সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১

গুচ্ছ কবিতা ।। সৌগত প্রধান



জীবন 


ছুঁতে  পারার  আনন্দ আর 

ছুঁতে না পারার আনন্দে যে  ফাঁক থাকে , 

তাকে  স্বীকার করলেই হোম জ্বলে মনের ঘরে । 


একটু তুমি একটু আমির ভিতর 

রাতের পর রাত সাজিয়ে গড়া যে জীবন 

তাকে পুড়িয়ে নির্মাণ হচ্ছি রোজ । 


এ যেন  সেই অস্থিরতা --

যার  ওপারে জমে থাকে নির্জন মেঘ  

আর বেদী সাজিয়ে মুখোমুখি অপেক্ষায় 

                  আমার জীবন .....


 শত্রু



মাথার উপর গোলচাঁদ, পেঁজাতুলোর মতো আলোয়

ভেসে যাচ্ছে সারা ছাদ, পাখির মতো মেঘের ডানায় ভর করে

চাঁদের আলো এসে পড়ছে আমার বিছানায়।


আমি ক্রমশ হালকা হয়ে হাঁটতে থাকি...


একজন, শব্দহীন, হাঁটতে থাকে আমার পাশে,

কিছুদূরে আরও একজন...

পৌঁছে যাই নীল পাহাড়ের ধারে

উঠতে যেতেই পিছলে যাই, বারবার 

ওরা দু'জনে খুব সহজেই উঠে যায় শিখরে।


হঠাৎ আরও একজন, ঠিক আমারই মতো

আমার হাত ধরে, আস্তে আস্তে পৌঁছে যাই চুড়ায়। 

দেখি আগের দুজন বসে আছে মেঘের বাড়িতে,  দূর পাহাড়ে...


পরের জনকে কোথাও খুঁজে পাইনা 

ভয় হয়, ফিরে আসার ভয়...


ঠিক তখনই এসে দাঁড়ায় আমার সামনে, 

সারা শরীর থেকে জোৎস্নাপোশাক সরিয়ে 

হয়ে উঠছে চেনা, আবার হাতটি ধরে, 

ভুল পথ থেকে চিনিয়ে দেয় বাড়ির রাস্তা। 


যে আমার নিত্যদিনের ছায়াশত্রু...



 জন্মঋণ


সকাল থেকেই ছোট্ট ছোট্ট খুনসুটি আর

মাঝবয়সী জানালায় লুকোচুরি 

                       এ নিয়েই তো উপোসী জীবন।


এই জীবন মানে পাখিডাকা ভোর নয়

জীবন মানে পরিযায়ী নিমন্ত্রণ 

                  এসব দেখে নিজেকে কপিলাবস্তু মনে হয়। 


যার বামহাতে ধরা থাকে জন্মঋণ

আর দু'চোখে নগ্ন যতিচিহ্ন এঁকে নিয়ে 

                      সোজা হেঁটে যায় বিষুবরেখায়।


শুধু বৃদ্ধাশ্রমগুলি ঝুলে থাকে পলাশীবারান্দায় . . . 



বিজ্ঞাপন 


সকাল হতেই চারপাশে ভরে যায় জল

নামতে না নামতেই আবার চারপাশ

এত জল চোখেই দেখেনি এক জীবনে 

       নিয়ে কি করবে সংসারটায়...


আদিগন্ত জলের মাঝে জেগে থাকা চালাঘর

"যে জল জীবন বাঁচায়"

তার চিন্তাতেই আস্তে আস্তে হয়ে উঠলো

কালাহান্ডি ক্যানভাসের বিজ্ঞাপন...


ছবি : বিধান দেব 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন