বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১

গুচ্ছ কবিতা ।। দীপক হালদার


 




তন্তুস্বর 



কত কি লেখার থাকে শাখা প্রশাখায় 
শেখারও থাকে ঢের ঢের 

নীরবতায় ঘোর শব্দের  ভান্ডার কত কত 
ভাষ্য রাখে ঘন 

কত যে প্রবীণ জল ঠোঁটে ঠোঁটে প্রাণের প্রবাহ 
ইশারায় কথা বলে      ডাকে
মাকু চলে তাঁতঘর থেকে রেওয়াজি আসরে 
ভেঙে স্বরলিপি গড়ে তন্তুস্বর 
কত যে নতুন সেতু জোড় বাঁধে এপার ওপার

সমাধিস্থ নিবিড় রোদ্দুরে কত যে উন্মেষ শেকড় 
মাটিকে পাখনা জোগায় 

পাথরের চাঁই ভেঙে ভেঙে অন্ধকারও নক্ষত্র ক্রমে 
পথ বাড়ে নিয়মিত

কত কি পড়ার থাকে ডুবজলে থেকে 

কত ধ্বনি রেণু রেণু দল মেলে মেলে 
গ্রহান্তরে অনিবার্য পোনা চাষ করে



প্রশ্ন করবেন না প্লিজ 


প্রশ্ন করবেন না প্লিজ 
পা কেন থাকে মানুষের   কেন চোখ 
কেন গলা থেকে উচ্চকিত বেরিয়ে আসে
প্রতিবাদী স্বর 
কেন অক্ষর জন্মায় ওই দেশে 

জানতে চাইবেন না 
কেন ওরা সামনে এগোতে চায়
কেনই বা ওদের কোরাসে ভয় পায় কেউ কেউ 
কেন বা ওদের ভাষা অমন শানানো

প্রশ্ন করবেন না 
বরং ওদের সাথে মিশে পরখ করুন 
মিলে যান শ্বেত ও লোহিত কণিকায় 
গেয়ে উঠুন গলা ছাড়া গান 
জেনে নিন ওদের চলন 

একদম ওদের মতো
ওই পা চোখ আর গলার স্বরের মতো 
যাদের ধর্ম এক 
                     বর্ম এক 
                                সত্য এক 
যাদের লক্ষ্য আর গতি এক 

প্লিজ প্রশ্ন করবেন না



ছোঁয়া 

ছোঁয়া কি সম্পর্ক মানে 
না  উপকরণ লাগে তার 
উপঢৌকন

লাগেনা কিছুই 

বাতাসে গন্ধ হয়ে শরীরে সেঁধিয়ে সে ঢেউ 
তটে তটে বটের আকারে 
ছায়ার শেকড়ে টানে কাছে 
ভূমিতে বসায় 

প্রতীক্ষা মানেনা ছোঁয়া 
রাত জাগা গানের আসরে 
ডানা মেলা গলা মেলে দেয় 

কিছুই লাগেনা আর তার 


সকাল 


সুন্দরে পড়েছে রোদ 
যেন সরোদে শিল্পীর হাত
তুলিতে মকবুল ফিদা 
শস্যক্ষেত ঝলমল ক'রে ওঠে
চোখে প্রজাপতিকথা 
গান ধরে একতারা
কুয়াশা পেরিয়ে নির্নিমেষ পথ
পার হয় দেশকাল 

মনে হয় 
সত্যি সকাল 


নারী


নারী এক নিসর্গের নাম 
নৈবেদ্যধাবিত শ্লোক
 
গাছপালা আচ্ছাদিত 
স্বচ্ছ সরোবর  গ্রাম 

নারী 
স্নিগ্ধ মলয় বাতাস 
তিরতির পার্থিবপথে 
চিরায়ত অন্বেষণ রেখা 

কাঙ্ক্ষিত আপন 

ছবি : বিধান দেব 










 




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন