বৃষ্টিকথা
আগুন মুখে করে উঠে আসছি
আর মনে পড়ছে জলপরীদের কথা
এবার থেকে কাদের নিশ্বাস লেগে
অস্পষ্ট হবে জানালার কাঁচ?
ভাত বেড়ে রোদ আড়াল করতে
কেই বা মেলে দেবে সমস্ত প্রশ্রয়?
নীচে পাতা পড়ে স্তুপ,
তার ওপর ঝ'রে পড়া জলে শুঁড় বুলিয়ে
দেখে নিচ্ছে পিঁপড়ের দল,
ক্রমাগত চুরি হ'তে গিয়ে
জলপরীদের হাতে ক্রমশই ছোট হয়ে যাচ্ছি।
এক একটা সময় আসে, যখন জানালার পাশে বসে থাকা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না।পোকামাকড়দের সাথে বন্ধুত্ব করতে গেলে জিভ আটকে যায়, হাত ধুতে গেলেনখ বেয়ে নেমে আসে তাচ্ছিল্যের কালো
যে অন্ধকার একদিন আমাদের সঙ্গী ছিলো আজ বড়ো বড়ো পা ফেলে সে একাই এগিয়ে চলেছে, ভীরু পাতারা এক এক করে গাছের নীচ থেকে তুলে নিচ্ছে ডিভিডেন্ড, আমরা অসহায়।
মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জলপরীদের কথা একবার জেনে নিতে চাই
মাথার ভেতর জড়িয়ে ধরেছে যে মুদ্রাদোষ,এইমাত্র সে আকাশ পেরিয়ে শুতে যাবে।
কুয়াশা
টুকরোগুলো কুড়িয়ে আনি আর সময় পেলেই জুড়তে বসে যাই।
অদ্ভুত জলে ছায়া ভাসে,
ভাঙাচোরা ছায়া।
টুকরোগুলো এক একটি ছায়ার ভেতর পড়ে লম্বা হয়ে যায়,
আর চেনাই যায় না তাদের এতটুকু।
টুকরোগুলো লুকিয়ে রাখি দরজার পেছনে
সময় পেলেও তাদের কথা মনে পড়ে না আর
মনে পড়ে না সেইসব ফাটলের কথাও।
জুড়তে বসার প্রশ্নও ওঠেনা।
পানবরজেরওপর দিয়ে
ঝুপ করে নেমে এলো চাঁদ
মাঠের নাড়াগুলোজেগে রয়েছে তখনো
মাদা দিয়ে তিরতির করে বয়ে চলেছে জল,
খোঁচা খেয়ে চাঁদ ফুঁসে উঠেছে অভিমানে, কি দিয়ে জুড়তে বসি খ'সে পড়া কথা?
কি দিয়ে জুড়তে বসি আঁচলের ফাঁক গ'লে নেমে আসা বৃষ্টি
কিংবা ফুটো কলসি কাঁখে মেয়েটির
বুড়ো আঙুলের ফাঁক গ'লে বের হয়ে আসা কাদার প্রলেপ,
জুড়তে বসে কেবলই ভুল হয়ে যায়,
জুড়তে বসে ছায়ার মতো ঝেঁপে ধরে এক একটি ডানাকাটা অন্ধকার।
রাত ড্রপ খেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ভোরের দিকে
জুড়তে বসে এক একটি ভুল হাত ধরে ডেকে আনছে অন্যটিকে।
ফ্যালনা
সুধন্য রোজ কাঁদে, খেতে চায়
অথচ কাজ করেনা কখনো।
কেউ দশ বিশটা টাকা দিলে
সে জমা দিয়ে আসে প্রথম বউয়ের কাছে
দ্বিতীয় বউ মুখঝামটা দেয়,
দুটো ভাত দেয়না কখনো।
প্রথম বউকে দেখলে সুধন্যর গা বেয়ে
বিদ্যুৎ নামে, কিছু ওঠে না।সে ভাবে
মানুষ এতো খারাপ দেখতে হয় কিভাবে।
ঘরে আশিষদা থাকলে দ্বিতীয় বউ তাকে
ঘুরে আসতে বলে।খানিকটা পর ঘুরে এলে সুধন্যকে দেবার মতো তার আর কিছুই থাকে না।
সুধন্য জিভ দিয়ে পাতা চাটে,গাল বেয়ে
ফোঁটা ফোঁটা ঝোল গড়ায়।
এক একদিন রাতে সুধন্য জোনাকি নিয়ে খেলে
তলপেটের নিচে একটা আস্ত সূর্য দেখতে পায় সে।
সূর্যটার ঠোঁটে কুলকুচি করা আলো।
ছবি : বিধান দেব
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন