রবিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২২

নয়া বৃহদারণ্যক ।। দেবাশিস দাশ




৫.

প্রাণতত্ত্ব

প্রাণবিদ্যা-খাদ্যশাস্ত্র আশ্চর্য বিষয়

জীবনবিজ্ঞান জানা জরুরি নিশ্চয়।


খাদক ও খাদ্যে স্রষ্টা চাহিদা জোগান

অন্ন, দুধ, যাগযজ্ঞ, বাক্, মন, প্রাণ।

অন্ন মানে সাত খাদ্য— কার্বোহাইড্রেট

ছাড়াও প্রোটিন, ফ্যাট, সুষম ভরপেট

খাবারে থাকেই খাদ্যপ্রাণ ভিটামিন,

খনিজ উৎসেচক, তাছাড়া মর্ফিন,

ক্যাফেন ইত্যাদি উপকারী উপক্ষার

প্রাণিজ-উদ্ভিজ্জ যৌগ পৌষ্টিক আহার।

স্তন্যপায়ী প্রাণীদের শিশুখাদ্য দুধ

দেবতার উপশম সুরা ও ওষুধ।


কীভাবে প্রাণের সৃষ্টি? বাঁচার কী প্রথা?

মানবজগতে শ্রেষ্ঠ বিদ্বান দেবতা

সঠিক ডায়েট আর দুর্মূল্য ওষুধ

করায়ত্ত করে তারা অমৃতের দূত—

অকালমৃত্যুকে জয় করার ডাক্তারি

জানা ছিল, আর ছিল মাল কাঁড়ি-কাঁড়ি।

তাই এ-জগতে শ্রেষ্ঠ দেবলোক জয়

করা যায় বিদ্যা দিয়ে, জীবন অক্ষয়

সুস্থ রাখা যায় প্রায় একশো বছর—

জনন-প্রথায় জিন-কণিকা অমর।


সমস্ত ইন্দ্রিয়, যারা মৃত্যুর অধীন 

তাদের অমর করে একমাত্র জিন। 

বাক, মন, প্রাণ— এই তিন খাদ্য নিয়ে

দর্শন উঠেছে গড়ে জিনতত্ত্ব দিয়ে। 

পৃথিবী, আকাশ, জল— তিন অবস্থান 

ঋক, যজুঃ, সাম— তিন বেদ-পরিমাণ 

ব্যঞ্জনা এদের, যেন মা-বাবা-সন্তান— 

এভাবে ত্রিমূর্ত এরা— বাক-মন-প্রাণ।

বিজ্ঞাত জবাব বাক, বিজিজ্ঞাস্য মন

যেন-বা বিস্ময় প্রশ্ন, অথচ গহন

অবিজ্ঞাত হল প্রাণ। জল থেকে জাত

প্রাণের শরীর জল, স্বর্গে প্রতিভাত

রাতের সৌন্দর্য দীপ্তি চিরায়ত চাঁদ।

পৃথিবী বাকের দেহ, অগ্নি তার জ্যোতি,

মনের শরীর দ্যৌ— মহাবিশ্ব-মতি

যেখানে আদিত্য জ্বলে বিরতিবিহীন 

অনন্তে সকলে যেন হয়ে আছে লীন। 


আত্মার সুখাদ্য প্রাণ— অধিদৈব বায়ু 

অশ্রান্ত অজড় প্রাণ সুধা-পরমায়ু।

আত্মার বাকি যা খাদ্য— মন আর বাক

মরে গেলে ইন্দ্রিয়ের অনুভূতি খাক। 

ইন্দ্রিয় পাপের ভোগী, হাঁফায় সহজে 

অনন্ত প্রাণের কাব্য আস্থাবান বোঝে।


বাঁচার জন্যেই খাওয়া,— যতটা দরকার 

তার বেশি নিলে হবে পাপ, পেটভার। 

যেরকম সূর্য ওঠে, ফের অস্ত যায় 

প্রাণতত্ত্ব সেরকম শৃঙ্খলা শেখায়। 

প্রাণশক্তি চিরন্তন— দেবব্রতকথা: 

পাপরূপ মৃত্যু থেকে বাঁচুক সভ্যতা। 

এরস ও থ্যানাটস রয়েছে ফ্রয়েডে 

প্রাণ ও মৃত্যুর দ্বন্দ্ব ধরা আছে বেদে।


ছবি : বিধান দেব 


দেবাশিস দাশ। মিনিস্ট্রি অভ্ কালচার থেকে কবিতা নিয়ে জুনিয়র ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন। শিবপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন বিচ্ছিন্নভাবে। কবিতার জন্য উত্তরবঙ্গে ভ্রাম্যমাণ। স্বনামে ও ছদ্মনামে কবিতা ও গল্প লিখেছেন দেশ, আনন্দমেলা, সানন্দা, কবিতীর্থ, কৃত্তিবাস, ভাষানগর ও অন্যান্য বহু পত্রপত্রিকায়। অনুবাদ করেছেন টেড হিউস এবং জেমস জয়েসের কবিতা। 
কাব্যগ্রন্থ: পাথুরে মানুষ, মাটির মানুষ, কবিতীর্থ। জ্বলন্ত মৃত্যুর মুখে বাঁশি, কৃত্তিবাস। অণুজীবনের দীর্ঘশ্বাস, যাপনচিত্র। বিচালিঘাটের কথা, কুবোপাখি। মেঘে আঁকা ভাঙা সেতু, সিগনেট প্রেস।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন