বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১

কবিতা : সুরজিৎ প্রামাণিক


 দীর্ঘশ্বাস


যে পাথর জলের অতল থেকে মাটিতে দীর্ঘশ্বাস রাখতে চায়

আদিম শ্যাওলারা তার বুকে গিট বেঁধে রাখে

ছন্দপতনের ইশারা হাতে নিয়েও ডানা মেলছে পরীরা


সূর্যাস্ত হল, রাত্রিও গভীর, আমি নক্ষত্রের নদীতে

ডুব দেওয়ার আগেই অনিবার্য রাত্রির কাছে তুমি মোহগ্রস্ত কর আমাকে...


আমি স্বপ্নের নদীতে ভাসি আর কল্পনার আকাশ রামধনু এঁকে দেয়

কারণ নক্ষত্র হাতের মুঠোয় নিয়ে বিষ পান করা কঠিন

বিষধর সাপ যেদিকে ফনা তোলে, তার উল্টো দিকেই

আমার গোপন অভিপ্রায় গুলো রাখা আছে...


দীর্ঘকাল তোমাকে নিয়ে সবুজ পাতার মতো প্রেমিক হতে চাই


শূন্য ১


কাদা ঘাঁটি অশৌচ হয়ে যায় স্ত্রী পরিবার 

ফনিমনসায় গেঁথেছি ধর্ম গ্রামীণ লোকাচার ছাড়িয়ে তুমি

নদীর মতো একটা জীবন চেয়েছ

আমাদের অস্তিত্বের সাঁকো ভেঙে গেলে ব্যাধির পরিখা প্রস্তুত

তখনও পাখিরা আসে পদাবলীর সুর ঠোঁটে নিয়ে


আমি বৈষ্ণব নই তোমাকেও বৈষ্ণবী হতে বলিনি কখনও

জলরং আঁকা দেওয়ালে রাজনীতি সহযোদ্ধার মুখ আরও বেশি টাটকা হয়

বহুগামী হতে দেরি নেই যাদের তারা গিরগিটি হতে বলে নির্ঘাৎ

স্মৃতির মাদুরে তখন আমরা বসে কাঠঠোকরার মতো মুখোমুখি কথা বলি

আমাদের অবাধ্য প্রেমের ভাষা আয়ত্ত করে দু' একটা দুরন্ত ইঁদুর

আর অনায়াসে তুমিও পেরিয়ে যাও ব্যস্ত নদীটি বৈধ পুর্নিমার গানে, অবগাহনে


এবার ধারণের মন্ত্রে বুঁদ হতে হবে আমাদের 

আমাদের পৌঁছাতে হবে সম্বোধনহীন ভালোবাসায় শৈশবে

নদীতো উদ্দেশ্যবিহীন সংক্রমিত

তুমিটিও সৃষ্টির নিরুপম শূণ্যতায় স্পর্ধাহীন


 শূন্য ২


তুমি আলতায় দু'পা চুবিয়ে নিলে, আমি বেশ মনোযোগী হয়ে উঠি

বিচ্ছিন্ন ছায়াযুদ্ধে গভীর হয়ে থাকে শব্দের অভিধান


আমি আর ঈশ্বরকে ডাকিনা নক্ষত্র সামলে নিয়ে দেখেছি

দু'চোখে ভিক্ষার আলো বড়ো ভয়ঙ্কর

তুমি তো জানো সর্বনাশের ধর্ম হয় না কখনও

দুঃখের কান্না আমাদের পাঁজর জুরে আছে


গান স্পষ্টত থেমে যায় একদিন অনন্ত ভাঙনের অভিমুখে

দূরত্বের কাছাকাছি অংশত আলো আত্মায় প্রাণ এনে দেয়

সরল প্রস্থানে কাটছে না সময় প্রকৃতির আত্মমগ্ন ইশারায়

আমরা নির্বিরোধ

কারণ অদৃশ্য হওয়া তো সহজ কথা নয়


পথ


অকারণে তুমি যখন দুঃখ দাও আমার মুদ্রাদোষে আমি হেসে ফেলি

তখন অসময়ে বৃষ্টি নামে নিঃশব্দ পথের উপর

বন্ধুরা সবাই এগিয়ে যায় কেবল পড়ে থাকি আমি আর একটি ক্লান্ত ব্যাঙ


মেঘমেদুরতায় পিছিয়ে পড়েছি অনেক এখন তুমি বলো নির্ঘাৎ বিষাদ সাজিয়ে রাখলেই কি ভালোবাসা যায়!

চাকা তো সচল, প্রেক্ষিত শাস্ত্রসম্মত, তবু দহনগাথা আমাকে পুড়িয়ে কঠিন পাথরের মতো করেছে আমারই বিষন্ন জন্মদিনে


শুধু শ্রদ্ধাটুকু রেখে আমার বাকি সব নিয়ে নিতে পারো

থমথমে আকাশে ধূসর স্বরলিপি ভাসছে

আর নির্মম বিষন্নতা কাটিয়ে দিচ্ছে আমার ধ্রুব মৃত্যু


ছবি : বিধান দেব 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন