মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

গুচ্ছ কবিতা : পৌষালী চক্রবর্তী


 

বৃষ্টি জলের কাব্যি

বৃষ্টি হল সারাটিরাত ,বৃষ্টি আজ সারাটিদিন
অস্থাবর এই কলম , ভাসল ঐ বৃষ্টিতেই
দীঘির জল -তমঝ্বম ;তমঝ্বম ,তমঝ্বম
ফোঁটাকাটে জলের গায়ে জলের স্রোত
আজ পরব 
আনন্দের, কী কলরব! 
কী কলরব!
গহীন মাছ ডুবতে থাক বালি জলে
কার নূপুর
নিংড়ে নেয় বস্ত্রজল; অভিসারের দাগ গোপন
রেলবাজার,  ইস্টিশান হৃদয়পুর 
সাতটা দশ ট্রেনটি লেট , লাইনে জল
লোডশেডিং
বৃষ্টি জল , মেঘের ঘর -লিখতে আজ 
কী অপারগ
বং লিপির স্থাবর ধাঁচ!



 রক্তকরবী


ইচ্ছে আঙ্গিন জুড়ে আমাদের ভীরু দৃকপাত 
মেঘ নামে , মেঘ নামে কাছে দূরে
সিন্ধু লিপির মত আনকোরা মেঘ
এখানে কুঠার লিখি, দু অন্তে হাটখোলা ইচ্ছে বিরাট...
নন্দিন্ নন্দিন্ প্রতিধ্বনি ঘুরে ফিরে স্থাবরের গায়ে
সময় গারদ ঘিরে পাগল বিশুটি হেঁটে যায়
প্রাচীন অ্যাসাইলামে দিনান্তে রাজা তবু একবার আসে

যার চোখে মধুবিন্দু , জেনো তার আলগা কবাট....


 ব্রজবুলি আলো


প্রথম শ্রাবণ দিন
ব্রজবুলি আখরেরা তিরপিত ভেল 
দেহের ঝরোখা খুলে পিয়ামুখ চুমেছিল 
অলখ তীরটি; চ্যুত হয় গাণ্ডীব 
লিখে লিখে রতিনাম পালকে উড়ায়

সে তবু প্রাচীন সিদ্ধাই,  গুঞ্জর মালী
শবরী বালিকা বসে
অঝোর জুলাই মাসে
ব্রজভাখা পারিজাত; টিমটিমে আলো...




পিরামিড


এইখানে মিশরীয় সুন্দরীদের শব আর্দ্রতা বিহীন শুয়ে আছে
পিরামিড চত্বরে।বালুরাশি  উড়ে চলে মথিয়া দীর্ঘশ্বাসে
হ্ববার হাড়ের মত সকরুণ শীর্ণকায়া বাঁশি -খেজুরবনের কাছে নীলাভ লৌহশলা কতকাল তাকে বিঁধে আছে

লেখা ছিল প্যাপিরাস স্ক্রোলে
কুরুক্ষেত্র ছেড়ে উড়ে এসেছিল কিছু খঞ্জ হাঁসপাখি, ইচ্ছামৃত্যু বর নিয়ে
আজ শুধু অক্ষরের জটলা, জ্ঞানের দীপ্তি থেকে যোজন পথ দূরে
ধ্রুবতারা অস্তায়মান 
বালুস্তরে ছায়া ফেলা দীর্ঘ যষ্ঠি সূর্যের প্রহর মাপে

বিবাহের আয়োজন আমাদের আদিপিতামাতার জলপাইবনে 
নহবত বেজে যায় নোহ্ র জলযানে
উপহার নিয়ে আসি বাঁশের কৌটো মোড়া শ্বেতচন্দন
লম্বাটে মুখের মধ্যে ফোঁটা তার জেরুজালেম গামী
গ্রীস পাত্র ভরে ওঠে প্রত্ন হেমলকে
জর্ডন নদীর জলে বাপ্তিস্ম নিলেন অমৃতের পুত্র
সুশীতল জলস্পর্শ ;পুড়ে যাচ্ছে নশ্বরতা , দৈবজ্ঞান

প্রপিতামহীর থেকে বর্তায় গৃহস্থালী জ্ঞান
মানুষকে কাছে টেনে ক্ষতিবৃদ্ধি ততদূর নয়
মানুষকে দূরে ঠেলে ক্ষতিবৃদ্ধি নয় ততদূর

একাকী আয়নার মত নির্নিমেষ পিরামিড শ্রেণী...


 কলহান্তরিতা হই


কলহপ্রবণ হয়ে, ভালোবাসতে শিখি তবে স্তব্ধতার ভাষা...

কলঘর উন্মুক্ত হয় শীর্ণ গলিপথে
নুড়িতে, পাথরে , শিলে চৌচির শহর
ঘনকৃষ্ণ মোষের পাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে 
দুর্ভেদ্য দেওয়াল তারা-
বঞ্চনার করাত শব্দ চাপা পড়ে যায়

চাকরী অন্বেষী যত যুবতীর ভিড়ে
মেস-দরজা ঘিরে ধরে দ্বিপ্রহরে দ্রোহময় রোদ
শিকে ছেঁড়ে কৈবর্তের, মোড়কে সাজিয়ে রাখা অপেক্ষা কাগজ

জরাজীর্ণ বাড়ি তবু চন্দ্রালোকে মোহময় হয়
ইঁটের গাঁথুনি পড়ে শিকড়ের হঠকারী ভাষা
ক্ষুধামান্দ্য রাত জুড়ে
  পাহারা-শিথিল ওই পুলিশের ঠোঁটে  ওঠে বাঁশি

কলহন্তারিত হই, চিৎপদ্ম ভেসে যায় দূরাগত স্রোতে...


ছবি : বিধান দেব 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন