ছেলেটির শৈশব কেটেছিল এক নদীর ধারে , ছোট এক জনপদে। যেখানে মাত্র দশহাজার লোক বসবাস করত। নদীটি বছরের বেশিরভাগ সময়ে শান্তই থাকত। সেই নদীর বুকে নেমে ছেলেটি রত্ন খুঁজে বেড়াত। রঙিন পাথরকেই সে ভাবত মূল্যবান রত্ন। ছেলেটি লুকোচুরি খেলত, আর খেলত যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা! ভালবাসত খেলাঘর বানাতে। এমনিতে শান্তশিষ্ট সেই নদীতে যখন বান আসত তখন তার আবার অন্যরূপ! প্রকৃতির রুদ্ররূপ কাকে বলে তখনই জানা হয়ে গিয়েছিল তার। ছেলেটির বাবা ছিলেন কৃষিখামারের শ্রমিক। একইসঙ্গে দুটি খামারে কাজ করতে হত তাঁকে। দেখভাল করতে হত এক বিশেষ প্রজাতির গরু, যাদের দেহের রং বাদামি কিন্তু মুখের রং সাদা! কাঠের তৈরি কুটিরে বসবাস করত ছেলেটির পরিবার। তারপর একদিন ছেলেটির বাবার পেটে ক্যানসার ধরা পড়ল। ফলে আগের কাজ ছেড়ে নতুন জায়গায় একইরকম ছোট,পাতলা কাঠের কুটিরে শুরু হল তাদের বসবাস। তবে বাবার সঙ্গে ছেলেটির সম্পর্ক যে সবসময় মধুর ছিল তা-ও নয়। ‘পুরুষা্লী’ পিতার শাসন , মারধোর লেগেই থাকত। একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় সেই ছেলেটি ,তখন কিশোর, এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটালো, ইংরেজি প্রজেক্টের বিষয় ছিল ‘স্বাধীনতা’ , কিশোরটি তার মাস্টারমশাইকে জিগ্যেস করল সে কি এই বিষয়ে রচনা লেখার পরিবর্তে একটি কবিতা লিখতে পারে? মাস্টারমশাই সম্মতি দিলে সে লিখে ফেলল আস্ত একখানা কবিতা। স্কুল ম্যাগাজিনে ছাপাও হয়ে গেল সেই লেখা। শুধু তা-ই নয় , টানা একবছর দ্বাদশ শ্রেণিতে ইংরেজির শিক্ষক সেই কবিতাটি পাঠ করে শোনাতেন ছাত্রছাত্রীদের। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল এই যে, সেবার প্রজেক্টে দশের মধ্যে নয় নম্বর পেয়ে তাক লাগিয়ে দিল ছেলেটি। আর এই একটিমাত্র কবিতা লেখার সুবাদে তার সৌভাগ্য হল অস্ট্রেলিয়ান কবিতার প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব ব্রুস ড-এর সঙ্গে দেখা করার।
আশ্চর্যের নয় যে ভবিষ্যতে কবিতা লেখাই ছেলেটির নিয়তি হয়ে উঠবে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ফাদারল্যান্ড’ -এ ছায়া পড়বে নিজের পিতার , নিজের শৈশবের। কিভাবে পিতার অকালমৃত্যুর পরে পরিবারের একমাত্র পুরুষ সদস্য হওয়ার , ‘পুরুষালী’ হওয়ার সামাজিক প্রত্যাশার চাপ তাকে সহ্য করতে হয়েছিল ছায়া ফেলবে সেইসব প্রসঙ্গও। অস্ট্রেলিয়ার কবিতায় ‘স্থান’ আর ‘প্রাকৃতিক দৃশ্যের’ মধ্যে যে দ্বন্দ্ব , তাঁর মতে ‘পুরুষত্ব’ সেই সমস্যারই দূর সম্পর্কের খুড়তুতো ভাই বা বোন , বিশেষত গ্রামের প্রেক্ষাপটে যেখানে প্রকৃতির বিরুদ্ধে সংঘর্ষ এবং শ্রেণি সংগ্রাম পরিচিতির ক্ষেত্রটিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে।
তিনি ব্রেট ডায়নিসিয়াস ,অস্ট্রেলিয়ার তরুণতম কবি-প্রজন্মের একজন। তিনি কবি , সম্পাদক ,শিক্ষাবিদ। তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে কয়েকটি হল: Fatherlands (2000), Bacchanalia (2002), Universal Andalusia (2006), The negativity bin (2010),The curious noise of history: and other poems (2011), Bowra (2013) প্রভৃতি। এর মধ্যে ‘ইউনিভার্সাল আন্দুলেসিয়া’ একটি কাব্যোপন্যাস।
কবির একটি সিরিজ কবিতা থাকল সাহিত্যের বেলাভূমির এই সংখ্যায়। আশা করি পাঠকের পছন্দ হবে এই প্রয়াস।
ব্রেট ডায়নিসিয়াস
সময় এবং পুরুষাঙ্গ
Neal, we’ll be real heroes now
in a war between our cocks and time:
let’s be the angels of the world’s desire
and take the world to bed with us before
we die.
