রবিবার, ২৩ মে, ২০২১

কবিতা : অনিমেষ মণ্ডল


 

  সম্পর্ক 

চারিদিকে এত অন্ধকার 
      যে আমি নিজেকেও দেখতে পাচ্ছি না 
নির্মেদ অন্ধকারের ভিতর হারিয়ে যেতে যেতে 
আমি খুব দ্রুত পা চালিয়ে যাচ্ছি সম্মুখের দিকে 
হঠাৎই দুটো আলিঙ্গনরত গাছের ফাঁক দিয়ে 
প্রেমিকার চোখের মতো একচিলতে চাঁদকে দেখা গেল
সহসা আমার ভিতর জেগে উঠল এক চিরহরিৎ গাছ 
তার সমস্ত ডালপালা নিয়ে 
সে আমাকে তুমুল জড়িয়ে ধরল

পিছনে ফিরে দেখলাম 
একটা পাগলি উন্মাদের মতো আমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে 
না,সে আমার মা না,প্রেমিকাও না
তাহলে এই অন্ধকারের সাথে আমার সম্পর্ক কীসের!


পরিচয় 


আমার পরাজয়গুলো পতাকার মতো উড্ডীন 
আমার দুঃখগুলো বাতাসে ভাসমান 
আমার জন্ম একটা গানের তরী
আর রাত্রিগুলো নিবিড় কুয়াশা 
আকাশ সমাধিস্থলের মতো আশ্রয় 
সমস্ত নক্ষত্র বিরহের বিন্দু হয়ে জেগে 
মায়ের চুল শুষে নিচ্ছে তারাদের সব আলো 
আমি তার গর্ভের ভিতর শুয়ে 
লিখে রাখছি আমাদের জাগতিক পরিচয়...


জ্বলো, আত্মদীপ 



যেদিন রাজপুত্র অজাতশত্রু তাঁর পিতা বিম্বিসারকে কারারুদ্ধ করলেন সেদিন মগধ নগরে ছিল নিশ্ছিদ্র অন্ধকার।কোনো ঘরে কোনো দীপালোক জ্বলেনি।এক অজানা ভয়ে সমস্ত নগর সেদিন নিস্তব্ধ হয়ে ছিল। সমস্ত নীরবতাকে খানখান করে শুধু বাতাসে ভেসে আসছিল অজাতশত্রুর পৈশাচিক উল্লাস।এই উল্লাস অনৈতিক জয়ের, দাম্ভিক অহংকারের।কোথাও কোনো করুণার লেশমাত্র নেই।

মহারাজের হত্যার বেশ কিছুদিন পর রাজা অজাতশত্রু রাজবৈদ্য জীবক সাহচর্যে চলেছেন এক গভীর আম্রকাননের ভিতর দিয়ে।সহসা দেখলেন অদূরে সহস্রাধিক শ্রমণ উপবিষ্ট।অথচ কী নিস্তব্ধ এই প্রান্তর! কোথাও সূচ পতনের শব্দটুকু পর্যন্ত হচ্ছে না।অতঃপর রাজবৈদ্য রাজাকে নির্দেশ করলেন সহস্র ভিক্ষুর মাঝে উপবিষ্ট জ্যোতির্বলয় শোভিত ঐ মানুষটিই স্বয়ং করুণাঘন বুদ্ধ।আহঃ কী অপার শান্তি তাঁর উজ্জ্বল মুখমণ্ডলে! এই প্রশান্ত সন্ন্যাসীই কি তাহলে হেলায় রাজৈশ্বর্য ত্যাগ করে চলে এসেছিলেন মানুষের দুঃখের স্বরূপ অন্বেষনে!শান্তির এই নীরব নদীর তীরে বসে সহসা এক পরাক্রমী রাজার বুকের ভিতরটা হু হু করে কেঁদে উঠলো ।


ছবি : বিধান দেব 
    

৪টি মন্তব্য:

  1. গদ্য কবিতার প্রতি আমার দুর্বলতা সুবিদিত। ওই বিশেষ লেখাটি এবং অন্য দুটি চমৎকার লাগল।

    উত্তরমুছুন
  2. এই ভালোলাগাটুকু আমার কাছে অনেক পাওয়া বন্ধু।ভালো থেকো।

    উত্তরমুছুন