শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১

নয়া বৃহদারণ্যক ।। দেবাশিস দাশ


 

৪. আত্মতত্ত্ব


আদিতে ছিলেন আত্মা— নিউক্লিয় ঈশ্বর! 

মহাবিস্ফোরণে তাঁর জেগেছিল ভর। 

'পূর্ব'-কে 'ঔষৎ' করে ফেলার কারণে 

তিনিই 'পুরুষ'। প্রাকৃতিক সাইক্লোট্রনে 

চরাচরে ভরবাহী ঈশ্বর-কণিকা 

নক্ষত্র-শরীরে জ্বালে ভয়ঙ্কর শিখা।

কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তীব্র উষ্ণতায় 

পুরোবর্তী সব পাপ দগ্ধ হয়ে যায়।

একা অন্ধকারে তিনি ছিলেন শঙ্কিত

পরক্ষণে বুঝেছেন দ্বিতীয়বর্জিত 

তিনিই অসীম, শূন্যে কেউ নেই আর! 

সুতরাং ভয় নেই, ভয় নেই তাঁর। 

তবুও অপূর্ণ তিনি, আনন্দবিহীন

সীমা খুঁজে-খুঁজে একা কাটাতেন দিন।


আদিমৌল-নিউক্লিয়াসে নিউট্রনের ভর 

সংযোগ করলেন তিনি সূক্ষ্মতা-নির্ভর। 

'আমিই সে— সোহহমস্মি— স্বয়ং অহং,'

স্বেচ্ছায় হুঙ্কার ছেড়ে দ্বিগুণিত হন।

এক থেকে একাধিক হওয়ার পদ্ধতি 

আবিষ্কার করে তিনি পরমাণুব্রতী। 

লক্ষ-কোটি সূক্ষ্ম অতি দহন সংগ্রাম 

ভারী হাইড্রোজেন থেকে জাগে হিলিয়াম।


ক্রমে নাম-রূপান্তর— কেন্দ্রীণ-বিক্রিয়া 

মৌল-যৌগ অনুলিপি পদার্থ-দরিয়া। 

গোপনে একদিন প্রোটো-ক্লাস্টারের বনে 

ভুবন জন্মাল সৌর ধুলোর ঘূর্ণনে। 

তারপর মেঘ-বৃষ্টি টগবগে তরল 

মাধ্যাকর্ষ, ধাতুরতি, মা-মাটির কোল। 

ওপারিন, হলডেন, স্ট্যানলি মিলার...

কত ঋষি প্রাণতত্ত্ব করে আবিষ্কার।


অজৈব বিক্রিয়া থেকে জৈব-রসায়নে 

অযৌন জনন শুরু কোষ-বিভাজনে।

সৃষ্টিতে প্রবিষ্ট সত্তা— আত্মা নাম তাঁর 

সকল চাওয়ার শ্রেষ্ঠ, উপাস্য সবার। 

ছেলেমেয়ে, টাকাপয়সা সমস্ত বস্তুর 

ওপরে তিনিই প্রিয়তম সুমধুর। 

তিনি ধর্ম, তিনি সত্য, নিয়ম-শৃঙ্খল 

ন্যায়দণ্ডে বলীয়ান দুর্বলের বল।


স্ত্রী-পুরুষ বিজড়িত বেঢপ আকৃতি

আদ্যপ্রাণী রূপে তার অ্যামিবার রীতি। 

অসুন্দর কীট তিনি লার্ভার মতন 

তিনিই অচিরে সুশ্রী তিতলি-রূপী হন। 

গরু, ঘোড়া, ছাগ, পিঁপড়ে— সমস্ত মিথুনে 

তিনি পরিব্যাপ্ত হন স্ত্রী-পুরুষ গুণে। 

সবচে' উঁচু গাছ তিনি, তিনিই জিরাফ 

কোষকলা বেড়ে দীর্ঘ ডাইনোসর-মাপ। 

আবার ভাইরাসও তিনি, সূক্ষ্মতায় গড়া 

ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে পড়েন কি ধরা? 

ডায়াটম নামে কভু এককোষী উদ্ভিদ 

বালুকা সিলিকা যার কঙ্কালের ভিত। 

বাস্তুতন্ত্রে তিনি সাম্য— জীব ও প্রকৃতি 

খাদ্য পিরামিডে তিনি সাংখ্য-পরিমিতি। 


প্রজাপতি ব্রহ্মা তিনি, হাত-মুখ মন্থনে 

অগ্নি সৃষ্টি করেছেন যজ্ঞের কারণে। 

তিনিই প্রকৃতি, অন্ন, সোম— সমুদয়

আর্দ্র কোষ তাঁরই রেত থেকে সৃষ্ট হয়। 

আবার পুরুষও তিনি— আগুন, অন্নাদ! 

রসালো অন্নের ভোক্তা,— ভোগ্যবস্তুবাদ— 

খাদ্য ও খাদকচক্রে অতিসৃষ্টিকথা 

যে বোঝে, সে মরদেহে অমর দেবতা।

       [প্রথম অধ্যায় চতুর্থ ব্রাহ্মণ অসমাপ্ত। ক্রমশ...]


ছবি : বিধান দেব 




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবিতা

সম্পাদকের কথা

দ্বিতীয় বর্ষ  ।। অষ্টম সংখ্যা ।। মার্চ ২০২২   খুব অসহায় লাগছে এবার। আমাদের ডান পাশে ধস। বায়ে গিরিখাত। মাথায় বোমারু। পায়ে পায়ে হিমানীর ব...