*৫. আত্মতত্ত্ব*
আবার তিনের খেলা— কর্ম, নাম, রূপ
আলাদা আলোয় এরা তাসের তুরুপ।
'উক্থ' মন্ত্রে ত্রিবিধের উত্থান বর্ণিত।
বাক, চক্ষু ও শরীর— তিন ব্রহ্মে ধৃত—
যথাক্রমে নাম, রূপ আর কর্ম, তাই
সাম মন্ত্রে সাম্য গেঁথে ব্রহ্মত্ব শোনাই।—
বাক মানে শব্দ, সব নামের ধারক
রূপের সমীকরণ বোঝে শুধু চোখ।
শরীরই কর্মের ব্রহ্ম— ধারক বা সাম
তিন ব্রহ্ম মিলেমিশে গড়ে অন্তর্যাম।
বাক, চোখ, দেহী আত্মা— প্রত্যক্ষ গোচর
নাম, রূপ আর কর্ম পরোক্ষ, ধূসর।
আলাদা হয়েও আল্লা আশ্চর্য একক—
তিনি প্রাণশক্তি, তিনি বৃহদারণ্যক
শ্রুতিতে দুর্জ্ঞেয় আত্মা, তিনিই অমৃত
নাম-রূপ সত্তা তাঁকে করেছে আবৃত।
আত্মাই অমৃত, আত্মা একাকিত্ব-ভয়
অচিরে কাটিয়ে উঠে গড়েন আশ্রয়।
আদিতে ছিলেন তিনি অব্যক্ত অরূপ
দ্বিতীয় ইচ্ছায় হন উভলিঙ্গ-স্তূপ।
আদিতে সমস্ত ছিল ব্যাকরণহীন
আত্মবান মৃত্যু একা শান্তিতে বিলীন।
অকস্মাৎ মহাকাল স্বভাব-ঈক্ষণে
স্ফূর্ত হয়ে চতুর্লোক গড়েন বিজনে।
সেই সঙ্গে লোকপাল পুরুষ নিমেষে
পিণ্ডরূপ অণ্ড ফেটে পঞ্চেন্দ্রিয়-বেশে
আকৃতি নিলেন দেহে, এবং নিজেকে
ব্রহ্মরন্ধ্রে গুঁজে, খুলি দিয়ে নেন ঢেকে।
নাভিমূলে মৃত্যু আর হৃদিমধ্যে মন,
শিশ্নদ্বারে প্রজাপতি আবির্ভূত হন।
অন্যান্য ইন্দ্রিয় সব দেবতা-প্রতীক—
চোখে সূর্য, নাকে বায়ু, কানে দিকপতি,
জিভে অগ্নি, ত্বক-রোমকূপে বনস্পতি।
অন্যদিকে পঞ্চভূতে ব্যাকৃত গতিক—
প্রকৃতির ঘনীভূত রূপই অন্ন, তার
গ্রাহক অপানবায়ু, নাভিতে আহার।
এইসব আলবাল নানা গল্পচ্ছলে
পরমাত্মা-জীবাত্মার ভাবরঙ্গ চলে।
মোদ্দা কথা, টাইম-স্পেস— মানব-শরীরে
রহস্য ভাষায় ব্যক্ত হল ধীরে-ধীরে।
সৃষ্টিতে প্রবিষ্ট আত্মা অনাম-অকায়
নাম-রূপে মূর্ত হন প্রত্যেক সত্তায়।
ওঙ্কার তাঁরই নাম— বাক-রসনায়
বিকৃত আকৃতি তিনি চোখের তারায়।
তিনিই অমৃত, যিনি প্রাণের স্বরূপ
সমস্ত কর্মের মূল তিনিই কামরূপ।
মূর্ত ও অমূর্ত— দুই শিল্পে তাঁকে চিনি
আমি গঙ্গানদী হলে মহাসিন্ধু তিনি।
পাশ্চাত্য দর্শনে সিন্ধু ঢোঁড়ে ওল্ড ম্যান
প্রাচ্যের চৈতন্যে তিনি ধ্যানলব্ধ জ্ঞান।
ছবি : বিধান দেব


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন