বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১

গুচ্ছ কবিতা ।। সুভাষ বিশ্বাস



হন্তারক

কে আমায় পাহারা দাও রোজ
কে জানালা বন্ধ করতে শেখাও

নদীর ওপারে কার বসবাস!
কে ওইপার থেকে দিনরাত বাঁশি বাজায়
আমাকে শীতলপাটি বিছিয়ে দেয়
রোদ্দুর মেখে ঘুমিয়ে থাকতে বলে!

ওপার থেকে কারো চিৎকার ভেসে আসে
গুটিগুটি ছোট্ট ছোট্ট পায়ে নক্ষত্রের
               গভীরে তাকে নেমে যেতে দেখি

আমি ভয় পেয়ে চোখ খুললেই
ডিম ভেঙে বেরিয়ে আসে লক্ষকোটি
                            বছরের আদি রাক্ষস


আগুন

ক্রমে ঘুম নেমে আসে সাদা চোখে
বলেঃআজকের মতো শেষ হলো তোমার
                                           খেলার ঘর

ওদিকে রাত বাড়তেই থাকে,বাড়তেই
                                                      থাকে
অদ্ভুত তুলোর ঘর,তুলো ওড়ে,ঘরও ওরে

অসময়ে যখন-তখন কিছু চাইলেই কী
                                             পাওয়া যায়

সবরকম অভ্যাস আছে,অভ্যাসের ক্ষিদে
                                                    আছে
তাহলে বাতাসের চোখ কীভাবে দেখা
                                                      যাবে!

বাতাসের চোখে বুঝি তামাম রাত্রির
                                কাজল লেগে আছে
রাতেরও তো দৃষ্টি আছে,লেপমুড়ি দিয়ে
                                               শুয়ে পড়ি
স্বপ্নে নিশ্চিত বাতাসের চোখ খুঁজে পাব
ভেবে দরজা বন্ধ করি।ভোর এসে স্বপ্নে
                                  আগুন জ্বেলে দেয়                                             



ঘুণ

গলে গলে পড়ে রাত বায়ুভুক প্রতিটি
                                                প্রহরে

তীর্যক তীর এসে ছুটে যায় এক,দুই,
                                                   তিন...
লক্ষহীন রোদ ও বৃষ্টির ভেতর কারা যেন
পাথরের চাঁই কেটে কেটে,কাঠপোকাদের
                                                      মতো
ঘুণ রেখে যায় প্রতিদিন


খোলস

এইমাত্র রাত্রি শেষ করল তার গতিপথ
নক্ষত্রেরা ঘুমিয়ে পড়েছে,অস্তিত্বের অস্তি
                                                         নেই
এত অন্ধকার কোত্থেকে আসে
নিজেকে জাহির করে সম্রাটের মতো!

তবে কী অদেখার আলো থাকে আঁধারের
                                                         ঘরে
নিত্যমুক্ত সত্য-সন্ধানী হয়ে সর্বব্যাপি
                                         ছড়িয়ে রয়েছে
তাতেই কী সে মিলিয়ে গেল এইমাত্র

মাঝখানে পড়ে রইল শুধু একটা খোলস



পরিত্রাণ

যখন সকল কাজে যতিচিহ্ণ বসে যায়
অকারণে সূর্য ওঠার দিকে চেয়ে থাকা
                                                      ছাড়া
অন্যকোনো পরিত্রাণ জীর্ণ পাতার মতো



সোহহং

ওই যে ফুলে ফুলে ঢাকা বসন্ত শুয়ে
                                                    আছে
একটু পরে দাউ দাউ নক্ষত্র,জ্বলে উঠবে
হাঁটা শুরু হবে ফের কতো কল্প শেষ করে
ফিরে আসবে আবার এই বসন্তের ফুলের
                                                      ভেতর
                        
গঙ্গার ঘাটে কারা নেমে যাচ্ছে
এইমাত্র কার পিণ্ডদান শেষ হলো
হাত পেতে ধরে নিচ্ছে দাউ দাউ অগ্নিশ্বর
পিণ্ডদানে খুশি হয়ে নাহম নাহম,তুঁহু তুঁহু
                                                         বলে



সত্য

সূর্য নেই,শুধু অন্ধকারের ফোঁকর সিঁধিয়ে
আমার তামাম জগৎ শুয়ে একপাশে
জল-স্থল,অন্তর-বাহির কিছুই স্পষ্ট নয়
বলছে- সত্যের স্বরূপ তোমরা দেখতে
                                                    চাও?

আমি ভয়ে দুচোখ বুজে ফেললাম
চারপাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেল
ঘনঘোর মেঘের বুক ফেঁড়ে সত্য কী দেখা
                                          দেখা দেবে!

আমি চোখ বুজেই আছি,বুজেই আছি
শেষে বড়ো পিসেমশাই বললেন- তুই চোখ বুজে আছিস বলে সত্য প্রকাশ পেতে দ্বিধা বোধ করছে,পাছে তুই সহ্য করতে পারবি না ভেবে সে বেচারাও লজ্জায় মুখ লুকিয়েছে।

ছবি: বিধান দেব 

পরিচিতি:  জন্মস্থান-দিগনগর(গ্রাম),নদীয়া জেলা।বর্তমান ঠিকানা-এ-১১/৪৮৩ কল্যাণী,নদীয়া
প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থঃ
শূন্য থেকে নক্ষত্র অবধি(১৯৯৭), একটিই বাস্তব অন্যগুলি সম্ভাবনাময়(২০০৩),জঙ্গল ও অমৃতের উপপাদ্য(২০০৪), মায়াবন্দর( ১৪১৬ বঙ্গাব্দ),পোড়ামাটির কাঁচুলি(১৪১৮ বঙ্গাব্দ), আসন্ন কলকাতা বইমেলায়(২০২২) প্রকাশিতব্য- অবিদ্যার ভাষা

সম্পাদিত পত্রিকাঃপ্রহর
 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন