সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০

গুচ্ছ কবিতা ।। জিৎ পাল

 



কুমড়ো ফুলের আলো 

                      
                           
     


১৯
গ্রামের মানুষ সব পোশাক আশাক নিয়ে অতটা ভাবে না 
প্রসাধন না থাকারই মতো 
শুধু কোনো উৎসবের দিন 
আলমারি খোলে টিনের তোরঙ্গ খোলে 
ন্যাপথলিন মাখামাখি আগের নতুন জামা শাড়ি বের হয় 
যেন এই উৎসবের জন্যই শাড়িটি 
এতদিন অপেক্ষায় ছিল অন্ধকারে 

অথচ শহরে এসে দেখি 
এত এত প্রসাধন চকচকে শাড়ি আর জামার বাহারে 
সমস্ত মানুষ ঢাকা থাকে 

কখনো কখনো সেই অন্ধকার তোরঙ্গের অচিন মানুষ 
হিরকদ্যুতির মতো কিছুটা সম্মুখে এসে 
পুনরায় চলে যায় প্রিয় আবরণে 

বাতাসে তখনো কিছু ন্যাপথলিন গন্ধ ভেসে থাকে

২০
গাছের মালিক তুমি তবে 
ঝড়ে আম পড়ে গেলে সেখানে তোমার কোনো অধিকার নেই
কতগুলি বালক বালিকা শুধু ঝড়ের মতন
ছোটাছুটি ক'রে 
কুড়োবে সদলবলে 
সমস্ত মাটিতে পড়া ফেঁটে যাওয়া আম 

কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ফিরে 
আমগুলি কাটা হবে ঝিরিঝিরি ক'রে
মায়ের বকুনি আর নুন লঙ্কা কিছুটা কাসুন্দি দিয়ে মেখে 
বারবার টেস্ট হবে সবকিছু ঠিকঠাক কিনা 
সবচেয়ে ছোটজন ছুটে যাবে কাগজি লেবুর 
কচিপাতা ছিঁড়ে নিতে 
কে কতটা ঝোল নেবে তাই নিয়ে এক আধটু গন্ডগোল হবে 

এখন বাজার থেকে আম কিনে বাড়িতে মাখালে 
মনে হয় কিছু যেন কম পড়ে গেছে 

হাতের কাছেও কেউ নেই 
যে হঠাৎ ছুটে গিয়ে ছেলেবেলা থেকে সেই 
কাগজি লেবুর পাতা ছিঁড়ে এনে দেবে

২১
গ্রামের মানুষ সব হাওয়া বুঝে যেদিকে বাতাস 
শিথিল ঘাসের মতো সেদিকেই ঝুঁকে পড়ে ক্রমে
দু'এক গোঁয়ার থাকে হাওয়ার বিরোধী কথা বলে
হাত ভাঙে মাথা ভাঙে কখনোবা মিছিমিছি কেসে থাকে জেলের ভেতরে 
তবুও গোঁয়ারপনা যাবে না তাদের 

গ্রামের সমস্ত লোক চুরি দেখে রাহাজানি
ক্ষমতার আস্ফালন সব দেখে, দেখেও দেখে না 
সকলে নিশ্চুপ হয়ে নতুন বাতাস খোঁজে 
যদি মেলে যদি মেলে আবার সেদিকে ঝুঁকে যায় 

গ্রামীণ বাতাস আর ততটা বিশুদ্ধ নেই আজ


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন