয়ে এলেই ফুল হয়ে ঝরে পড়ে
আমাকে ছুঁয়েছো বহুবার।উদ্দাম অক্লান্ত রাত
সে রাতে ঘ্রাণ ছাড়া  অবশিষ্ট কিছু নেই
শরীরের চরে উপচরে তোমার স্পর্শ থাবার মতো
প্রেমিকাকে আনুবাদ করতে পারে যে সেই প্রকৃত প্রেমিক। একান্ত অনুবাদক
যারা ছুঁয়ে আছে,থাকুক তারা।  সে ছোঁয়া শুধু নিভে
যাওয়া ছাই
মিথ্যে ছিলো বলেই রাধা এখন পাষাণী অহল্যা
তোমার শরীরে প্রেমহীন যোনি

যে কবির কলম থেকে প্রেম মুছে যায়,সে নিজের অন্তরে সততা লেখে না
তীরে নীল শাড়ি খুলে রেখে যমুনায় সাঁতার

নতুন জন্মে অতীত পরজন্ম হয়ে যায়

কালো জল ঠেলে এ জন্মের ঘাটে 
নতুন প্রেমগান,রাই,,,,,


নিহতের গান

 আলো ঘুমিয়ে  পড়লে জেগে ওঠে চাঁদ

মাঝরাতে পৃথিবী এলোমেলো। আমার  ঘরের জানালা দরজা মাতাল হয়ে ডানা পরে এদিক ওদিক। বাধাহীন চাঁদের সাথে বিরামহীন খেলা 

তোমার  ঘুমের ভেতর জেগে উঠি আমি।আমার ভিতর ক্লিওপেট্রা। নীলনদ এই পা ভেজা জল
নিহত হবে বলেই দাঁড়িয়ে আছে যারা তাদের আত্মহননের গান শেখাই। হনন করার পরিমতি বোধ এখন তাদের আয়ত্ত নয়

হননের উদ্দেশ্যে  নেতা এবং ভোট।আমরা বাধ্য ছাগলের মতো হাঁড়িকাঠে।মাইকে তর্জা তর্জমা

দ্রৌপদীর রক্তমাখা শাড়িটি ধুতে এসে আমি নিরবসনা

আমরা  ঘুমালে পৃথিবীর অন্য গান জাগে
আরশিনগরের ভাঙাকাঁচে জাগে  পৃথিবী টুকরো


ছবি : বিধান দেব 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবিতা

সম্পাদকের কথা

দ্বিতীয় বর্ষ  ।। অষ্টম সংখ্যা ।। মার্চ ২০২২   খুব অসহায় লাগছে এবার। আমাদের ডান পাশে ধস। বায়ে গিরিখাত। মাথায় বোমারু। পায়ে পায়ে হিমানীর ব...