দেবতাদের লাবণ্যের কাছে
এইখানে কবির সমাধি
তুমি কিছুটা নম্র হয়ে পাদমূলে বসো
সভা ও সমিতি অনেক হলো
এইবার কিছুক্ষণ স্তব্ধ হও
আর কোনো বক্তৃতা দিও না
বক্তৃতা খুব অসভ্য লাগে এখন
চোখ বন্ধ করলে দেশ দেখতে পাবে
অগণন মানুষের মাথা দেখতে পাবে
চাঁদের আলো তাদের শীর্ণ শরীর বেয়ে
গড়িয়ে পড়তেই
দেবদূতের মতো লাবণ্যে ভরে উঠল
তাদের ধ্বস্ত মুখমণ্ডল
দেবতাদের সামনে তখন
বড্ড অসহায় লাগছে তোমার যাবতীয় আস্ফালন
জীবন আমাকে যেটুকু দিয়েছে
একদিন আমাদের দেখা হবে ঠিক
পথে বা প্রান্তরে
ভাবতে ভাবতে দীর্ঘশ্বাস ঘন হয়ে আসে
কার যেন ছায়া পড়ে জ্যোৎস্নায়
মেঘলোক ক্রমাগত নিচু হয়ে এলে
অপ্সরাদের পায়ের নুপূর দেখা যায়
আকাশ তখন মৃত্তিকার সাথে
মিলনে উন্মুখ
আমি একা নিখিলের দুয়ার খুলে
অবিরাম ডাকাডাকি করি
চারিদিকে প্রতিধ্বনি ফিরে ফিরে আসে
জীবন আমাকে যেটুকু দিয়েছে
সেটুকুই পাই শুধু
তার বেশি পাই না কখনো
স্মৃতিরা যখন চিরপ্রবাহিত
আমাদের সমস্ত কথা
নদীর ধারার মতো চিরপ্রবাহিত
মাঝে মাঝে দু একটি ঘূর্ণি কেবল
রহস্যজটিল
দূরের জনপদগুলি এসবের
খবর রাখে না
তারা শুধু প্রতিদিন সূর্যোদয়
আর সূর্যাস্তে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে
শুধু প্রথম চুম্বন ভোলা যায় না কখনো
জন্মপরিচয়
আকাশে অগণন নক্ষত্রের মাঝে
কেউ কেউ মৃত কি না
সে খবর আমি জানি না
কেন না যাদের আলো
এখনও পৃথিবীতে পৌঁছাইনি
তারাও অবিকল জীবিতের মতোই দেখায়
তাদের অখণ্ড নীরবতার ভিতর দিয়ে
আমি বুঝতে পারি
কীভাবে একটি তারার দেহ ছিঁড়ে
ভূমিষ্ঠ হচ্ছিল আমাদের বিস্তীর্ণ জনপদ
ধুলোজীবন
মাঝে মাঝে কথা বলতে
একদমই ভালো লাগে না
চুপচাপ বসে উপলব্ধি করি
অনন্তের চিররহস্য
তখন অন্তরীক্ষ নীচু হয়ে আসে
ইশারায় পাশে বসে
হাত রাখে কপালে ও চুলে
দুঃখ তখন বইতে বইতে
অশ্রু হয়ে, নদী হয়ে, নুড়ি হয়ে
নির্বাক পাথর হয়ে ধুলোয় গড়ায়
কিন্তু একটা পাথর একজীবনে
ধুলো হতে পারে না কোনোদিন
ছবি : বিধান দেব

খুব ভালো লাগল কবিতাগুচ্ছ। অসাধারণ লেগেছে "ধুলোজীবন"।
উত্তরমুছুনএই ভালোলাগাটুকু আমার পুরস্কার।অনেক শুভেচ্ছা রইল ।
উত্তরমুছুনএই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।
উত্তরমুছুন