যথাহন্ধা কবিতাগুচ্ছ
প্রত্যাবর্তন
বুকে হাত রেখে বলো তো,
আজ অনেক দিন পর
তুমি আমারই জন্য লিখলে না!
আকাশলীনা!
পাথর হয়ে যেয়ো না।
বয়সটা তো ছুঁতো,
আসলে আমরা কবিতায় হাঁস, পায়রা হয়ে আছি।
জলের ভেতরে সাঁতার কাটছি,
সেই কবে থেকে...গ্রাম হয়নি, শহর হয়নি।
জন্মগত আকর থেকে, খনি থেকে, উৎসব থেকে -
জীবন তুচ্ছ হয়ে আছে।
আকাশলীনা,
শহর এখন অনেক বেশি বয়সী।
একা একা থেকে থেকে আমার আত্মা খুঁজো না।
মহৎ মর্ত্যে অনেক ধার দেনা জেগে আছে।
তুমি যেন ওষুধ ভালোবেসো না!
স্নানঘরের কাঙাল
অবাক করা ধ্যানের মতো স্বপ্ন আসে।
ভোরের আলোয় স্বপ্ন এসে মিলিয়ে যায়।
অবাক করা গাছের মতো ছায়া আসে।
ছায়ার মতো স্বপ্নগুলো খাবি খায়।
অবাক করা মৃত্যু যখন জিরোতে চায় -
সেতুর ওপর বৈরাগী আর পাগল মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে।
রোদের ছোঁওয়াও অনুশাসন হারায়।
এমন দিনে গুরু কে, আর ভক্ত কে, আর পিণ্ড কি...
শুচিসাদা পাথর মজে দুরন্ত ঝর্ণায়।
মৃত্যু নাউ, ফসল দাও, বন্যা নাও গো বর্ষা।
শরীর মুছে মুছে আয়ু ফিরছে মোহনায়।
সমুদ্রতে নাই বা গেলো...
সমুদ্রে এক বৈরাগী আর পাগল মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে,
হাতছানি দেয় ইদিক-উদিক -
সুয্যি ডোবে প্রাতে।
স্নানঘরের কাঙাল ছেলেটাকে
উলঙ্গপ্রায় দ্যাখা যায় কোলকাতা রাজপথে।
কাঙাল ও স্নানঘর
স্নানঘরের কাঙাল ছেলেটা আর
পোশাক খুলে স্নান করে না।
নগ্ন হয়ে স্নান করে না
ল্যাংটো হয়ে জল ঢালে না,
বিশ্রী লাগবে, এসব কিছুই ছেলেটার
দৈবাৎ তার স্বপ্নে আসে ছোটোবেলার ডাণ্ডাগুলি
খাটপিল, আর দশচক্র পড়াশুনোর নিমতেতো মন।
তখন কতো ল্যাংটা ছিলো,
পবিত্র জল-কাদা ছিলো।
জার্সি, শার্টে রোদের মতো, মেটে রঙে ছিটকে পড়তো।
কাদা ধোয় না, দাগ যায় না...
অথচ কাঙাল পবিত্র মন।
নগ্ন হয়ে স্নান করে না!
ল্যাংটো হয়ে স্নান করে না কাঙাল!
স্নানঘরের কাঙাল ছেলেটা আর
পোশাকে খুলে স্নান করে না।
চিকিৎসা
এতো সাজতে হবে না,
তোকে এমনিই ভালো লাগে
আমার শৈশবের মতো, সতী!
আয়, তোকে নিয়ে লিখি।
তোকে উল্টেপাল্টে - অবিচার ক'রে।
তোকে এমনিই ভালো লাগে।
আমার শৈশব আছে, জানিস!
তোর শৈশব হতে ভালো লাগে?
তোকে উল্টেপাল্টে,
আয়, অবিচার করি।
যথাহন্ধা
কাল সতেরো মাস - থাক,
সহজ করে বলি।
সতেরোটা মাসের শেষে কি থাকে বল, অলি!
অলি, আমি কষ্ট করে কবিতা তৈরি করি।
সতেরো মাস!
মাসিক শব্দ ঠিক করে বুঝি না,
অলি,
তুই বুঝিয়ে দিবি!
সতেরো মাস ধ্যানস্থ চৌকাঠ।
অলি,
বাপের বাড়ি-শ্বশুরবাড়ি-যমের বাড়ি গেলি।
অলি,
খাটের ওপর বিড়াল শুয়ে থাকে।
অলি, স্তনের গন্ধ বিড়াল খেয়ে যায়!
চাদর কেন ধুইনি -
অলি,
তুই বুঝিয়ে দিবি!
বুঝিয়ে দিবি,
আমার ঠোঁটে স্তনের আঙুর নেই কেন!
আঙুর মানে মদ -
অলি, স্বয়ংবরা ছিলি!
সতী মানে আশৈশব।
সতী,
অন্ধ ক'রে দিলি!
বিষবিহ্বল
জমে ছিলো হারিয়ে যাওয়ার মতো মুখ।
লকার খুললে - দে না, সুখ দে না!
ঠাণ্ডা শরবত দে না, গলায় বুভুক
নিয়ে মরি, দে না, নীলাভ ভাস্কর দে না -
মিথুনমূর্তি, জিভ, উপুর্যুপুরি দেনা...
মাঘের সপ্তাহগুলো কাচ, তীর, হ্রদ!
নিথর জিভের আগে, ড্রয়ারে যাবার আগে
এক হেক্টর, দু-হেক্টর ট্রাক্টর চষিয়ে দে না!
কি সূর্য, কি রোদ, কি খরগোশ, ঠাণ্ডা শরবত...
লকার খুললে দেনা - তোর ঋণ - ভীতু মুখ -
আগুনেও প্রতিশোধ নেই।
জমে ছিলো - শুধু জমে ছিলো
তোর হারিয়ে যাওয়ার মতো মুখ।
ছবি : বিধান দেব
কবি-পরিচিতিঃ হুগলি জেলার ভদ্রেশ্বরে বাড়ি। এই পত্রিকার কয়েকটি সংখ্যায় কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া, অলীক পাতা, কালির ছোঁয়া, অথৈ পত্রিকা ও পাবলিকেশন, শাব্দিক, কবিতা ও মানবতা পত্রিকা প্রভৃতি সাহিত্যের প্রকাশমাধ্যমে কবিতা প্রকাশিত হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন