রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

গুচ্ছ কবিতা ।। প্রসূন মজুমদার


কাম

মনুষ্য - সংজ্ঞায় ব্রহ্ম প্রাণপূর্ণ বহ্বারম্ভ 

যখনই লিখেছে ভাবীকালে

দ্রিমিকি দ্রিমিকি ধা ধা তখনই অপরা ধাঁধা

প্রজ্ঞালোকে যজ্ঞালোক জ্বালে।


পাক লাগল যন্ত্রঅঙ্গে তোমার ও নাভির সঙ্গে 

রতিকলা আরতি তখনই 

দুর্মোহের দ্বন্দ্বদীর্ণ মণিকুম্ভ অবতীর্ণ 

ভলকে ঝলকে ওঠে ধ্বনি।


ব্রহ্মধন্দ ধ্বনিধর্ম সংজ্ঞায় অনঙ্গ কর্ম 

অশ্বপৃষ্ঠে সওয়ারি সরল 

ভস্মীভূত নিজে অগ্নি দগ্ধ করে অর্থলগ্নি

নিরর্থের নর্মযোনিজল।


জলজন্ম সার্থকতা প্রজ্ঞাপথে গূহ্যকথা

কামতত্ত্ব হ্লাদিনীনন্দন 

তত্ত্বহীনা অর্থরতি নীরবে তোমারই প্রতি

অপরূপা রূপার্থ বন্দন। 


অত:পর এই গূহ্যক্রিয়া নিষ্কামের সকাম স্পৃহা

দ্বন্দ্বে দোলে দ্যুলোকের দ্যুতি 

কূপনিম্নে চুপশব্দ স্তব্ধতার ধ্বনিলব্ধ

অগ্নিমধ্যে অগ্নিরই বিভূতি।


 চক্রচলন


অশথ গাছের মাথার ওপর চক্রচলন হাওয়া

আমার চক্র ধরেই যাওয়া 

গোপন চক্র ধরেই যাওয়া


দুইটি পাতার দুইদিকে টান যেমন দোলায় আলো 

আমার দুই বিপরীত তুলির আঁচড়

সশব্দে চমকালো


তবে দ্বন্দ্বে মধুর হবে ? 


হোক বা না হোক বৃত্ত অশেষ উদ্ভবে উদ্ভবে

হাওয়ার দোলায় দোলায় 

সময় ভোলায় উৎসাহবৈভবে।


প্রখর সময়হীনা অমায় 

তোমায় স্পর্শ করুক স্পর্শকাতর 

নিবিড় পরিক্রমায়।


 জাগরণ


অর্থহীনা সন্ধ্যা আসে। শান্ত হয় স্নায়ু। 

মন্দমধু বয় শব্দ। ভাসে পঞ্চবায়ু।

ভাসতে ভাসতে রন্ধ্রপথে রক্তে মিশে যেতে 

চন্দ্রদোষ জাগে জন্মে মৃত্যু খেতে খেতে। 


আরও নিম্নে গাঢ় স্বপ্ন তারও নিম্নে যোনি 

ব্যাঘ্রিনীর তুল্য যেন অথবা সে ফণী। 

মনসা মানসকন্যা জন্ম নেয় রেতে

সেই রেতঃ খায় ব্রহ্ম। জেগে ওঠে প্রেতে।


প্রেতিনী আঁচড় চলে। নিশ্চুপের ডাকে 

পরতে পরতে শ্বাসে শূন্য লেগে থাকে। 

বন্ধ থেকে মুক্তি ঝরে। মুক্তি থেকে বুধ 

দেহভাণ্ডে চন্দ্র ঝরে যেন ধান্যদুধ। 

এমত চলার পথে শনি আসে যায় 

আঁচড়ে কামড়ে জাগে। আমাকে জাগায়।


আয়না


গাছ কি কেবল একলা থাকে? 

গাছ ফোটে না অন্য ফুলে?

প্রশ্ন জাগে তীক্ষ্ণ সময়

হুল ফোটালে মর্মমূলে।


চুপ করে বয় একলা হাওয়া

কেউ কি তাকে বুঝতে পারে?

রেণু কেবল বাহন বানায়

পরক্ষণেই আছড়ে মারে। 


হাওয়া কী পায়? কেবল যাওয়া

আর কিছু নয়? দুর্নামও তো 

অন্যভাবে বইলে নাকি

অন্যরকম ফুল ফোটাত! 

 

গাছ কী ভীষণ একলা থাকে! 

রেণুর হাওয়াও হারিয়ে গেলে। 

মুহূর্তকাল ঝলসে দেবেই

আয়নাবাড়ির খবর পেলে।


ছবি : বিধান দেব 

পরিচিতি : জন্ম -  ২০ শে মার্চ,  ১৯৭৮ পেশা - বিদ্যালয় শিক্ষকতা পূর্বপ্রকাশিত কবিতাপ্রচেষ্টার সংকলগ্রন্থ। ১) অসুখ ও আরোগ্য ( সপ্তর্ষি)  ২) অধরে গোখুরদন্ত ( সপ্তর্ষি) ৩ রাত্রিচর বুনোচাঁদ ( রাবণ)  ৪) নিস্ফলতা প্রিয় ফুল ( রাবণ)  প্রবন্ধের বই - ১) অপরাপর কবিতাসফর ( দি সী বুক এজেন্সি) ২) বাংলা কবিতার জয়, শংসা ও সংশয় ( ক্রৌঞ্চদ্বীপ) রম্যরচনা - কবিসঙ্গে এই বঙ্গে ( শব্দযান)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবিতা

সম্পাদকের কথা

দ্বিতীয় বর্ষ  ।। অষ্টম সংখ্যা ।। মার্চ ২০২২   খুব অসহায় লাগছে এবার। আমাদের ডান পাশে ধস। বায়ে গিরিখাত। মাথায় বোমারু। পায়ে পায়ে হিমানীর ব...