Allen Ginsberg
১.
আমার মনে হয় সময় আমার লিঙ্গ আর আমার অণ্ডকোষ
শুকিয়ে দিয়েছে ,এগুলো এখন ভোঁতা অস্ত্র যেগুলো
পৃথিবীর কিনারে ঝুলছে আর পাসেয়াক নদীখাতের ওপর
ঝকমকে পেন্ডুলামের মতো দুলছে;
আমার গর্ভাশয়ের জল আমাকে বাড়িতে স্বাগত জানাচ্ছে।
আমি কি আপনাদের বলেছি যে আমি কখনও বেছে নিই নি
সেই দেবদূতকে যে কোনদিন এর খোঁজ করেনি।
২.
সবকটা জলের পাইপ ঠাণ্ডায় জমে শক্ত হয়ে গেছে
আর আমাকে আবার জানলা দিয়ে পেচ্ছাপ করতে হবে।
আমি আমার হলুদ পেচ্ছাপকে ওয়েল্ডিং করার আগুনের শিখার মতো
বরফের মধ্যে গর্ত করতে দেখি।
আমি পেচ্ছাপের সাহায্যে বরফের গায়ে নিজের নাম লেখার চেষ্টা করি , কিন্তু তার ভাপ
সবকিছু অস্পষ্ট করে দেয়, নিয়ন আলো, তুষারকণা,
তারাদের।
৩.
আমার শুক্রাণুগুলো সাঁতার কাটার পক্ষে খুবই কুঁড়ে।
তারা অনেকটা জলহস্তীদের মতো
নলখাগড়ার ঝোপ আর ওয়াটার লিলির মধ্যে
তাদের চকচকে, ধূসর ভারী দেহের মতো;
বয়সের বাড়ার সঙ্গে তারা মোটা হতে থাকে,
আর কুকুরের মতো স্রোত বরাবর সাঁতার কাটায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে
আর ট্যুরিস্ট দেখলে
মাঝেমাঝে মস্ত বড়ো হাঁ করে দেখায়।
৪.
আমি আর পৃথিবীকে বিছানায় নিয়ে যেতে পারি না।
বছরখানেক আগে পায়োনিয়ার ১০ এবং কার্ল সাগানের সঙ্গে
সে রেগে কাঁই হয়েছিল। তারা প্রথমবারের জন্য
আন্তছায়াপথ নগ্নতার অনুমোদন দিয়েছিল এবং নাসা-কে অনুমতি দিয়েছিল
মহাবিশ্বে আদম এবং ইভের ঠিকানা ছড়িয়ে দিতে।
শেষ পর্যন্ত আমরা যুদ্ধটা হারি, হাঁটুগেড়ে বসি, কিন্তু
আমাদের ইচ্ছাপূরণ হয় ____ আমরা সারা দুনিয়ার চাহিদাপূরণের দেবদূতে রূপান্তরিত হই
যেভাবে তরুণ মার্কিনীরা ভিয়েতনামের সর্বত্র পৌঁছে ছিল ,
আর সকলে মিলে পৃথিবীর পোঁদ মেরেছিল।
(ক্রমশ...)

অসামান্য। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ কবিতাগুলি আমার চোখের সামনে এনে দেবার জন্যে।
উত্তরমুছুন