রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

গুচ্ছ কবিতা ।। প্রশান্ত হালদার


 

শৌখিন লোকেরাও পড়ে দেখতে পারেন


৩৩


দুঃখিত মানুষের পাশে কীভাবে বসতে হয় এখনও কি জানি?


কীভাবে হাসব রাগী মুখের সামনে? কীভাবে দাঁড়ালে ঠিকঠাক, তোমার কি জানা আছে?

মৃত্যুশোক কীভাবে প্রকাশ করলে সম্মান থাকবে—তোমাকেও কি ফেলে না ভাবনায়? প্রস্তুতি থাকে না মনে মনে?


এমন নরম ভাবে কখনও শোনোনি বলে আশ্চর্য লাগছে


বদলেও বিপত্তি কমে না


সোজা কথা শোনো

ভান ছাড়া তোমাকেও দেখিনি কখনও


৩৪


যে আশাবাদ নিয়ে বেঁচেছি, পথে তার ভেঙে পড়বার হাজার কারণ, ভেঙেও পড়েছি

গায়ে-মাথায় হাত বুলিয়ে, শরীরী লোভে তারপরও টেনে হিঁচড়ে এগিয়েছি, বা নিয়ে গেছো

আকাশ দেখার লোভে ফাঁকা মাঠে


এত এত খাদ্যাদি, বিনোদন, আসঙ্গলিপ্সা


মুহূর্ত ছাড়া রইলো না কিছু আর, এই তো, এটুকুই



৪১


শান্ত প্রকৃতির কোলে চেয়েছি ঘুরতে যেতে


আর দরজা খুললেই যেন কোলাহল, ব্যস্ততাই থাকে

বারান্দা থেকে একটা অপছন্দের দুনিয়া যদি না দেখতে পাই

যদি না গাছের সঙ্গে ইলেকট্রিক খুঁটির এই লড়াইটাই উপভোগ করতে পারি

তবে তো আসল কনফ্লিক্ট থেকেই পালিয়ে বেড়ানো,

কী বলো, স্কলার বান্ধবী?

তাছাড়া এখন তো ইঁট পেতে হাগাও শুনেছি নাপসন্দ তোমাদের


ঘটনাবিহীন জীবন চাইনি বলেই এই লাইভ কনসার্টে দাঁড়িয়ে

হেঁড়ে গলায় চিৎকার করে বলতে চাইছি,

(থামো বোকাচোদা)

শান্ত প্রকৃতির কোল শুধু ঘুরতে যাওয়ার;

বসত গড়ার জন্য রইলো আমার ডিস্টার্বড এরিয়া, বাজারসভ্যতা, জানলার পাশে বেড়ে ওঠা হাজার জানলা


৪২


সম্পর্ক আমাকে মধ্যবিত্ত জীবনের দিকে ঠেলে দিয়েছে


পরিবার রোজ পোঁদ মারে বলেই এক অদ্ভুত বেদনাদায়ক ভালোবাসা ঘাই তোলে বুকের ভিতরে

আর আমি কাছা তুলে ঝাঁপিয়ে পড়ি মধ্যবিত্ত জীবনের ভোগ-বিলাসী অসন্তোষে

"ভালোবাসা ওরফে সম্পর্কের কাছে আমি ঋণী"--বাক্যবন্ধের অর্থ এখন অনেকটা পরিষ্কার 

ছাগলের শিনা ছাড়াওতো সময় করে অসময়ের কাছাকাছি হওয়ার এক দারুণ ব্যস্ততা


বাণিজ্যতাড়িত জীবন আর তার গায়ে যেটুকু ফুল ফোটে

পাখি এসে ঠুকরে দেয় কাচের দেওয়ালে,

তারও যে খরচা আছে, বুঝি; ক্লাসরুমে প্রীতিদি যে বুঝিয়েছিলো ‘প্রকৃতির দান’, হাড়ে হাড়ে টের পাই ডাহা মিথ্যে

মিথ্যে ছাড়া কীইবা দেওয়ার আছে স্কুল-কলেজের


হয়ত আছে--

টোটাল ধেবড়ে যাওয়া মধ্যবিত্ত জীবন;

আমি বলি যৌন ফ্রাস্ট্রেশানের উৎসব, জেলাসি-হাব, হিংসের অতলান্ত কাতরানি

তাও কেউ চাইছে না লোনলি মৈথুন-প্লেজার, হারমোনিয়াম ছাড়া গান


মাঝরাতে কিছুটা অস্বস্তি দিয়ে তোমাকে জাগিয়ে রাখা

সকালে পুনরায় রেওয়াজে বোসো, তবলা সঙ্গতে

এখন সময় আমার মধ্যবিত্ত জামাকাপড় খুলে নিজের সঙ্গে বেইমানির, মদে, হরিধ্বণিতে, মন্দির-গাত্রে গুরুপত্নীকে সাপ্টে চুমু খাওয়ার


সম্পর্ক আমাকে জীবনের দিকে ঠেলেছে, আই মিন তুমি যাকে জীবন ভেবেছো


ছবি : বিধান দেব 


শূন্য দশকের কবি প্রশান্ত হালদারের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার রায়দিঘীতে। জীবিকা শিক্ষকতা। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ— হলুদ সিরাম ওড়ে (২০০৭), মেধাবী ও দুঃস্থ (২০০৯), অজানা জ্বর (২০১৭), শময়িতা সেন (২০২২)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন