৪
আত্মতত্ত্ব (contd.)
আনখপ্রবিষ্ট তিনি সমস্ত শরীরে
খাপে ভরা ছুরি যেন— আত্মা, ধীরে ধীরে
বিভিন্ন কর্মের ভেদে পৃথক-পৃথক।
তিনিই ইন্দ্রিয়— চোখ, বাক্, কান, ত্বক।
দেখা, শোনা, কথা বলা ছাড়াও যখন
মানুষ মনন করে, তিনি হন মন।
প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস নিয়ে যে-প্রাণী জীবিত,
তারই দেহে তিনি প্রাণ নামে পরিচিত।
আলাদা-আলাদাভাবে অদৃশ্য অন্তরে
হারানো পশুর পদচিহ্নের অক্ষরে
তিনিই থাকেন, তাঁর প্রকৃত সন্ধান
পেতে হলে একীভূত রূপে তাঁর ধ্যান
করা চাই,— এই তত্ত্বে কীর্তি-যশোলাভ
করে সত্য-উপাসক, থাকে না সন্তাপ।
'আমি মনু, আমি সূর্য'— জগৎ-সংসারী—
সর্বময় ব্রহ্ম তিনি, স্বরূপ আমারই—
আমিই উপাস্য ব্রহ্ম, আমি উপাসক
জগৎ সৃষ্টির আগে ছিলাম একক।
তাহলে আত্মাই সব? মানুষ, দেবতা—
সকলেরই জন্য ধর্ম পূর্ণাঙ্গ সভ্যতা।
ইন্দ্র, সোম, রুদ্র, যম, পর্জন্য, বরুণ,
মৃত্যু ও ঈশান— এরা ক্ষত্রিয় তরুণ।
এরা সর্বশ্রেষ্ঠ, যজ্ঞে এদের নীচেই
বসে ব্রাহ্মণেরা, আর যজ্ঞাগ্নি নিজেই
দেবতাদলের মধ্যে ব্রাহ্মণ আখ্যাত।
ব্রাহ্মণই উৎপত্তিস্থল সমস্ত জাতির
বংশ-বিস্তারের জন্য ঋষির খাতির
ছিল বহুযুগ আগে, 'গোত্র' থেকে তার
কিছুটা আন্দাজ মেলে, পুরাণকথায়
বাকি গল্প পাওয়া যাবে।— রাজমহিষীর
গর্ভসঞ্চারের জন্য পবিত্র ঋষির
দ্বারস্থ হতেন বহু নপুংসক রাজা।
তাছাড়া, গোপন কেচ্ছা হাজার-হাজার
বহুকাল ধরে চালু ছিল পৃথিবীতে।
সেহেতু ব্রাহ্মণদের শ্রদ্ধা করা রীতি।
প্রকৃত ব্রাহ্মণ হতে লাগে ব্রহ্ম-মিতি।
ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয় গড়ে ব্রহ্ম বুঝলেন
বাকি রইল কর্মবিশ্বে আরও লেনদেন।
তাই তিনি বৈশ্য সৃষ্টি করলেন নিখুঁত—
বসু, রুদ্র, বিশ্বদেব, আদিত্য, মরুৎ।
তবুও সমস্ত ব্যক্ত হল না, তখন
শৌদ্রবর্ণ সৃষ্টি হল, করবে যে পোষণ।
'পূষা' অর্থে পৃথিবীকে বোঝায় আসলে।
অবশেষে কর্মনীতি নির্ধারিত হলে
ভারসাম্য ঠিক রাখা প্রয়োজন বলে
'ধর্ম' নামে ডিসিপ্লিন গঠন করলেন।
শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ, পীত প্রত্যেকের ব্রেন
আকারে সমান। এই গোটা পৃথিবীর
সমস্ত মানুষে তাঁর অস্তিত্ব নিবিড়।
ঘোর পাপ: বর্ণহিংসা, অ্যাপারথাইড।
সম্প্রীতিই শ্রেষ্ঠ ধর্ম, জগতের ভিত।
(ক্রমশ)
ছবি : বিধান দেব
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন