রবিবার, ২৩ মে, ২০২১

ধারাবাহিক গদ্য ।। চন্দন মিত্র


 

জন্মের আগের মুখ : জেন তত্ত্ব ও জেন গল্পের অমায়িক ভুবন     


চতুর্থ আচার্য তাও সিন : আপসহীন এক মুক্তিকামী


এরকমই হয়, যার যেমন ভাব, তার তেমন লাভ। বালক তাও-সিন (Tao-hsin) মুক্তি-ভূতের পাল্লায় পড়ে গোল্লায় যেতে বসেছিল। পারিবারিক বৌদ্ধ-আবহ ও বিবিধ শাস্ত্রপাঠের ফলে তার ভাবনাচিন্তা এলোমেলো হয়ে পড়েছিল। কীভাবে মুক্তি লাভ করা যায় সেই চিন্তায় সে, দিনরাত বিভোর হয়ে থাকত। এমন ছেলে যে বাড়িতে বেশিদিন টিকতে পারবে না, তা অনুমান করার জন্য  রাজ-জ্যোতিষী হওয়ার দরকার নেই। মুক্তির পথ যার করায়ত্ত, এমন কোনও মহামানবকে খুঁজে বের করতে হবে, এই ভাবনায় সে ঘর ছাড়ে। আর মিলেও যায় এক মহাজন। হুয়াংমেই-এর  পার্বত্য অঞ্চলে বিচরণের সময় তার সঙ্গে চতুর্থ আচার্য সেং ৎসান-এর দেখা হয়ে যায়। তখন  তাও-সিনের বয়স চোদ্দো বছর। এর আগেও সে অনেক ভিক্ষু দেখেছে, কিন্তু এমন করে কেউ তাকে টানেনি। তার মন বলছে এই মানুষের কাছে আছে মুক্তিপথের হদিশ। সে ভণিতা না-করে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে  সপ্রতিভভাবে জিজ্ঞাসা করে,

– প্রভু, দয়া করে বলে দিন কীভাবে মুক্তি পাব !

- আরে এমন করছ কেন, কে তোমাকে বেঁধে রেখেছে ?

- না, আসলে আমাকে কেউ বেঁধে রাখেনি। 

-  কেউ যদি তোমাকে বেঁধে না-রাখে তাহলে মুক্তির জন্য এমন ব্যাকুল হয়ে উঠেছ কেন ?

সত্যিই তো তাও-সিন এমনভাবে কখনও ভেবে দেখেনি। নানা মুনির নানা মত শুনে, আর অল্প  বয়সে  আজেবাজে শাস্ত্র গিলে বদহজমের ফলেই তার মাথা এমন বিগড়ে গেছিল। তবে এই লোকটাকে সে ছাড়ল না, আঁকড়ে ধরে থাকল। একদিন নয়, দুদিন নয়, টানা ন-বছর। ততদিনে সে বুঝে গেছে এ লোকটা যা-তা লোক নয়, তৃতীয় চ্যান-আচার্য সেং ৎসান। আচার্যের জীবনের লক্ষ্য, যোগ্য উত্তরসূরির হাতে গুরুপ্রদত্ত জ্ঞানবর্তিকাটি তুলে দেওয়া। সেং ৎসান, যথাসময়ে তাও-সিন-এর হাতে তুলে দিলেন পরম্পরিত চীবর ও ভিক্ষাভাণ্ড। তাও-সিন হলেন চ্যানধারার চতুর্থ আচার্য। সেং ৎসান, তাঁর গুরুদায়িত্ব তাও-সিন-এর উপর ন্যস্ত করে চললেন অন্য কোনও নিভৃত স্থানে। তাও-সিন গুরুকে অনুসরণ করতে চেয়েও গুরুর নিষেধাজ্ঞা মেনে ভিন্ন পথে পাড়ি জমালেন। 

     তাও-সিন (৫৮০-৬৫১ খ্রিস্টাব্দ) সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। তবে তাঁর জীবনের  কিছু উল্লেখযোগ্য অধ্যায়ের কথা বিভিন্ন নথিপত্র থেকে জানা যায়। Transmission of The Dharma Jewel থেকে তাওসিনের জীবনের এক আশ্চর্য অধ্যায়ের কথা আমরা জানতে পারি। ৬১৭ খ্রিস্টাব্দ, তখন সুই রাজবংশ (Sui Dynasty) শাসন ক্ষমতায়। তাও-সিন, সপার্ষদ জি (Ji)  পরগনা ভ্রমণে গেলেন। সেখানে তাঁরা এমন এক নগরে পৌঁছালেন, যে নগরটিকে একটি দস্যুদল টানা সতেরো দিন ধরে অবরোধ করে রেখেছিল। নগরবাসীদের মুখের দিকে তাকানো যায় না,  মুখে মুখে দুশ্চিন্তার কালো ছায়া। নবীন ভিক্ষুদের দেখে তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাও-সিন, তাঁদের আশ্বস্ত করেন। তাঁদের স্মৃতিধার্য করিয়ে দেন, মহাপ্রজ্ঞাপারমিতা সূত্রের শ্লোক। তাঁরা কম্পমান ঠোঁটে অপরিচিত শব্দগুলি আশ্চর্য ভঙ্গিতে উচ্চারণ করতে থাকেন। অনেকেই মস্তক মুণ্ডন করে ভিক্ষুদের মতো বেশবাস ধারণও করেন। মৃতপ্রায় নগরীতে প্রাণের জোয়ার আসে। নগরপ্রাকারের উপরে যখন দলবদ্ধভাবে সূত্রপাঠ চলে, তখন এক অভিনব দৃশ্য তৈরি হয়। দূর থেকে তা পর্যবেক্ষণ করে ডাকাতদল ভাবে, নগরের লোকেরা বোধহয় ভূতুড়ে সৈন্যের ব্যবস্থা করেছে। প্রাণ বাঁচাতে তারা অবিলম্বে নগরলুঠের পরিকল্পনা ত্যাগ করে। 

     ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে তাও-সিন সঙ্গীসাথিদের নিয়ে ফিরে আসেন সেই হুয়াংমেই পার্বত্য অঞ্চলে।   সেখানে পতোউ (Potou) উপত্যকায় বানিয়ে ফেলেন ঝেংজুই (Zhenjue) নামের একটি মঠ।  এই নামের বাংলা অর্থ, প্রকৃত আলোকপ্রাপ্ত। সার্থকনামা এই মঠ। চ্যান ইতিহাসে এটাই আদি মঠ। পূর্ববর্তী আচার্যগণ কখনও কখনও মঠের জীবন কাটিয়েছেন। তবে সেসব মঠ ছিল রাজা বা রাজন্যবর্গ নির্মিত ও মূলত তাঁদের অনুদাননির্ভর। তাও-সিন বানালেন পৃথিবীর প্রথম স্বাধীন চ্যান-মঠ। কেবল মঠ নির্মাণ নয়, সুপরিকল্পিত নিয়মনীতিও তিনি প্রণয়ন করেন। তিনি অনুদান গ্রহণের পথ বাতিল করে চাষবাসের মাধ্যমে এক স্বয়ংসম্পূর্ণ আত্মনির্ভর জীবনের দিকে তিনি  ভিক্ষুদের এগিয়ে দেন। চাষবাসের সঙ্গে সঙ্গে ফসল রক্ষার জন্য কীটপতঙ্গ বিতাড়ন ও বিনাশের ব্যবস্থা  করতেই হয়, এ তো প্রকারান্তরে হিংসাবৃত্তিকেই জাগিয়ে রাখা ! এজন্য পরম্পরিত বৌদ্ধধারায় এতদিন চাষবাস নিষিদ্ধ ছিল। তাও-সিন সেই সংস্কারের বিরুদ্ধে গিয়ে ভিক্ষুদের জন্য এক সম্মানীয় জীবনের পথ খুলে দিলেন। তাও-সিন-এর দেখানো পথ পরবর্তীকালে বহু চ্যানমঠ  আত্মস্থ করেছিল। অষ্টম শতাব্দীর শেষের দিকে জনপ্রিয় চ্যান-গুরু বাইঝাং হুয়াইহাই (Baijhang Huaihai) এবং তাঁর অনুসারীরা এই ধারাটি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। সানলুন (Sanlun) এবং তিয়ানতাই (Tiantai) ঘরানার মতো প্রতিষ্ঠিত বৌদ্ধমঠও তাও-সিন-এর দেখানো পথকে অনুসরণ করে। কেবল চাষবাসের প্রচলন  নয়, তাওসিন চ্যানধারায় বেশকিছু পরিবর্তন আনেন। তিনি বোধিধর্মের চিন্তাধারার সঙ্গে অন্যান্য বৌদ্ধধারার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে চ্যানধারাটিকে আরও গ্রহণযোগ্যতা দান করেন। বোধিসত্ত্ব ধারণার অন্তর্ভুক্তি, লঙ্কাবতার সূত্রের পাশাপাশি মহাপ্রজ্ঞাপারমিতা সূত্র ও বজ্রছেদিকা সূত্র পাঠের প্রচলন, এমনকি বুদ্ধনাম জপের মতো ছেড়ে  আসা প্রথাও তাও-সিন-এর চ্যানধারায় অবলীলায় স্থান পেয়ে যায়। তবে একথাও সত্য তাও-সিন চ্যানধারার মৌলিক আদর্শকে কখনওই ত্যাগ করেননি। তথাকথিত মহাযানীদের বুদ্ধপূজা তথা ব্যক্তি বুদ্ধদেবের উপর ভগবানত্ব আরোপকে তিনি অস্বীকার করেছিলেন। এ বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল। তিনি বলতেন, মনই বুদ্ধ, মনের বাইরে বুদ্ধের কোনও অস্তিত্বই নেই। তাওসিন-এর হাত ধরে চিনের বৌদ্ধঘরানায় চ্যানধারা তার নিজস্ব পরিসর গড়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে যায়। 

       Genealogy of The Dharma jewel থেকে তাও-সিন-এর জীবনের এক অনন্য আখ্যানের কথা জানা যায়। ৬৪৩ খ্রিস্টাব্দের কথা। সম্রাট তাই ৎসাং (Tai Tsung) দূত পাঠিয়ে তাও-সিনকে তাঁর রাজসভায় আমন্ত্রণ জানান। তাও-সিন বিনয়ের সঙ্গে দূতকে জানান, বয়সজনিত কারণে তাঁর পক্ষে রাজসভায় যাওয়া সম্ভব নয়। সম্রাটের আমন্ত্রণ নিয়ে দূত আরও দুবার তাও-সিন-এর কাছে আসেন এবং যথারীতি প্রত্যাখ্যাত হন। তাও-সিন বুঝেছিলেন এ আসলে আমন্ত্রণ নয়, আমন্ত্রণের ছলনায় আদেশ। তাই তিনি শেষবার বীতশ্রদ্ধ হয়ে দূতের হাতে একটি চিরকুট ধরিয়ে দেন। তাতে লেখা ছিল, যদি আপনি আমার শির চান দিতে পারি,  কিন্তু আপনার আদেশ শিরোধার্য করতে পারব না। সম্রাট তাই ৎসাং, এক সামান্য ভিক্ষুর এহেন উদ্ধত আচরণ দেখে  জ্বলে উঠলেন। চতুর্থবার দূত এলেন সঙ্গে কোতোয়াল। দূত তাও-সিন-এর মৃত্যু-পরোয়ানা পাঠ করে শোনালেন। তাও-সিন হাসি মুখে গর্দানখানি কোতোয়ালের সামনে পেতে বললেন – কাটো এবং নিয়ে যাও। দূত ও কোতোয়াল হতভম্ব হয়ে তাঁকে অভিবাদন জানিয়ে ফিরে গেলেন। সম্রাট তাই ৎসাং, চ্যানসাধু তাও সিন-এর এই শৌর্যের কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি দূত মারফত মহামূল্যবান রেশমবস্ত্র পাঠিয়ে তাও-সিনকে যথাবিহিত সম্মান প্রদর্শন করেন। চতুর্থ আচার্যের জীবনের এই প্রবাদপ্রতিম আখ্যান পরবর্তী জেন আচার্য ও জেনগুরুদের উপর এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করেছে। তাই আমরা দেখি জেন আচার্যদের কেউই রাজ-অনুগ্রহের কাঙাল বা রাজার রক্তচক্ষুর ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকতেন না। বরং তাঁরা হিম্মতের সঙ্গে মহামান্য সম্রাটের চোখে চোখ রেখে কথা বলেছেন, অকুতোভয়ে তাঁদের আদেশ অমান্য করেছেন। তাঁরা কখনওই ঋতপথ পরিত্যাগ করে অর্থ বা খ্যাতির মোহে শাসক বা রাজকর্মীর সামনে নতজানু হয়ে বসেননি।   জেনের এই আদর্শ আক্ষরিক অর্থেই অলোকসামান্য। আমরা চেনা পারিপার্শ্বিকতায় যখন তথাকথিত বিজ্ঞজনেদের ফেরেববাজ নেতামন্ত্রিদের সামনে নীলডাউন হয়ে অর্থ, পদ বা খেতাব আহরণ করতে দেখি, তখন বুঝতে পারি পর্বতপ্রমাণ জেনসাধুদের কাছে এঁরা নেহাতই মূষিক-শাবক ! জ্ঞানচর্চার বড়াই এঁদের বাগাড়ম্বর ছাড়া অন্য কিছু নয়। জেনসাধুরা তাঁদের জীবনচর্যার  মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন, যে জ্ঞানচর্চা আত্মজাগরণকে অস্বীকার করে তা নিছকই পুথিসর্বস্ব,   জীবনবিমুখ এক কৌশল ; যা আসলে নাম-কাম হাতানোর পরিশীলিত হাতিয়ারমাত্র।          

       একদিন তাও-সিন হুয়াংমেই-এর পথে পদচারণা করছিলেন। হঠাৎ তাঁর সঙ্গে এক অসাধারণ দেহসৌষ্ঠবের অধিকারী বালকের দেখা হয়ে গেল। তারপর শুরু হল অসামান্য কথোপকথন। 

– বালক, তোমার নাম কী ?

- আমার একটা নাম আছে, তবে তা স্থায়ী নয়।

- নামটি শুনি ।

- বুদ্ধ ।

- সত্যিই কি তোমার অন্য কোনও নাম নেই।

- নাম তো শূন্য, ও নিয়ে আমি মোটেও মাথা ঘামাই না।  

তাও-সিন-এর নিজের বাল্যাকালের কথা মনে পড়ে গেল। এর মাথায়ও ভূত চেপেছে। আর তা তাড়ানোর দায়িত্ব তাঁকেই নিতে হবে। তিনি যে আধারের খোঁজে এতদিন হন্যে হয়ে ঘুরেছেন আজ সেই আধার তাঁর এতটা নিকটে ! তিনি বালকটির সাকিন ইত্যাদির হদিশ নিয়ে হাসি মুখে মঠে ফিরলেন। 

         ৬৫১ খ্রিস্টাব্দ, তাও-সিন তখন বাহাত্তর। নবম চান্দ্রমাসের চতুর্থ দিন। তাও-সিন মঠের সবাইকে ডেকে বসালেন। অত্যন্ত শান্ত স্বরে তিনি বলতে শুরু করলেন –  অগণিত আচারসর্বস্ব ধর্মকে পৃথিবী থেকে দূর করে দেওয়া উচিত। প্রত্যেকে এই জ্ঞানটুকু ধরে রাখবে এবং ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে দেবে । এইটুকুই তাঁর বলার ছিল। উপস্থিত সবাই দেখলেন উপবিষ্ট অবস্থাতেই তিনি মহাপ্রস্থানের পথে এগিয়ে চললেন। যেখানে বসে তিনি বক্তব্য রাখতেন, তার কাছাকাছি  তাঁকে সমাহিত করার স্তূপ প্রস্তুত ছিল। তাঁর নির্দেশ অনুসারে কোনও আড়ম্বর ছাড়াই তাঁকে সমাহিত করা হয়। দিন চারেক পরে আকস্মিকভাবে স্তূপের দরজা খুলে যায়। মুক্তিই যাঁর আবাল্যের সাধনা তাঁকে কী বদ্ধ স্তূপের ভিতরে আবদ্ধ রাখা যায় !    

-   তথ্যসূত্র : 

১. DENKOROKU; THE RECORD OF THE TRANSMISSION OF THE LIGHT BY KEIZAN JOKIN ; TRANSLATED BY HUBART NEARMAN, OBC SHOSTA ABBEY PRESS , CALIFORNIA .

২. HISTORY OF ZEN BY YU-HISIU KU; SPRINGER, SINGAPORE.

৩. THE ILLUSTRATED ENCYCLOPEDIA OF ZEN BUDDHISM BY  HELEN J. BARANI,  THE ROSEN PUBLICATION GROUP , NEW YORK

৪. THE A TO Z OF BUDDHISM BY CARL OLSON, THE SCARECROW PRESS , UK.

৫. ZEN MASTERS OF CHINA : THE FIRST STEP EASTBY RECHARD BRYAN MC DANIEL;  TUTTLE PUBLICATION, TOKYO/ VERMONT/ SINGAPORE.

৬। AN INTRODUCTION TO ZEN BUDDHISM BY D.T. SUZUKI, GROVE PRESS, NEW YORK.

৭। CHINES BUDDHISM BY REV. JOSEPH EDKINS AND KEGAN PAUL, TRENCH TRUBNERS CO.LTD, LONDON,        -      

৮।  A POPULAR DICTIONARY OF BUDDHISM BY CHRISTMAS HUMPHREYS, THE BUDDHIST SOCIETY, LONDON, 1997.           

৯। ZEN AND THE ZEN CLLASICS BY R. H. BLYTH , HEIAN INTERNATIONAL , SAN FRANCISCO 1982.

১০। ZEN CHINESE HERITAGE BY ANDY FERGUSON, WISDOM PUBLICATION, BOSTON 2000. 

১১। THE STORY OF CHINESE ZEN BY NAN HUAI CHIN TRANSLATED BY THOMAS CLEARY, CHARLES E. TUTTLE COMPANY,  TOKYO 1995.

১২। MANUAL OF ZEN BUDDHISM BY DAISETZ TEITARO SUZUKI 1935.     


ছবি : বিধান দেব 


    

  

         



 


    


1 টি মন্তব্য: